Main Menu

পুলিশ ও দাদন ব্যবসায়ির চাপে যুবকের আত্নহত্যার অভিযোগ

আব্দুল আউয়াল, ঠাকুরগাঁও জেলা প্র‌তি‌নি‌ধি: আবু হানিফ নয়ন (৩৩) পেশায় জুতার ব্যবসায়ি। বাসা ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার শিবগঞ্জ এলাকায়। ৫ বছর আগে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয় নয়ন। দুই সন্তানের জনক সে। জুতার ব্যবসায় তেমন লাভ হচ্ছিল না। তাই প্রায়ই সংসার চালাতে হিমসিম খেতে হয় তাকে। কিছুদিন আগে শিবগঞ্জ এলাকার দাদন ব্যবসায়ি আবুল কালামের কাছে ৪৫ হাজার টাকা সুদ মূলে ধার নেয় নয়ন। কিন্তু সেই টাকার নিয়মিত সুদ দিতে পারছিল না সে। দাদন ব্যবসায়ি তার উপর নানা রকম চাপ সৃষ্টি করে টাকার জন্য। ওই দাদন ব্যবসায়ি ঠাকুরগাঁও থানার এক অফিসারকে ম্যানেজ করে গত শুক্রবার রাতে নয়নের বাড়িতে পাঠায়। পুলিশ নয়নের বাড়িতে গিয়ে তাড়াতাড়ি টাকা পরিশোধ ও থানায় ধরে নিয়ে যাওয়ার হুমকি দেয় নয়নকে। নয়নের স্ত্রী শাহানা এই প্রতিবেদককে এমনটি জানিয়েছেন।

শনিবার সকালে শিবগঞ্জ নিজ ঘরে পরিবারের লোকজন নয়নের ঝুলন্ত লাশ দেখতে পায়। পরে স্থানীয় লোকজন ঠাকুরগাঁও থানায় খবর দিলে পুলিশ গিয়ে লাশ উদ্ধার করে।

নয়নের বাবা মনসুর আলী জানায়, নয়ন দীর্ঘদিন যাবত নেশাগ্রস্থ। তার জুতার ব্যবসা ভাল চলছিল না। বিভিন্ন মানুষের কাছে টাকা নিয়ে অনেক দেনায় পড়েছে। পুলিশ গত রাতে (শুক্রবার) এসে তাকে দেনার টাকা ও নেশা ছেড়ে দেওয়ার জন্য বলে গিয়েছিল। কিন্তু শনিবার সকালে তার ঝুলন্ত লাশ দেখতে পাবো কখনো ভাবতে পারিনি।

দাদন ব্যবসায়ি আবুল কালাম আজাদ জানান, নয়ন শুধু আমার কাছে টাকা নিয়েছে তেমনটা না। তার কাছে অনেকেই টাকা পায়। কি কারণে সে আত্নহত্যা করলো আমরা তা বুঝতে পারছি না। তবে চাপ সৃষ্টির বিষয়টি এড়িয়ে যান এই দাদন ব্যবসায়ি।

নয়নের স্ত্রী শাহানা জানায়, মানুষের টাকার চাপ ও পুলিশের ভয়ে সে আত্নহত্যা করেছে। এখন আমার সন্তানদের নিয়ে কোথায় গিয়ে দাড়াবো।

ঠাকুরগাঁও থানার উপ-পরিদর্শন জাহাঙ্গীর জানান, আমরা ঘটনাস্থল থেকে নয়নের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছি। শুক্রবার কোন পুলিশ অফিসার নয়নের কাছে এসেছিল কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। নয়নের আত্নহত্যার কারণ খুজতে পুলিশ তদন্ত করছে।

Share





Related News

Comments are Closed