Main Menu

কোম্পানিগঞ্জে টিলা ধসে শ্রমিক নিহতের ঘটনায় তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল

Manual6 Ad Code

বৈশাখী নিউজ ২৪ ডটকম: সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার শাহ আরপিন সংলগ্ন মটিয়া টিলা ধসে ৫ জনের প্রাণহানির ঘটনায় জেলা প্রশাসন গঠিত তদন্ত কমিটির রিপোর্ট দাখিল হয়েছে।
শুক্রবার রাত সাড়ে ৮টায় সিলেটের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) এবং তদন্ত কমিটির প্রধান আবু সাফায়াত মুহাম্মদ শাহেদুল ইসলাম জেলা প্রশাসক মো: জয়নাল আবেদীনের কাছে তদন্ত রিপোর্ট দাখিল করেন। তদন্ত রিপোর্টে ৪৭ জন পাথরখেকোকে চিহ্নিত করা হয়েছে। পাশাপাশি এ ঘটনায় কোম্পানীগঞ্জের ইউএনও ও ওসির গাফিলতি রয়েছে বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে।
এডিএম আবু সাফায়াত মুহাম্মদ শাহেদুল ইসলাম সাংবাদিকদেও জানান, ১১৬ পৃষ্টার তদন্ত রিপোর্টে এ টিলা ধ্বংসের সাথে জড়িতদের একটি তালিকা করা হয়েছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, শাহ আরপিন খানকা শরীফের খাদেম এবং ইজারাদার এ টিলা ধ্বংসের সাথে জড়িত বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি বলেন, ইজারাদার ভূমি মন্ত্রণালয় থেকে মাত্র ২৫ একর ভূমি লিজ নেন। লিজ বাবদ ২০০৪ সালে কিছু অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেন। কিন্তু, তিনি এবং তার সিন্ডিকেট পুরো টিলার ১৩৭ একর ভূমি ভোগ করেছেন। এর মাধ্যমে তারা বিপুল অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে।
এডিএম বলেন, ২৩ জানুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টায় ঘটনা ঘটলেও কোম্পানীগঞ্জের ইউএনও মাছুম বিল্লাহ এবং ওসি বায়েস আলম দুপুর সাড়ে ১২টায় ঘটনাস্থলে যান। এ ঘটনায় পরদিন কোম্পানীগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করা হলেও গর্ত মালিক আঞ্জু মিয়াকে গ্রেফতার করা হয়নি। রিপোর্টে বলা হয়, আঞ্জু মিয়া ২৩ জানুয়ারি বিকাল সাড়ে ৩টা থেকে পরদিন বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত সিলেট নগরীর গুলশান হোটেলে অবস্থান করেন। পাশাপাশি ২৫, ২৬ ও ২৭ জানুয়ারি নগরীর সোবহানীঘাটসহ আরো কিছু এলাকায় অবস্থান করে। এরপরও পুলিশ তাকে গ্রেফতার করেনি। পাশাপাশি গত ৪ বছরে টিলা ধসে অন্তত ১৭ জনের প্রাণহানি হলেও এ বিষয়ে কোম্পানীগঞ্জ থানায় কোন রেকর্ড নেই। টিলা ধসের এ ঘটনায় ইউএনও এবং ওসির কোন গাফিলতি রয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখার বিষয়ে তদন্ত রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি এও বলেন, ২০০৪ সাল থেকে কারা এ টিলায় ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে এ ব্যাপারে তদন্ত রিপোর্টে সবিস্তারে উল্লেখ করা হয়েছে।
গত ২৩ জানুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টায় শাহ আরপিনে টিলা ধসে ৫ জনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় এডিএমকে প্রধান করে জেলা প্রশাসন এক সদস্যের এবং সিলেটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবুল হাসনাত খানকে প্রধানকে তিন সদস্যের পৃথক দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি গঠনের ১১ দিনের মাথায় জেলা প্রশাসনের তদন্ত কমিটি রিপোর্ট জমা দিল। এ ঘটনার পরদিন কোম্পানীগঞ্জ থানার এস আই তরিকুল ইসলাম বাদী হয়ে গর্ত মালিক আইয়ুব আলী, সোহরাব হোসেন, আঞ্জু মিয়া, চেরাগ আলী ও জাহাঙ্গীর হোসেনসহ অজ্ঞাতনামা আরো কয়েকজনের বিরুদ্ধে দন্ডবিধির- ৪৪৭/৩৭৯/২৮৭/৩০২/২০১/১০৯/৩৪ ধারায় একটি মামলা দায়ের করেন।

Share





Related News

Comments are Closed

Manual1 Ad Code
Manual6 Ad Code