Main Menu

বিশ্ব ভালোবাসা দিবস আজ

Manual6 Ad Code

বৈশাখী নিউজ ডেস্ক : বিশ্ব ভালোবাসা দিবস বা ভ্যালেন্টাইন ডে আজ। সারা বিশ্বের মানুষ এই দিনটিতে তার প্রিয় মানুষটিকে জানান ভালোবাসার কথা। নিজেদের ভাসিয়ে দেন ভালোবাসার সাগরে। সারা বিশ্বের কোটি কোটি প্রেমিক-প্রেমিকার জন্য আজ পরম আকাঙ্ক্ষিত একটি দিন। আজ আনন্দের দিন, আজ বিরহের দিন।.. আজ ভালোবাসাবাসির দিন।

প্রিয়জনকে ভালোবাসার জন্য বছরের প্রতিটি দিন বহাল থাকলেও বিশেষ এই দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখতে চান অনেকে। পৃথিবীর আদিমতম সম্পর্কের নাম ভালোবাসা। একে ঘিরে পৃথিবীতে যত গল্প, কবিতা, গান, উপন্যাস রচিত হয়েছে, আর কোনো বিষয় নিয়ে তা করা হয়নি। এমনকি ভালোবাসার জন্য কেউ সাম্রাজ্য ত্যাগ করেছেন, কেউ জীবন দিয়েছেন। সেই ভালোবাসাকে চিরসজিব করে রাখতে ইতিহাসের পাতা থেকে উঠে এসেছে ‘ভ্যালেন্টাইনস ডে’ বা ‘বিশ্ব ভালোবাসা দিবস’।

Manual7 Ad Code

সারা বিশ্বের মতো বাংলাদেশেও দিবসটি উদযাপিত হচ্ছে। আমাদের দেশে ভালোবাসা পালনকে ঘিরে থাকে বসন্তের বাড়তি ছোঁয়া। বসন্তের সাথে একাকার হয়ে বাংলাদেশে আজো উৎসবমুখর থাকবে চার দিক। দিবসটি পালনে দেশের বিশ্ববিদ্যালয়সহ নানা স্থানে বিভিন্ন কর্মসূচি আয়োজন করা হয়েছে। পত্র পত্রিকা ছাড়াও টেলিভিশন এবং অনলাইন মিডিয়াগুলোয় বিশেষ আয়োজন রাখা হয়েছে। দিনটিকে উপভোগ্য করে তুলতে রাজধানীর পাঁচ তারকা হোটেলসহ বিভিন্ন নামীদামি হোটেলে থাকবে বিশেষ আয়োজন।

Manual2 Ad Code

দিনের প্রথম প্রহর থেকেই শুরু হয়ে গেছে ভালোবাসা বিনিময়ের পালা। ১৯৯৫ সাল থেকে প্রতি বছর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় টিএসসিতে সাড়ম্বরে ভ্যালেন্টাইনস ডে পালন করা হয়। সকল বাধা বিপত্তিকে পাশ কাটিয়ে সবাই চায় এই বিশেষ দিবসের কিছুটা সময় প্রিয় মানুষের সান্নিধ্যে কাটাতে। এ নিয়ে তাদের মধ্যে নানা ধরনের প্রস্তুতিও লক্ষ্য করা যায়। যেমন, নতুন পোশাক, সাজসজ্জা, উপহারসহ আরও কত কিছু। আজ আমরা যে ভালোবাসা দিবস পালন করছি এর পেছনে রয়েছে করুণ এক ইতিহাস। যদিও এই নিয়ে মত পার্থক্যও রয়েছে।

ইতিহাস থেকে জানা যায়, ২৭০ সালের দিকে ইটালীর রোমে শাসন করতেন রাজা ক্লডিয়াস ২, রাজ্যে তখন চলছিলো সুশাসনের অভাব, আইনের অপশাসন, অপশিক্ষা, স্বজন প্রীতি, দূর্নীতি এবং কর বৃদ্ধি। এতে সাধারণ জনগন ফুঁসছিল। রাজা তার সুশাসন ফিরিয়ে রাখার জন্য রাজ দরবারে তরুণ যুবকদের নিয়োগ দিলেন। আর যুবকদেরকে দায়িত্বশীল ও সাহসী করে গড়ে তোলার জন্যে তিনি রাজ্যে যুবকদের বিয়ে নিষিদ্ধ করলেন। কারণ, রাজা বিশ্বাস করতেন বিয়ে মানুষকে দুর্বল ও কাপুরুষ করে। বিয়ে নিষিদ্ধ করায় পুরো রাজ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়।

Manual8 Ad Code

এ সময় সেন্ট ভ্যালেন্টাইন নামের এক ধর্মযাজক গোপনে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শুরু করেন। তিনি পরিচিতি পেলেন ভালবাসার বন্ধু বা ‘Friends of Lovers’ নামে। কিন্তু তাকে রাজার নির্দেশ অমান্য করার কারণে রাষ্ট্রদ্রোহিতার দায়ে আটক করা হল। জেলে থাকাকালে ভ্যালেন্টাইনের সঙ্গে পরিচয় হয় জেল রক্ষক আস্ট্রেরিয়াসের সাথে। আস্ট্রেরিয়াস জানতো ভ্যালেন্টাইনের আধ্যাত্মিক ক্ষমতার কথা। তিনি তাকে অনুরোধ করেন তার অন্ধ মেয়ের দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে দিতে। ভ্যালেন্টাইন পরবর্তীতে মেয়েটির দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে দেন।

এতে মেয়েটির সঙ্গে সেন্ট ভ্যালেন্টাইনের বন্ধুত্ব অন্তরঙ্গ হয়ে উঠে। রাজা তার এই আধ্যাত্মিকতার সংবাদ শুনে তাকে রাজ দরবারে ডেকে পাঠান এবং তাকে রাজকার্যে সহযোগিতার জন্য বলেন। কিন্তু ভ্যালেন্টাইন বিয়ের উপর নিষেধাজ্ঞা না তোলায় সহযোগিতায় অস্বীকৃতি জানান।

এতে রাজা ক্ষুব্ধ হয়ে তার মৃত্যুদণ্ডের ঘোষণা দেন। মৃত্যুদণ্ডের ঠিক আগের মূহুর্তে ভ্যালেন্টাইন কারারক্ষীদের কাছে একটি কলম ও কাগজ চান। তিনি মেয়েটির কাছে একটি গোপন চিঠি লিখেন এবং শেষাংশে বিদায় সম্ভাষনে লেখা হয় ‘From your Valentine’ এটি ছিলো এমন একটি শব্দ যা হৃদয়কে নাড়িয়ে দেয়। এরপর ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২৭০ খৃস্টাব্দে ভ্যালেন্টাইনের মৃত্যুদন্ড কার্যকর করা হয়।

সেই থেকে সারা বিশ্বে ‘বিশ্বভালবাসা দিবস’ পালন করা হয়।

Manual7 Ad Code

Share





Related News

Comments are Closed

Manual1 Ad Code
Manual6 Ad Code