Main Menu

নাগরিকত্ব ছাড়তে ভিড়: যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ছেন হাজারো মার্কিন নাগরিক

Manual5 Ad Code

বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ত্যাগের প্রবণতা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। দীর্ঘ প্রক্রিয়া, উচ্চ খরচ এবং রাজনৈতিক-সামাজিক অসন্তোষের কারণে অনেক মার্কিন নাগরিক মনে করছেন, নাগরিকত্ব ত্যাগ করা ছাড়া তাদের সামনে আর কোনো পথ খোলা নেই।

বিভিন্ন দেশে বসবাসরত মার্কিন নাগরিকদের অভিজ্ঞতা বলছে, নাগরিকত্ব ছাড়ার প্রক্রিয়া সহজ নয়। লন্ডন, সিডনি বা কানাডার বড় শহরগুলোতে মার্কিন কনসুলেটে আবেদন করতে গেলে ছয় মাস থেকে এক বছরেরও বেশি সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে এই সময়সীমা ১৪ মাস পর্যন্ত গড়াচ্ছে।

দীর্ঘদিন লন্ডনে বসবাস করা মার্গোর মতো অনেকে বাধ্য হয়ে অন্য দেশের কনসুলেটে গিয়ে নাগরিকত্ব ত্যাগের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করছেন। সেখানে শপথ নিয়ে জানাতে হয় যে, তারা স্বেচ্ছায় এই সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন।

Manual7 Ad Code

তথ্য অনুযায়ী, ২০০০-এর দশকে যেখানে বছরে কয়েকশ মানুষ মার্কিন নাগরিকত্ব ত্যাগ করতেন, ২০১৪ সালের পর থেকে সেই সংখ্যা কয়েক হাজারে পৌঁছেছে। যুক্তরাষ্ট্র সরকার নাগরিকত্ব ত্যাগের ফি ২,৩৫০ ডলার থেকে কমিয়ে ৪৫০ ডলারে নামিয়ে আনার পর ২০২৪ সালে এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এর পেছনে অন্যতম কারণ যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিভাজন ও বিতর্কিত সিদ্ধান্তগুলো। ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর নির্বাচনে জয় এবং পরবর্তী রাজনৈতিক পরিস্থিতি অনেকের মধ্যে হতাশা তৈরি করেছে। কানাডা প্রবাসী মেরি জানান, ২০১৬ সালের নির্বাচনের রাতই ছিল তার জন্য মোহভঙ্গের মুহূর্ত।

এছাড়া অ্যামি কোনি ব্যারেট-কে সুপ্রিম কোর্টে নিয়োগ দেওয়ার ঘটনাও অনেকের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছে। ফিনল্যান্ডে বসবাসরত পল বলেন, এই ঘটনাই তাকে নাগরিকত্ব ত্যাগের সিদ্ধান্ত নিতে প্রভাবিত করেছে।

Manual4 Ad Code

আরেকটি বড় কারণ হলো কর ব্যবস্থা। বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় যুক্তরাষ্ট্র তার নাগরিকদের ওপর ‘নাগরিকত্ব-ভিত্তিক’ কর আরোপ করে, তারা পৃথিবীর যেখানেই থাকুক না কেন। এই জটিল কর ব্যবস্থার কারণে নাগরিকত্ব ত্যাগ করতে গিয়ে অনেককে ৭ থেকে ১০ হাজার ডলার পর্যন্ত ব্যয় করতে হচ্ছে।

এছাড়া নতুন একটি আইন অনুযায়ী ১৮ থেকে ২৫ বছর বয়সীদের জন্য সামরিক বাহিনীতে নিবন্ধন প্রক্রিয়া স্বয়ংক্রিয় করা হয়েছে, যা নিয়ে প্রবাসী পরিবারগুলোর মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

Manual4 Ad Code

তবে সব বাধা পেরিয়ে নাগরিকত্ব ত্যাগ করার পর অনেকেই স্বস্তি অনুভব করছেন। নেদারল্যান্ডসের অ্যামস্টারডামে বসবাসরত মাইকেল বলেন, “আমেরিকার অনেক কিছুই মিস করব, কিন্তু সেখানে আর না ফিরলেও আমার কোনো আফসোস থাকবে না।”

বিশ্লেষকদের মতে, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও সামাজিক নানা কারণে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ত্যাগের এই প্রবণতা ভবিষ্যতে আরও বাড়তে পারে।

Manual5 Ad Code

Share





Related News

Comments are Closed

Manual1 Ad Code
Manual7 Ad Code