‘এপ্রিলের বেতনের সাথে বৈশাখী ভাতা না দিলে কঠোর কর্মসূচি’
বৈশাখী নিউজ ২৪ ডটকম: এমপিওভূক্ত সকল শিক্ষক-কর্মচারীদের এপ্রিল মাসের বেতনের সাথে বৈশাখী ভাতা দেয়া না হলে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে হুশিয়ারি দিয়েছেন সিলেটের শিক্ষকরা। রোববার বেলা ১২টায় সিলেট কেন্দ্রিয় শহীদ মিনারের সামনে এমপিওভূক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বৈশাখী ভাতা, বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট ও উচ্চতর বেতন স্কেল প্রাপ্তির দাবিতে আয়োজিত মানববন্ধনে বক্তারা এ হুশিয়ারি দেন। তারা বলেন, একটি কুচক্রীমহল সরকারকে পরামর্শ দিয়ে দেশের শিক্ষকদের মধ্যে বৈষম্য সৃষ্টি করেছে। এ বৈষম্য কিভাবে দূর করা যায় সেটা শিক্ষকরা জানেন। তাদের সকল দাবি মেনে নিয়ে বৈষম্য দূর করতে হবে। অন্যথায় এর পরিণতি ভয়াবহ হবে। তারা বলেন, শিক্ষকরাও আন্দোলন জানে। আন্দোলনকারীর জন্মদাতা হচ্ছেন শিক্ষকরা। তাই শিক্ষকদের আন্দোলনে নামানো ঠিক হবে না। যদি শিক্ষকরা আন্দোলনে নামেন তাহলে এর উচিত জবাব সরকারকে দিতে হবে।
বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি সিলেট জেলার আয়োজনে ও জেলা সচিব মো. শমসের আলীর পরিচালনায় মানবন্ধনে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন শিক্ষক সমিতির সিলেট বিভাগীয় সমন্বয়কারী ও সিলেট জেলা সভাপতি এএইচ এম ইসরাইল আহমদ। তিনি বলেন, স্বাধীনতা পরবর্তী যতটা সরকার এসেছে তারাই শিক্ষকদের সাথে বৈষম্য করেছে। অথচ ভোট গ্রহণ, ভোটার তালিকা হালনাগাদ ও আদমশুমারি থেকে শুরু করে সরকারের সকল কাজ এই শিক্ষকরা করে থাকেন। প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার পরও রাস্তায় নেমে আন্দোলন করে নতুন স্কেল কার্যকর করতে হয়েছে শিক্ষকদের।
তিনি বলেন, দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় শতকরা ৯৫ভাগ কাজ করে বেসরকারি (এমপিওভূক্ত) শিক্ষকরা। আর ৫ ভাগ কাজ করে সরকারি শিক্ষকরা। অথচ সরকারি শিক্ষকদের সকল সুযোগ সুবিধা দেয়া হলে বঞ্চিত হচ্ছেন বেসরকারি শিক্ষকরা।
তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, দেশে কয় ধরণের শিক্ষাব্যবস্থা আছে আমরা শিক্ষকরা জানি না। স্তরে স্তরে ১/২ টা করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ প্রক্রিয়ায় বুঝা যাচ্ছে সরকারের পদস্থ কর্মকর্তারাও জানেন না কয় স্তরের শিক্ষাব্যবস্থা। একই সাথে সবকটি মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে জাতীয়করণ করতে হবে। সেই সাথে শিক্ষকদের সকল দাবি-দাওয়া মেনে বৈষম্য দূর করতে হবে। তা না হলে পরিস্থিতি ভয়াবহ হবে বলে হুশিয়ারি দেন তিনি।
তিনি আরো বলেন, ‘বৈশাখি উৎসব’ একটি অসম্প্রদায়িক উৎসব হওয়া সত্তে¡ও দেশেরে একটি বৃহৎ অংশকে এ উৎসব ভাতা থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। সরকার যাদেরকে বৈশাখি ভাতা দিয়েছে তারা বাসার ড্রয়িং রুমে বসে পান্তা ইলিশ খেয়ে উদযাপন করবে। আর আমারা ভাতা না দিলেও প্রতিষ্ঠানে থেকে উৎসব পালন করতে হবে। কাদের ইন্ধনে বেসরকারি শিক্ষকদের উপর অঘোষিত নিপীড়ন চালিয়ে যাচ্ছে সরকার সেটা শিক্ষকরা জানতে চায়।
মানববন্ধনে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন শিক্ষক সমিতি সিলেট জেলার সাংগঠনিক সচিব অধ্যক্ষ মুজাম্মিল আলী, সদস্য ময়ুর আলী, তাহমিনা পারভীন, সিলেট মহানগর শাখার সভাপতি আহমদ আলী, সচিব মো. জিয়াউর রহমান, বিয়ানীবাজার উপজেলা সভাপতি আব্দুদ দাইয়ান, কানাইঘাট উপজেলা সভাপতি মামুন আহমদ, জকিগঞ্জ উপজেলা সভাপতি কুতুব উদ্দিন, গোলাপগঞ্জ উপজেলার অতিরিক্ত সচিব আব্দুল বাছিত, বালাগঞ্জ উপজেলা সভাপদি রফিকুল আলম, ওসমানীনগর উপজেলার সচিব রিপন সূত্রধর, গোয়াইনঘাট উপজেলা সভাপতি আব্দুল মুনিম। এসময় শিক্ষকদের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করে বক্তব্য রাখেন ছাতক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. আফজল হোসেন। উল্লেখ্য একই দাবিতে সিলেট বিভাগের চার জেলায় একই সময়ে মানববন্ধন করেছেন শিক্ষকরা।
Related News
রাষ্ট্রপতির সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগদান না করা নিয়ে সিলেট মহানগর বিএনপির বিবৃতি
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: আয়োজকদের স্বেচ্ছাচারিতার কারণে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে নগরভবনে অনুষ্ঠিত নাগরিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানেRead More
গণতন্ত্র পেয়েছি, রক্ষা করা এখন সবচেয়ে বড় দায়িত্ব: রাষ্ট্রপতি
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দীর্ঘ সংগ্রাম ও ত্যাগের বিনিময়ে দেশেRead More



Comments are Closed