Main Menu

আতিয়া মহলের জঙ্গি আস্তানায় অভিযান শুরু

বৈশাখী নিউজ ২৪ ডটকম : সিলেটে জঙ্গি আস্তানায় অপারেশন ‘স্প্রিং রেইন’ শুরু হয়েছে। লে. কর্নেল ইমরুল কায়েসের নেতৃত্বে এই বিশেষ অভিযানে অংশ নিয়েছেন সেনাবাহিনীর প্যারা-কমান্ডো সদস্যরা।
শনিবার (২৫ মার্চ) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে দক্ষিণ সুরমার শিববাড়ি উস্তার মিয়ার মালিকানাধীন ভবন ‘আতিয়া মহলে’ এ অভিযান শুরু হয়।
সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপ পুলিশ কমিশনার (মিডিয়া) জেদান আল মুসা এ খবর নিশ্চিত করেন।
পুলিশের আহ্বানের পরও আত্মসমর্পণে সাড়া না দেওয়ায় সোয়াট টিমের সঙ্গে অভিযানে যোগ দেয় সেনাবাহিনীর প্যারা-কমান্ডো ইউনিট।
প্যারা-কমান্ডোদের সাথে আছেন সোয়াত সদস্যরা। এছাড়াই বাইরে আছেন পুলিশ, র্রাব, পিবিআই, ডিবি, এসবিসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর শত শত সদস্য।
দক্ষিণ সুরমা উপজেলার শিববাড়ি পাঠানপাড়া এলাকায় সন্দেহভাজন জঙ্গি আস্তানায় শনিবার সকাল আটটার দিকে পৌঁছেছে সেনাবাহিনীর প্যারা কমান্ডো ফোর্স। ঘটনাস্থল থেকে এক কিলোমিটার দূরে এলাকার জনসাধারণ ও সংবাদকর্মীকে সরে যেতে বলা হয়েছে। এলাকার বিদ্যুৎ, পানি ও গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছে। ঘটনাস্থলে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি, পুলিশের সাঁজোয়া যান, কয়েকটি অ্যাম্বুলেন্স রাখা হয়েছে।
জঙ্গিরা অবস্থান করছে, এমন তথ্যের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে পাঁচতলা বাড়িটি ঘেরাও করে পুলিশ। শুক্রবার দিনভর বারবার মাইকে আহ্বান জানিয়েও ভেতরে থাকা জঙ্গিদের আত্মসমর্পণ করাতে পারেনি পুলিশ। উল্টো ভেতর থেকে গুলি ও বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া যায়। অভিযান চালাতে ঢাকা থেকে পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট সোয়াটের একটি দল শুক্রবার বিকেলে সিলেটে পৌঁছায়। সন্ধ্যার পর ঘটনাস্থলে সেনাবাহিনীর দুটি গাড়ি যায়। রাতভর সোয়াট ও স্থানীয় পুলিশ বাড়িটি ঘিরে রাখে।
পুলিশ কমিশনার গোলাম কিবরিয়া শুক্রবার রাতে জানান, পুলিশকে সহায়তা দিতে সেনাসদস্যরা এসেছেন।
পুলিশের ধারণা, আতিয়া মহল নামের বাড়িটির নিচতলার একটি ফ্ল্যাটে সন্দেহভাজন জঙ্গিরা অবস্থান করছে। ভেতরে একজন নারী থাকার কথা নিশ্চিত হলেও মোট কতজন আছে, সেটা জানা যায়নি। তবে পুলিশের ধারণা, ভেতরে নব্য জেএমবির গুরুত্বপূর্ণ নেতা মাইনুল ওরফে মুসা রয়েছেন।
আতিয়া মহল নামে পাঁচতলা ওই ভবনটিতে মোট ২৯টি ফ্ল্যাট রয়েছে।
উল্লেখ্য, শুক্রবার ভোর থেকে জঙ্গি আস্তানা সন্দেহে সিলেটের দক্ষিণ সুরমা উপজেলার শিববাড়ি এলাকার উস্তার মিয়ার বাড়ি ‘আতিয়া মহল’ ঘেরাও করে রাখে পুলিশ। সকাল সোয়া ৭টায় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে জঙ্গিরা বোমা বিস্ফোরণ ঘটায়। পরে সকাল ৯টা থেকে পুলিশ ভবন লক্ষ্য করে একের পর এক গুলি ছুড়ছে। তবে ভবনের ভাড়াটিয়া নিরীহ লোকজনের কাউকে বের করে আনতে পারেনি। পুলিশের ধারণা ‘মর্জিনা’ নামে কোড ব্যবহার করে জঙ্গিরা ওই বাসায় অবস্থান নিয়েছে। বাসায় নব্য জেএমবি নেতা মুসা থাকতে পারে, এমন ধারণাও পোষণ করছেন আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।
শুক্রবার রাতে অভিযানে সিটি করপোরেশনের ক্রেন ও জেনারেটর সংযোগ করা হয়েছে স্পট আলোকিত করার জন্য। আশপাশে রাখা হয়েছে সাজোয়া যান, অ্যাম্বুলেন্স ও ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি।

Share





Related News

Comments are Closed