Main Menu

বিশ্ব ক্যান্সার দিবস আজ

Manual6 Ad Code

বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: দূরারোগ্য ব্যাধি ক্যান্সার সম্বন্ধে সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষে আজ দেশে পালিত হচ্ছে বিশ্ব ক্যান্সার দিবস। এ উপলক্ষে দেশের বিভিন্নস্থানে অনুষ্ঠিত হবে র‌্যালি, আলোচনা সভাসহ নানা কর্মসূচি। যে রোগটি ছিলো একসময় দূরারোগ্য, বলা হতো ‘ক্যান্সার নেই আনসার’। কিন্তু আজকাল পাল্টে গেছে এই ধারণা। এখন ‘ক্যান্সার মানে ‘অবধারিত’ মৃত্যু নয়। এরও ‘জবাব’ আছে। অর্থাৎ ক্যান্সার আর দূরারোগ্য নয়। এরও চিকিৎসা আছে। বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য হচ্ছে- বেশ কয়েক ধরনের ক্যান্সার প্রতিরোধ করা সম্ভব। আবার অনেক ধরনের ক্যান্সারের উন্নত চিকিৎসাও রয়েছে। তবে সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে, সবার মধ্যে এই ধারণার জন্ম দেয়া যে, ক্যান্সারেরও ‘আনসার’ আছে। মানে ক্যান্সারের বিরুদ্ধেও লড়াই করা যায়।
নানা চড়াই উৎরাই, উত্থান পতন আর বিপত্তির মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয় মানুষের জীবনধারা। অসুখ বিসুখ হচ্ছে তেমনি একটি বিপত্তি। যা জীবনের গতি অনেক সময় আটকে দেয় মাঝপথে। কখনও জীবনের গল্প শুরু না হতেই জীবনকে স্তব্ধ করে দেয় কোনো ঘাতক ব্যাধি। ক্যান্সার একটি ‘মরণব্যাধি’ হিসেবেই পরিচিত। অতীতে, চিকিৎসা বিজ্ঞানের উৎকর্ষ ঘটবে আগে মানুষ ক্যান্সার সম্বন্ধে অবগতই ছিলো না, চিকিৎসাতো দূরের কথা। গবেষণার মাধ্যমে ধীরে ধীরে মানুষ জানতে পারে ক্যান্সার সম্বন্ধে। ক্যান্সারের সুনির্দিষ্ট কারণ এখনও আবিষ্কৃত হয়নি। তবে প্রাথমিকভাবে কিছু কিছু কারণ উদঘাটন করেছেন চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা। তাদের মতে, মানবদেহ তৈরি যেসব কোষ দিয়ে, সেগুলো প্রতিনিয়ত মরে যাচ্ছে আবার নতুন নতুন কোষ জন্ম দিচ্ছে। এই প্রক্রিয়া ঘটছে ধারাবাহিকভাবে। এর মধ্যেই কিছু অস্বাভাবিক কোষের জন্ম হতে পারে। যদিও এই অস্বাভাবিক কোষ ধ্বংস করে দেয়ার ক্ষমতা রয়েছে মানবদেহে। তবে কোনো কারণে যদি সেই কোষ ধ্বংস না হয়, তবে তা থেকে নতুন ধারার কোষের জন্ম হয়। যাকে অনেক সময়ই নিয়ন্ত্রণ করা যায় না। আর এই অনিয়ন্ত্রিত কোষ থেকেই ক্যান্সারের জন্ম হয়।
গবেষণায় দেখা গেছে, আমাদের জীবনাচারে সতর্কতা অবলম্বনের মাধ্যমে ক্যান্সারের ঝুঁকি কমানো যায়। দেখা গেছে, দৈনন্দিন চলাফেরা, আচার-আচরণ, খাদ্যাভ্যাস, ধূমপান ও তামাকের ব্যবহার, বিয়ে ও বাচ্চা নেয়ার সঠিক সময়, বাচ্চাকে বুকের দুধ খাওয়ানো, শিল্পকারখানা ও পরিবেশগত কিছু কারণ, অন্যান্য কিছু রোগ, ভাইরাস, জীবাণু এগুলোর সঙ্গে অনেক ক্যান্সারের সম্পর্ক রয়েছে। অনেক ক্যান্সার বংশগত ও জন্মগত কারণেও হয়ে থাকে। উল্লিখিত বিষয়ে সতর্ক থাকলে এক তৃতীয়াংশ ক্যান্সার থেকে দূরে থাকা যায়। আর বাকি দুই তৃতীয়াংশ ক্যান্সার সরাসরি প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়। তার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার মাধ্যমে প্রতিকার করা সম্ভব। তবে এর জন্য সচেতনতা গড়ে তুলতে হবে। ব্যক্তি পর্যায়ে তো অবশ্যই সামাজিকভাবেও যাতে সচেতনতা গড়ে ওঠে তার ব্যবস্থা করতে হবে।
আসল কথা হলো, কোনো রোগ হওয়ার আগে তা প্রতিরোধ করাই বুদ্ধিমানের কাজ। আর যেহেতু ক্যান্সারের চিকিৎসা ব্যয়বহুল ও অনেক ক্যান্সার চিকিৎসায় পুরোপুরি নিরাময়যোগ্য নয়, তাই ক্যান্সার যাতে না হয় সেদিকেই নজর দিতে হবে বেশি। এদেশে বেশির ভাগ ক্যান্সার রোগীর পক্ষে চিকিৎসার ব্যয় বহন করা সম্ভব হয় না। তাই অনেক দরিদ্র রোগীর পরিণতি বিনা চিকিৎসায় অসহায়ভাবে মৃত্যুর প্রহর গোনা। আর সম্পদশালীরা দেশে বা বিদেশে গিয়েও উন্নত চিকিৎসা নেয়ার সুযোগ পাচ্ছে। তাছাড়া, আমাদের দেশে ক্যান্সারের চিকিৎসাও খুব একটা উন্নত হয়নি। আর চিকিৎসায় অনেক সময় ত্রুটিরও অভিযোগ রয়েছে। দেশে ক্যান্সারের উন্নত ও স্বল্প মূল্যে চিকিৎসার ব্যবস্থা করার দায়িত্ব সরকারের। বেসরকারি পর্যায়ের চিকিৎসাকেন্দ্রগুলোতেও ক্যান্সারের চিকিৎসা সহজলভ্য করা দরকার। আজকের বিশ্ব ক্যান্সার দিবসের স্লোগান হোক-সর্বাত্মক সচেতনতাই ক্যান্সারকে প্রতিরোধ করতে সক্ষম।

Share





Related News

Comments are Closed

Manual1 Ad Code
Manual8 Ad Code