Main Menu

‍‌২০১০ সালের শিক্ষানীতি বাস্তবায়নের দাবি

বৈশাখী নিউজ ২৪ ডটকম: ২০১০ সালের শিক্ষানীতি পাশ কাটিয়ে যাওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন বিসিএস সাধারণ শিক্ষা সমিতি সিলেট ইউনিটের নেতৃবৃন্দ। তারা বলেছেন, সরকারের ২৯টি গ্রেডের মধ্যে ২৮টি গ্রেডেই এক রকম নিয়ম আর বিসিএস ক্যাডারদের জন্য আলাদা নিয়ম। যা শিক্ষা ক্যাডার তথা সামগ্রিক শিক্ষা ধ্বংসের সামিল।
সোমবার বেলা ১১টায় সিলেট সরকারি মহিলা কলেজে আয়োজিত সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে শিক্ষক নেতারা এসব অভিযোগ করেন। নেতৃবৃন্দ তাদের দাবি দ্রুত বাস্তবায়ন না করলে শিক্ষা ক্যাডারের ১৫ হাজার সদস্য নিয়ে কঠোর কর্মসূচি ঘোষনার হুশিয়ারিও করেন।
‘বিসিএস ছাড়া ক্যাডার সার্ভিস নয়’-এই দাবিতে কর্মসূচি পালন করে যাচ্ছে বিসিএস সাধারণ শিক্ষা সমিতি। ধারাবাহিক কর্মসূচির অংশ হিসেবে সোমবার সিলেটের সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় করেন শিক্ষক নেতারা। এ সময় লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সচিব সাব্বির আহমদ।
লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, দেশব্যাপী জাতীয়করণ হওয়া বিভিন্ন কলেজের শিক্ষকদের বিসিএস শিক্ষা ক্যাডার হিসেবে অন্তর্ভুক্তি মানবে না বিসিএস সাধারণ শিক্ষা সমিতি। নতুন করে জাতীয়করণ হওয়া শিক্ষকদের ননক্যাডার হিসেবে গণ্য করতে হবে। ওই কলেজের শিক্ষকদের চাকরি শুধু জাতীয়করণ হওয়া কলেজেই সীমাবদ্ধ রাখতে হবে। বক্তব্যে ২০১০ সালের শিক্ষানীতির উদৃতি দিয়ে বলা হয়, ওই নীতি অনুযায়ী বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সরকারিকরণের জন্য সুনির্দিষ্ট নীতিমালা থাকা, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারিদের চাকরি সংক্রান্ত বিধি-বিধান এবং কর্মকমিশনের মাধ্যমে নিয়োগ করা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের স্বার্থ সংরক্ষণের ব্যবস্থার কথা বলা হয়েছে। নীতিমালা অনুযায়ী জাতীয়করণকৃত শিক্ষকদের ক্যাডারভূক্ত হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। অথচ বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারদের দাবি বাস্তবায়ন নিয়ে টালবাহানা করা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অনুশাসন ও জাতীয় শিক্ষানীতি ২০১০ সালের সুস্পস্ট নির্দেশনা থাকার পরও কর্তৃপক্ষ বিধিমালা প্রনয়ন না করায় উদ্বেগ প্রকাশ করে শিক্ষক নেতারা আরও জানান, তারা শিক্ষা ক্যাডারের স্বার্থ ও মর্যাদা রক্ষায় বদ্ধ পরিকর। ৬ মাস ধরে দাবি বাস্তবায়নে নানা কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। শিক্ষামন্ত্রীর কাছে লিখিত আবেদন করা হয়েছে। কর্যকর প্রদক্ষেপ নিতে গত ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত মাউশিকে সময় দেওয়া হয়েছিল। মাউশি থেকে খসড়া নীতিমালা মন্ত্রনালয়ে প্রেরণ করা হলেও উল্লেখ করার মতো কোনো অগ্রগতি হয়নি।
সমিতির নেতারা বলেন, যারা বিসিএস পরীক্ষা দিয়ে শিক্ষকতায় এসেছেন তারা বেশ কয়েকটি ধাপে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে বিসিএস ক্যাডারে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন। কিন্তু নতুন করে জাতীয়করণ হওয়া শিক্ষকরা ক্যাডারে অন্তর্ভুক্ত হলে বর্তমানের শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তারা জ্যেষ্ঠতা হারিয়ে ফেলবেন।
বিসিএস সাধারণ শিক্ষা সমিতি সিলেট জেলা শাখার যুগ্ম সম্পাদক প্রতাপ চৌধুরীর পরিচালনায় মতবিনিময়কালে বক্তব্য দেন, মহিলা কলেজের উপাধ্যক্ষ অধ্যাপিকা ফাহিমা জিন্নরাইন, জেলা সভাপতি আবুল কালাম মো. রিয়াজ ও এমসি কলেজ সভাপতি অরুন চন্দ্র পাল। জেলা কমিটি ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, জেলা সহ সভাপতি আনজুমানারা বেগম, সরকারি কলেজের আমিরুল ইসলাম, মহিলা কলেজের ড. আব্দুল কাদির, আলিয়া মাদ্রাসার শাহ শহীদুল ইসলাম, নুরুল আমিন, এমসি কলেজের জিবুল রহমান, হেলাল উদ্দিন, জামাল উদ্দিন, মোছাদ্দেক হোসেন খান, শোয়েব আহমদ খান, সুজিত চন্দ্র দত্ত, সাগর বিশ্বাস, দিলীপ চন্দ্র রায়, তাহমিনা আক্তার, অনুপা নাহার ওয়ালেদা, জান্নাতুল ফেরদৌস, বদরুজ্জামান, আনোয়ার হোসেন, সুহেল আহমদ, রিংকু তালুকদার, শাহানা আক্তার, সফিকুল ইসলাম, মাসুদ পারভেজ প্রমুখ।

Share





Related News

Comments are Closed