Main Menu

সিলেটের চার উপজেলায় লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দী

বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সিলেটের বিয়ানীবাজার, গোলাপগঞ্জ, জকিগঞ্জ ও ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলায় বিস্তীর্ন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এতে পানিবন্দী হয়ে পড়েছে লক্ষাধিক মানুষ।
কুশিয়ারা নদীর পানি কমলেও বিয়ানীবাজার উপজেলার ৭টি ইউনিয়নে পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। নতুন করে প্লাবিত হয়েছে বিয়ানীবাজার পৌরসভার অধিকাংশ এলাকা। বন্যা কবলিত এলাকার মানুষ আত্মীয় স্বজনের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন। গবাদি পশুও নিরাপদ স্থানে সরাচ্ছেন এসব এলাকার বাসিন্দারা। বৃহস্পতিবারও সিলেটের সাথে বিয়ানীবাজারের সরাসরি যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে।

কুশিয়ারা নদীর পানি বিয়ানীবাজারের শেওলা পয়েন্টে দুই পয়েন্ট কমে বিপদ সীমার ২১ পয়েন্টের উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। সিলেট-বিয়ানীবাজার আঞ্চলিক মহাসড়কের আরও বেশ কিছু অংশ তলিয়ে গেছে। তলিয়ে গেছে সিলেটের সাথে যোগাযোগের বিকল্প সড়ক বিয়ানীবাজার-চন্দরপুর সড়কের আশি ভাগ অংশ। বৃহস্পতিবার বিয়ানীবাজার উপজেলার ৭ ইউনিয়ন ও পৌরসভা পরিদর্শন করেন উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আতাউর রহমান খান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ আসাদুজ্জামান ও পৌর মেয়র আব্দুস শুকুর।

বিয়ানীবাজারের মেওয়া এলাকায় ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে একটি বাস।
ছবি : এম শহীদুল ইসলাম।

বন্যা কবলিত এলাকার জন্য জেলা প্রশাসন থেকে সাড়ে ১৪ টন ত্রাণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। শুক্রবার বিয়ানীবাজার উপজেলা প্রশাসনের কাছে এ ত্রাণ এসে পৌছাবে বলে জানান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ আসাদুজ্জামান।
স্থানীয় সূত্রে যায়, উপজেলার দুবাগ, শেওলা, কুড়ারবাজার, মাথিউরা, তিলপাড়া, লাউতা, মুড়িয়া ও বিয়ানীবাজার পৌরসভার ৮০ভাগ এলাকার মানুষ পানি বন্ধি হয়ে পড়েছেন। এসব ইউনিয়নের রাস্তা-ঘাট তলিয়ে গেছে। বাসা-বাড়িতে বন্যার পানি প্রবেশ করা মানুষজন আত্মীয়দের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন। গবাদি পশুগুলো উচু স্থানসহ আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে নিয়ে রাখা হচ্ছে। খাড়াভরা এলাকার বন্যা কবলিত শফিক উদ্দিন বলেন, নদীর পানি তোড়ের ঘর ভেঙ্গে পড়ার উপক্রম হয়েছে। প্রশাসনের সহযোগিতায় প্রতিবেশির বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছি।
বন্যায় ৭ ইউনিয়ন ও পৌররসভার মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন দুবাগ, শেওলা, লাউতা ও তিলপাড়া ইউনিয়নের অধিবাসীরা।
এদিকে, বৃহস্পতিবার সিলেট-বিয়ানীবাজার আঞ্চলিক মহসড়কের যান চলাচল প্রায় বন্ধ ছিল। দূরপাল্লার বাস ও মাল বোঝাই ট্রাক সীমিত আকারে চলাচল করেছে। সড়কের বেশ কিছু অংশ পানিতে তলিয়ে যাওয়া অটোরিক্সা, মাইক্রো চলাচল করেনি। এতে দুর্ভোগে পড়েন সাধারণ যাত্রি। সড়কের ডুবে যাওয়া অংশ মানুষজন টেক্ট্রর ও পায়ে হেঁটে পাড়ি দিতে দেখা গেছে।

মেওয়া পশ্চিম বায়তুস সালাম জামে মসজিদের নিচ তলায় উঠে গেছে বন্যার পানি। ছবি: এম শহিদুল ইসলাম।

উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আতাউর রহমান খান বলেন, বন্যার পরিস্থিতি দু-একদিনের মধ্যে উন্নতি হবে বলে আমাদের আশা। এরই মধ্যে নদীর পানি কমতে শুরু করেছে। তিনি বলেন, সরকারি ত্রাণ সামগ্রি আজকের মধ্যে পৌঁছে যাবে। আমরা চেষ্টা করবো দ্রুত সময়ের মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মধ্যে এসব ত্রাণ পৌঁছে দেয়ার।
গোলাপগঞ্জ উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নেও বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে এবং জকিগঞ্জের কয়েকটি ইউনিয়নের মানুষও পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন বলে জানা গেছে।

ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার বন্যা পরিস্থিতিরও অবনতি হচ্ছে। উপজেলা সদরের সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। প্লাবিত অঞ্চল ছাড়াও পানিবন্দী কয়েক হাজার মানুষ। যাদের বসতঘরে পানি ঢুকেছে তাদের জন্য আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হচ্ছে। ঐতিহ্যবাহী ফেঞ্চুগঞ্জ বাজারের ব্যবসা-বাণিজ্য স্থবির হে পড়েছেছ। গরুর হাট বন্ধ হয়ে গেছে। পূর্ব বাজারের রাস্তায় বুক সমান পানি। কাঁচা বাজার, মাছের বাজার বন্ধপ্রায়। ব্যবসা-বাণিজ্য চালু রাখা না গেলে মানুষের দুর্ভোগ চরমে উঠবে। নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের সংকটের সাথে পণ্যমূল্য বাড়বে। বাজারকে কেন্দ্র করে আরো কয়েকশ’ পরিবারের রুটি রুজির সংস্থান হয়। এসব পরিবারে এখন হাহাকার ধ্বনি শুনা যাচ্ছে।

 

Share





Related News

Comments are Closed