গোয়াইনঘাটের দমদমা বিদ্যালয়ের বেহাল দশা
গোয়াইনঘাট সংবাদদাতা: সিলেটের গোয়াইনঘাটে অব্যবস্থাপনা, অবহেলা আর কর্তৃপক্ষের উদাসীনতায় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় বন্ধ হওয়ার পথে রয়েছে।
উপজেলার হাদারপারস্থ দমদমা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের করুণ অবস্থায় অসহায় হয়ে পড়েছেন তিন শতাধিক ছাত্রছাত্রী। শিক্ষক সংকট, রাস্তাঘাটের উন্নয়নসহ শিক্ষা ব্যবস্থায় পর্যাপ্ত সুযোগ সুবিধা না থাকায় শিক্ষার্থীরা প্রাইভেট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দিকে ঝুকছেন।
জানা গেছে, ১ কোটি ৫২ লক্ষ টাকা ব্যয়ে নির্মান করা হয় হাদারপারস্থ দমদমা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। দীর্ঘ পাঁচ বছর থেকে অবহেলায় জর্জরিত হয়ে পড়ে আছে বিদ্যালয়টি। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে একমাত্র শিক্ষক রয়েছেন নুরুল আমিন। তিনিই চালাচ্ছেন পাঠদান ব্যবস্থা। এখানে শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হলে অন্যত্র ভালো সুযোগ সুবিধা দেখে বদলির হওয়ারও অভিযোগ রয়েছে। এ অবস্থায় শিক্ষার্থীদের পরিবার থেকে দশ পাঁচ টাকা চাঁদা তুলে মাস প্রতি ৩ হাজার টাকা সম্মানি দিয়ে একজন অস্থায়ী শিক্ষক রাখা হয়েছে। পর্যাপ্ত শিক্ষক না থাকায় কমছে শিক্ষার্থীর সংখ্যা। তাছাড়া বিদ্যালয়ে যাওয়া-আসার রাস্তাটিও চলাচলের অনুপযোগি হয়ে পড়েছে। ভারত সীমানা থেকে বয়ে যাওয়া একটি ছড়ার কারণে এই রাস্তাটি ভেঙে যাওয়ায় যাতায়াত ব্যবস্থায় চরম ব্যাঘাত সৃষ্টি হচ্ছে। কিছুদিন আগেও এখানে পাঁচ শতাধিক ছাত্রছাত্রী ছিল, কিন্তু বিদ্যালয়ের অচলাবস্থায় অভিভাবকরা ছেলেমেয়েদের অন্যত্র ভর্তির ব্যবস্থা করে দিচ্ছেন। এতে করে একে একে বিলিন হয়ে যাচ্ছে বিদ্যালয়টির অস্তিত্ব।
এমতাবস্থায় বিদ্যালয়টিতে টিকে থাকা শিক্ষার্থী ও শিক্ষক-অভিভাকরা সুদৃষ্টি কামনা করেছেন সরকারের ঊর্ধ্বতন কতৃপক্ষের কাছে। তাঁরা বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ভিশন ২০২১ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে যে-ভাবে সরকার কাজ করছে, তাতে দেশ অনেক দূর এগিয়ে গেছে। শিক্ষা ব্যবস্থার অন্যতম রূপকার, সিলেটের কৃতি সন্তান শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদের আপ্রাণ চেষ্টায় শিক্ষা ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন ঘটেছে। কিন্তু উদাসীনতা ও অব্যবস্থাপনায় গোয়াইনঘাটের দমদমা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যায়ল ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। শত শত শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ অন্ধকারের পথে নেমে যাচ্ছে। তাই সরকারের শিক্ষামন্ত্রনালয় কর্তৃপক্ষসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষসহ এলাকাবাসী।
এব্যাপারে বিদ্যালয় কমিটির সভাপতি ফজর আলী বলেন, স্কুলটি টিকিয়ে রাখতে একাধিকবার উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করেছি, কিন্তু কোনো ধরনের সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না।
Related News
কোম্পানীগঞ্জে গাছ কেনাবেচা নিয়ে টর্চ জ্বালিয়ে দুই গ্রামের সংঘর্ষ, আহত অন্তত ৪০
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সিলেটের কোম্পানীগঞ্জে গাছ কেনাবেচার দেনাপাওনা নিয়ে টর্চলাইট জ্বালিয়ে দুই গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যেRead More
বিশ্বনাথে স্ত্রীর মামলায় স্বামী গ্রেফতার
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সিলেটের বিশ্বনাথে স্ত্রীর দায়ের করা মামলায় কছির আলী (৩৮) নামে এক ব্যক্তিকেRead More



Comments are Closed