জকিগঞ্জে কলেজ ছাত্রীর ওপর হামলাকারীর ভাই আটক
বৈশাখী নিউজ ২৪ ডটকম: সিলেটে জকিগঞ্জে কলেজ ছাত্রীর ওপর হামলাকারীর ভাইকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে পুলিশ। তার নাম নাসির উদ্দিন। সে রসুলপুর গ্রামের আব্দুল গফুরের ছেলে। সোমবার ভোরে তাকে আটক করা হয়।
সিলেটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও মিডিয়া অফিসার সুজ্ঞান চাকমা জানান, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নাসিরকে আটক করা হয়েছে। পুলিশ হামলাকারী বাহারকে গ্রেফতারের চেষ্টা চালাচ্ছে।
গত রোববার দুপুরে জকিগঞ্জের ইছামতি ডিগ্রি কলেজের এইচএসসি প্রথম বর্ষের ছাত্রী ঝুমা বেগম সুমাকে রসুলপুর গ্রামের রাস্তার পাশে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে আহত করে বখাটে বাহার। মেয়েকে রক্ষায় এগিয়ে এসে তার মা করিমা বেগমও আহত হন। তাদেরকে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চতুর্থ তলার সার্জারি ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছে। বর্তমানে হাসপাতালে তার চিকিৎসা চলছে।
যে কারণে কোপানো হয় কলেজছাত্রী ঝুমাকে!
প্রায় বছর তিনেক ধরে জকিগঞ্জের কলেজছাত্রী ঝুমা বেগমকে উত্যক্ত করে আসছে একই এলাকার ইলেকট্রিক মিস্ত্রী বাহার উদ্দিন। ঝুমাকে বিয়ের প্রস্তাবও দেয় সে। এতে রাজী না হওয়ায় রোববার দুপুরে প্রকাশ্য ঝুমাকে কুপিয়ে আহত করে বাহার।
হামলার শিকার ঝুমা, তাঁর আত্মীয়স্বজন ও ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীরা এমনটি জানিয়েছেন।
আহত ঝুমা ওসমানী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। তিনি শঙ্কামুক্ত বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। হামলাকারী বাহারউদ্দিনকে এখনো আটক করতে পারেনি পুলিশ।
ঝুমা বেগম জকিগঞ্জের ইছামতি ডিগ্রি কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্রী ও উপজেলার রসুলপুর গ্রামের মুসলিম উদ্দিনের মেয়ে। আর বখাটে বাহার একই এলাকার আবদুল গফুর পচনের ছেলে।
ওসমানী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ঝুমা বেগম বলেন, গত বছর দেড়েক ধরে তাঁকে বিয়ের প্রস্তাব দিয়ে নানাভাবে বিরক্ত করে আসছিলেন বাহার উদ্দিন। কিন্তু তিনি বাহারের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় রোববার তাঁর উপর হামলা চালায় সে। তাঁকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে তাঁর মায়ের উপরও হামলা চালানো হয়।
ঝুমার মা করিমা বেগম বলেন, সকালে ছোট ছেলেকে স্কুলে ভর্তি করতে ঝুমাকে নিয়ে বের হন তিনি। পথে একই গ্রামের আব্দুল গফুরের ছেলে বাহার উদ্দিন (২২) গতিরোধ করে ধারালো অস্ত্র দিয়ে ঝুমাকে আঘাত করে পালিয়ে যায়।
বাহার তিন বছর ধরে ঝুমাকে উত্ত্যক্ত করে আসছে জানিয়ে তিনি বলেন, সম্প্রতি বিয়ের প্রস্তাব দিলে ঝুমা রাজি না হওয়ায় প্রস্তাব ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রোববার দুপুরে ছোট ভাইকে স্কুলে ভর্তি করাতে নিয়ে যাওয়ায় পথে কালীগঞ্জ বাজার এলাকায় সুরমা নদীর তীরে ঝুমার ওপর হামলা চালায় বাহার। সে তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপাতে শুরু করে। মেয়ের এ অবস্থা দেখে মা করিমা বেগম বাঁচাতে এগিয়ে গেলে তাকেও জখম করা হয়। মা ও মেয়ের চিৎকারে পার্শ্ববর্তী কালীগঞ্জ বাজার থেকে মানিকপুর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আবদুল কাদিরসহ অন্যরা এগিয়ে এলে বাহার পালিয়ে যায়। গুরুতর আহত ঝুমা বেগমকে উদ্ধার করে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ওই কলেজছাত্রীর জরুরি অস্ত্রোপচার করা হয়। তিনি বর্তমানে ওই হাসপাতালের চতুর্থ তলার চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক মাসুদ হোসেন বলেন, ঝুমার বাঁ হাতে ও পেটে ধারালো অস্ত্রের আঘাত রয়েছে। তার হাতে ১৯টি সেলাই দেওয়া হয়েছে। মা করিমা বেগমকেও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
ঝুমার চাচাতো ভাই আবদুল হাছিব বলেন, বাহার অনেক দিন ধরে ঝুমাকে উত্ত্যক্ত করে আসছিল।
মানিকপুর ইউপি সদস্য আবদুল কাদির বলেন, বিয়ের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় বাহার প্রকাশ্যে ঝুমাকে কুপিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে গ্রামে সালিশও হয়েছে।
সিলেটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুজ্ঞান চাকমা বলেন, বাহার নামের এক বখাটে ছেলে কলেজছাত্রীকে কুপিয়েছে বলে জানতে পেরেছি। তাকে ধরার জন্য চেষ্টা চলছে।
এর আগে গত ৩ অক্টোবর সিলেট নগরীর এমসি কলেজে প্রকাশ্যে কুপিয়ে আহত করা হয় কলেজ ছাত্রী খাদিজা বেগম নার্গিসকে। প্রেমের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ নেতা বদরুল আলম তাকে কুপিয়ে আহত করে। দেশজুড়ে আলোচনার ঝড় ওঠা খাদিজার উপর হামলার ঘটনার রেশ না কাটতেই প্রায় একই কারণে সিলেটের আরেক কলেজ ছাত্রীর উপর হামলার ঘটনা ঘটলো।
Related News
বিশ্বনাথে একই স্থানে দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি, ১৪৪ ধারা জারি
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সিলেটের বিশ্বনাথ পৌরশহরের কলেজ রোডের ডাকবাংলো ও আশপাশের এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতিRead More
গোয়াইনঘাটে মানবপাচারকারী চক্রের ৪ সদস্য আটক, তরুণী উদ্ধার
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সিলেটের গোয়াইনঘাটে পুলিশের বিশেষ অভিযানে মানবপাচারকারী চক্রের চার সক্রিয় সদস্যকে আটক করাRead More



Comments are Closed