Main Menu

আ.লীগে কাউয়া ঢুকেছে, এদের তারাতে হবে : কাদের

বৈশাখী নিউজ ২৪ ডটকম: আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের দলের গ্রুপিংবাজ নেতাদের সতর্ক করে দিয়ে বলেন- ঘরের ভেতরে ঘর বানানো চলবে না, মশারির ভেতরে মশারি টানানো যায়না। দলীয় শৃঙ্খলা সকলকে মানতে হবে। দলের ভেতরে কাউয়া ঢুকেছে, এদের তাড়াতে হবে। পেশীজীবী হাইব্রিড নেতাদের দলের প্রয়োজন নাই।
আওয়ামী লীগে বিভিন্ন লীগ নাম দিয়ে যারা দোকান খুলেছেন তাদের সতর্ক করে দিয়ে তিনি বলেন সাইনবোর্ডগুলো নামিয়ে নিতে। কর্মীদের তিনি নির্দেশ দেন- এদেরকে ধরে ধোলাই দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করতে।
বুধবার দুপুরে সিলেট সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের সিলেট বিভাগীয় প্রতিনিধি সমাবেশের প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ওবায়দুল কাদের আরো বলেন, ‘আওয়ামী লীগে জমিদারের মতো পদে বসে থাকা চলবে না। আমাদের গড ফাদার দরকার নেই, দরকার নেই পেশাহীন পেশাজীবীর। আমরা সন্ত্রাসমুক্ত আওয়ামী লীগ গড়তে চাই। প্রত্যেক ওয়ার্ড, ইউনিয়ন ও উপজেলোর মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি নতুন করে করতে হবে। সিলেট বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত যুগ্ম সম্পাদক মাহবুবুল হক হানিফ ও সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন তারিখ নির্ধারণ করে দেবেন। কমিটি গঠন নিয়ে কোন টালবাহানা চলবে না। পকেট কমিটি মেনে নেয়া হবেনা। সুশৃঙ্খলভাবে কমিটি গঠনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগকে শক্তিশালী করে আগামী সংসদ নির্বাচনে দলকে বিজয়ী করতে হবে।’
দীর্ঘ ১৫ বছর পর অনুষ্ঠিত এই সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন দলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল হক হানিফ ও পরিচালনা করেন সিলেট বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন। সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন- অর্থ পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান, জাতীয় সংসদের হুইপ সাহাব উদ্দিন, কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হাবিবুর রহমান সিরাজ, আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগ’র সাধারণ সম্পাদক পঙ্কজ দেবনাথ এমপি, কেন্দ্রীয় সদস্য ও সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি বদর উদ্দিন আহমদ কামরান, সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সাংসদ শফিকুর রহমান চৌধুরী, সংসদ সদস্য মুহিবুর রহমান মানিক, সংসদ সদস্য মোয়াজ্জেম হোসেন রতন, সংসদ ইমরান আহমদ, সংসদ সদস্য মাহমুদ উস সামাদ কয়েস, সংরক্ষিত মহিলা সংসদ সদস্য আমাতুল কিবরিয়া কেয়া চৌধুরী, অ্যাড. শাহানা রব্বানী, সিলেট জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাড. লুৎফুর রহমান, সুনামগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক নুরুল হুদা মুকুট, মৌলভীবাজার জেলা পরিষদের প্রশাসক আজিজুর রহমান, হবিগঞ্জে জেলা পরিষদের প্রশাসক ডা. মুশফিক আহমদ, সিলেট সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আশফাক আহমদ, বিয়ানীবাজার উপজেলা চেয়ারম্যান আতাউর রহমানসহ সিলেট বিভাগের সকল উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক; ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ কার্যকরী কমিটির সকল নেতৃবৃন্দ।
এদিকে, যারা দিনে আওয়ামী লীগ এবং রাতে বিএনপি’র সাথে আঁতাত করে এদেরকে চিহ্নিত করার দাবি উঠেছে আওয়ামী লীগের সিলেট বিভাগীয় তৃণমূল প্রতিনিধি সমাবেশে।
সমাবেশে বক্তারা স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন নির্বাচনে দলের বিদ্রোহী প্রার্থী, তৃণমূল নেতা-কর্মীদের সাথে মন্ত্রী-এমপি’র দূরত্ব এবং তাদেরকে যথাযথ মূল্যায়ণ না করার বিষয়টিও তুলে ধরেন। তারা এও বলেন, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ সঠিক পথে এগিয়ে চলেছে। কিন্তু, দলে অনুপ্রবেশকারীদের কারণে তাদের অনেক বদনাম হচ্ছে। এসব প্রতিরোধ করা না গেলে আগামী নির্বাচনে এর বিরুপ প্রভাব পড়তে পারে।
আবারও অর্থমন্ত্রীর আসনে মনোনয়ন চাইলেন মিসবাহ;
বিভিন্ন ঘরোয়া সভা-সমাবেশে মর্যাদার আসন বলে খ্যাত সিলেট-১ (সদর ও সিটি করপোরেশন) আসনে নির্বাচন করার ঘোষণা দিয়ে আসছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এডভোকেট মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ। এবার স্বয়ং অর্থমন্ত্রীর সামনেই এই আসনের মনোনয়ন চাইলেন তিনি। বুধবার দুপুরে সিলেট আলীয়া মাদ্রাসা মাসে অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের সিলেট বিভাগীয় সমাবেশে বক্তৃতাকালে তিনি এ মনোনয়ন চান।
মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ বলেন, সিলেট-১ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য ও সফল অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত বার্ধক্যজনিত কারণে হয়তো আগামী নির্বাচনে প্রার্থী হবেন না। তাই আমি সবাইকে সাথে নিয়ে তাঁর উন্নয়ন কর্মকান্ডকে রক্ষা করতে ও এগিয়ে নিতে চাই। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাকে দলের প্রার্থী হিসাবে মনোনয়ন দেবেন বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেছেন।
প্রসঙ্গত; সিলেট-১ আসনের প্রার্থী হওয়ার ব্যাপারে অর্থমন্ত্রীর ভাই আবদুল মোমেনেরও প্রার্থী হওয়ার ব্যাপারে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা চলছে। তিনি ইতিমধ্যে প্রচার-প্রচারণাও চালাচ্ছেন।

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

Share





Related News

Comments are Closed