Main Menu

নীলফামারীতে স্বামীর নির্যাতনে স্ত্রীর বিষপানে মৃত্যু

মোঃ রিমন চৌধুরী, নীলফামারী জেলা প্রতিনিধিঃ স্বামীর নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে বিষ পান করে আতহত্যা করেছে রুমি বেগম (২২) নামে এক গৃহবধু । ঘটনাটি ঘটেছে গতকাল মঙ্গলবার গভীর রাতে নীলফামারীর কিশোরীগঞ্জ উপজেলার নিতাই ইউনিয়নের মুশরুত পানিয়াল পুকুর চেয়ারম্যানপাড়া গ্রামে। এ ঘটনার পর রুমির স্বামী পালিয়ে গেছে।
আজ বুধবার এলাকাবাসী জানায়, মুশরুত পানিয়াল পুকুর গ্রামের নুরুল ইসলামের ছেলে হেলেন মিয়ার সাথে পারিবারিকভাবে বিয়ে হয় একই জেলার পার্শ্ববর্তী সৈয়দপুর উপজেলার কাশিরাম ইউনিয়নের তিনপাই সমিতি পাড়া গ্রামের জিকরুল হকের মেয়ে রুমি বেগমের। তাদের এক বছরের কন্যা সন্তান রয়েছে। এরই মধ্যে রুমি বেগমের স্বামী এক মেয়ের সাথে পরকিয়া প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে। বিষয়টি রুমি বেগম ধরতে পারলে স্বামী স্ত্রীর মধে প্রায় সময়ই ঝগড়াঝাটি লেগেই থাকত। মঙ্গলবার রাতে রুমি বেগম তাঁর স্বামীর সঙ্গে পরকিয়া প্রেমের ঘটনায় গ্রামের একটি মেয়েকে হাতে নাতে ধরে ফেলে। প্রতিবাদ করতে গিয়ে স্বামীর অকথ্য নির্যাতন শুরু হয় রুমির উপর। যা সহ্য করতে না পেরে রুমি নিজ ঘরে ঢুকে বিষ পান করে। পরে রুমির শশুর বাড়ির লোকজন রুমিকে উদ্ধার করে প্রথমে উপজেলা হাসপাতাল ও পরে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে রাত দুইটার দিকে সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয়।
রুমির বাবা জিকরুল হক বলেন, এলাকাবাসীর কাছ থেকে জানতে পারি আমার জামাইয়ের নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে আমার মেয়ে রুমি বিষপান করেছে। রুমির স্বামী হেলেন মিয়া পলাতক রয়েছে। তাঁকে খুঁজে পাওয়া যায়নি।
রুমির শ্বশুর নুরুল ইসলাম বলেন, আমার বউমা রুমি আমার ছেলের উপর রাগ করে বিষপান করেছে সত্য কিন্তু আমার ছেলের সাথে কোনো মেয়ের পরকিয়া নেই।
নিতাই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ফারুক্কুজ্জামান ফারুক বলেন, আমি নিজেও জানিনা রুমি কি কারনে বিষ পান করেছে। তবে আমিও শুনেছি রুমির স্বামীর সাথে অন্য মেয়ের পরকিয়া ছিল।
কিশোরীগঞ্জ থানার ওসি বজলুর রশিদ বলেন, রুমি বেগম চিকিৎসাধীন অবস্থায় রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা গেছে। বুধবার দুপুরে সেখানে তার ময়না তদন্ত হয় এবং এ ঘটনায় রংপুর সদর থানায় ইউডি মামলা হয়েছে বলে জানতে পেরেছি।

Share





Related News

Comments are Closed