Main Menu

পুরুষ জঙ্গি নিহত আত্মঘাতী বিস্ফোরণে, নারী জঙ্গি আগুনে পুড়ে

Manual8 Ad Code

বৈশাখী নিউজ ২৪ ডটকম : সিলেটের দক্ষিণ সুরমার শিববাড়ির আতিয়া মহলে সেনাবাহিনীর প্যারা কমান্ডোদের অভিযানে নিহত ৪ জঙ্গির মধ্যে দুইজনের সুরতহাল প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিহত দু’জনের মধ্যে পুরুষ জঙ্গিটি আত্মঘাতী বিস্ফোরণে এবং নারী জঙ্গি আগুনে পুড়ে মারা গেছে। আর এর আগে যে দুজন নিহত হন তাদের মধ্যে একজন সুসাইড করে। অপরজন গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যায়।
মঙ্গলবার পুরুষ লাশটির সুরতহাল করেন মোগলাবাজার থানার এসআই মো. সোহেল রানা এবং নারীর লাশের সুরতহাল করেন একই থানার এসআই সুজন দত্ত।
সুরতহাল প্রতিবেদনে বলা হয়, নিহত ওই পুরুষের দৈর্ঘ্য আনুমানিক ৫ ফুট ৫ ইঞ্চি। তার মুখমণ্ডল ছিল গোলাকার ও আগুনে পোড়া। মাথায় সামান্য চুল ও মুখে কিছু দাড়ি ছিল। তার পরনে ছিল কালো জামা ও দুই পায়ে ছিল কালো জুতা। লাশের বুক থেকে তলপেট পর্যন্ত পুরোটাই ছিল ছিন্ন-বিচ্ছিন্ন। বাঁ পায়ের মাংস গোড়ালির টাকনু পর্যন্ত কাটা ছিল।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, “অজ্ঞাতনামা লাশটি একজন জঙ্গি সন্ত্রাসীর লাশ বলে প্রতিয়মান হয়। জঙ্গি সন্ত্রাসী আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর গ্রেফতার এড়ানোর জন্য নিজে নিজে আত্মঘাতী বোমা বিস্ফোরণ ঘটিয়ে মারা যায় বলে অনুমান করা হচ্ছে।”
অন্যদিকে নিহত নারী সম্পর্কে সুরতহাল প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই নারীর দৈর্ঘ্য আনুমানিক চার ফুট। তার মুখমণ্ডল ছিল পোড়া, মাথায় সামান্য চুল দেখা গেছে । দুই হাত ও দুই পায়ের গিড়া পর্যন্ত সম্পূর্ণ দেহ পোড়া ছিল। একটি পায়ে সামান্য মাংস আছে এবং পায়ের তালুর নিচে আনুমানিক দুই ইঞ্চি কাটা। বুক ও পা দেখে বোঝা গেছে লাশটি একজন নারীর।
প্রতিবেদনে উল্লেখ্য করা হয়, “লাশটি একজন জঙ্গি সন্ত্রাসীর স্ত্রীর এবং গোপনীয়ভাবে জানা যায় নিহত নারী নিজেও একজন জঙ্গি সন্ত্রাসী দলের সদস্য ছিলেন। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর গ্রেফতার এড়ানোর জন্য নিজের গায়ে নিজে আগুন দিয়ে মারা গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে, মঙ্গলবার দুপুরে অজ্ঞাতপরিচয় হিসেবে দুই লাশের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. শামসুল ইসলামের নেতৃত্বে চার সদস্যের চিকিৎসক দল ময়না তদন্ত সম্পন্ন করেন।
লাশ দুটি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হিমাগারে রাখা হয়েছে। পরিচয় নিশ্চিত হলে সেগুলো হস্তান্তর করা হবে। এই দু’জন কাওসার আহমদ ও মর্জিনা বেগম হতে পারে বলে ধারণা পুলিশের। তবে তাদের পরিচয় নিশ্চিত হতে আঙ্গুলের ছাপ ও ডিএনএ’র নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে বলে জানান কতোয়ালি থানার ওসি সুহেল আহমদ।
অন্য দু’টি লাশ মঙ্গলবার সন্ধ্যায় পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছে সেনাবাহিনী। বুধবার সকালে লাশ দুটি ময়না তদন্তের ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে প্রেরন করা হবে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।
দক্ষিণ সুরমার শিববাড়ি এলাকায় অবস্থিত আতিয়া মহল গত বৃহস্পতিবার গভীর রাত থেকে ঘিরে রেখেছে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। শুক্রবার বিকেলে ঢাকা থেকে পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট সোয়াত সিলেটে পৌছে পুলিশের সঙ্গে ঘটনাস্থল ঘেরাও করে।
এরপর শনিবার সকাল থেকে সেনাবাহিনীর প্যারা কমান্ডো দল ‘অপারেশন টোয়াইলাইট’ নামে অভিযান শুরু করে। এ অভিযানের মধ্যেই শনিবার সন্ধ্যায় সিলেটে পুলিশ চেকপোস্টে দুই দফা বিস্ফোরণে দুই পুলিশ কর্মকর্তাসহ ৬ জন নিহত এবং ৪০ জন আহত হন।
সোমবার তৃতীয় দফা সংবাদ সম্মেলনে সেনাবাহিনী জানায়, অভিযানে চার জঙ্গি নিহত হয়েছে। নিহতদের মধ্যে রয়েছে তিন পুরুষ ও এক নারী।

Manual3 Ad Code

এদিকে, ময়না তদন্তের জন্য হাসপাতালে আনা দুই জঙ্গীর শরীরের ১০০ ভাগই পুড়ে গেছে বলে জানিয়েছেন ফরেনসিক বিভাগের জনৈক চিকিৎসক। নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই চিকিৎসক জানান, পুরুষ লাশটি মুখমন্ডল কিছুটা চেনা গেলেও মহিলা লাশটির অবস্থা বেশী খারাপ।

Manual4 Ad Code

Share





Related News

Comments are Closed

Manual1 Ad Code
Manual7 Ad Code