Main Menu

ছাতকে আগাম বন্যায় সাড়ে ৪শ’ কোটি টাকার ক্ষতি

কামরুল হাসান সবুজ, ছাতক (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি: ছাতকে এবারের চৈত্র মাসের প্রথম দিকে আসা আগাম বন্যায় ১২ হাজার হেক্টর জমির বোরো ফসল একেবারে নষ্ট হয়ে গেছে। ফলে উপজেলার ৮৪ হাজার ৪শ’ ৩০টি পরিবারে নেমে এসেছে চরম অমানিশা। বন্যায় সাড়ে ৪শ’ কোটি টাকার ক্ষতির সম্মূখিন হয়েছেন এলাকাবাসি। ১৩ ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত ছাতক উপজেলায় অন্যান্য এলাকার ন্যায় আগাম বন্যায় কৃষকের সব স্বপ্ন স্বাদ ভেঙ্গে দিয়েছে। এখানে পানিতে তলিয়ে সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে ১২ হাজার হেক্টর জমির ফসল। এখানে ৮৪ হাজার ৪শ’ ৩০টি পরিবার ছাড়াও আদিবাসি সম্প্রদায়ের লোক রয়েছে ২ হাজার ৮শ’ ২৬জন। এরমধ্যে অনেক পরিবার ব্যবসা-বাণিজ্য করলেও সমাজের সকল শ্রেণীর পরিবার বিভিন্নভাবে কৃষি ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট রয়েছেন। অনেকের জমি না থাকলেও জমি প্রান্তিক ও বর্গা নিয়ে ফসল ফলান। এখানে ১২টি খালের প্রায় সবগুলোই এখন কৃষি জমিতে পরিণত হয়েছে। সোয়া ৩ লক্ষাধিক জনসংখ্যার এ উপজেলায় জলমহাল রয়েছে ৬০টি। এবারে ১১ হাজার ১শ’ হেক্টর জমিতে বোরো ফসল ফলানো হয়। এতে সাড়ে ৪শ’ কোটি টকার চাল উৎপাদন হতো। কিন্তু বন্যায় তাদের একেবারে নিঃস্ব করে দিয়েছে। ফলে এখন ধনী-গরিব সবাই যেন এককাতারে এসে দাড়িয়েছেন। এরমধ্যে সরকারের বেশ কিছু উদ্যোগে কৃষক যেন কিছুটা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলতে পারবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এখানে ধান না ওঠায় গোখাদ্য সঙ্কট তীব্রতর হচ্ছে। এ অবস্থায় অনেকে পানির দরে বিক্রি করছেন গবাদিপশু।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার নাসির উল্লাহ জানান, ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক ১০ হাজার কৃষকের নামে জনপ্রতি ৩০ কেজি চাল ও নগদ ৫শ’ টাকা করে বরাদ্ধ এসেছে। এগুলো ১২দিনের মধ্যে বিতরণ করা হবে।
উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ একে বদরুল হক জানান, আগাম বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থদের মধ্যে ৩৮ হাজার ২শ’ ৬ জন কৃষককে ক্ষতিপূরণ দেয়া হচ্ছে।
এদিকে ৩০ এপ্রিল রোববার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সুনামগঞ্জে আসার খবরে এখন কৃষককূলের মুখে হাসির ঝিলিক ফুটে উঠেছে। ধান, মাছ, হাঁস, গবাদিপশু ও সবজিসহ সব কিছু হারিয়ে নির্বাক ক্ষতিগ্রস্থদের জন্যে প্রধানমন্ত্রী কি নতুন বার্তা নিয়ে আসছেন এ প্রত্যাশায় প্রহর গুনছেন ছাতকবাসী।

Share





Related News

Comments are Closed