২০১৬ সালে রেমিট্যান্স কমেছে ১১ শতাংশ
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: ২০১৬ সালে প্রবাসীরা যে পরিমাণ রেমিট্যান্স পাটিয়েছে, তা আগের বছরের তুলনায় ১১ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী বছরে প্রবাসীরা ব্যাংকিং চ্যানেলে এক হাজার ৩৬১ কোটি ডলারের সমপরিমাণ রেমিট্যান্স দেশে পাঠিয়েছে। আর ২০১৫ সালে দেশে রেমিট্যান্স এসেছিল এক হাজার ৫৩১ কোটি ২১ লাখ ডলার, যা ২০১৪ সালে আসা রেমিট্যান্স থেকে ৩৬ কোটি ৯৫ লাখ ডলার বা ২.৪৭ শতাংশ বেশি।
এর আগে প্রায় এক যুগ পর ২০১৩ সালে রেমিট্যান্স কমে গিয়েছিল। ওই বছর ৩৪ কোটি ডলার বা ২.৩৯ শতাংশ রেমিট্যান্স কম এসেছিল। দেশে কার্যরত তফসিলি ব্যাংকগুলোর কাছ থেকে নেওয়া প্রবাসী আয়ের তথ্যের আলোকে বাংলাদেশ ব্যাংক অর্থবছর ধরে রেমিট্যান্সের হিসাব করে। সেই হিসাব থেকে বার্ষিক এ তথ্য তুলে আনা হয়েছে।
বার্ষিক হিসাব ছাড়াও অর্থবছরের হিসাবেও রেমিট্যান্স কমেছে। চলতি ২০১৬-১৭ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে (জুলাই-ডিসেম্বর) রেমিট্যান্স এসেছে ৬১৬ কোটি ৬৮ লাখ ডলার। যা এর আগের ২০১৫-১৬ অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ১৭.৬৩ শতাংশ কম। ২০১৫-১৬ অর্থবছরের জুলাই-ডিসেম্বর সময়ে রেমিট্যান্স এসেছিল ৭৪৮ কোটি ৭১ লাখ ডলার।
এদিকে একক মাস হিসেবে গত ডিসেম্বরে রেমিট্যান্স এসেছে মাত্র ৯৫ কোটি ৮৭ লাখ ডলার। গত নভেম্বরে রেমিট্যান্স এসেছিল ৯৫ কোটি ১৩ লাখ ডলার। গত পাঁচ বছরে আর কোনো মাসে এত কম রেমিট্যান্স আসেনি। সর্বশেষ ২০১১ সালের নভেম্বরে প্রবাসীরা ৯০ কোটি ডলার দেশে পাঠিয়েছিল। এ ছাড়া সব মাসে গড়ে ১০০ কোটি ডলারের বেশি রেমিট্যান্স দেশে এসেছে।
ব্যাংক কর্মকর্তারা বলছেন, ডলারের বিপরীতে অনেক দেশের মুদ্রা বিনিময় হার কমে যাওয়ার কারণে আগের মতো অর্থ পাঠাতে আগ্রহ পাচ্ছে না প্রবাসীরা। তা ছাড়া বিশ্ববাজারে তেলের দর পড়ে যাওয়ার পর থেকে মধ্যপ্রচ্যোর অনেক দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা সুবিধাজনক অবস্থানে না থাকায় সেখানকার শ্রমিকদের কাজের সুযোগ ও আয় কমে গেছে। এর বাইরে হুন্ডি কারবারিরা কৌশলে দেশের জনপ্রিয় মোবাইল ব্যাংকিংয়ের সাইনবোর্ড টানিয়ে অবৈধ উপায়ে অর্থ সংগ্রহ করে তা দেশে পাঠাচ্ছে। বিশেষ করে ছোট আকারের রেমিট্যান্স এ উপায়ে আহরণ করে এখানকার এজেন্টের যোগসাজশে তা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে সুবিধাভোগীর কাছে। এসব কারণেও ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স কমছে।
ব্যুরো অব ম্যানপাওয়ার অ্যান্ড এমপ্লয়মেন্ট ট্রেনিং বা বিএমইটির পরিসংখ্যান অনুযায়ী বিদায়ী ২০১৬ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত সাত লাখের বেশি জনশক্তি রপ্তানি হয়েছে। এর আগে ২০১৫ সালে পাঁচ লাখ ৫৫ হাজার জনশক্তি রপ্তানি হয়। ২০১৪ সালে রপ্তানি হয় চার লাখ ২৫ হাজার এবং ২০১৩ সালে হয় চার লাখ ৯ হাজার। সেই হিসাবে ২০১৩ সালের পর আবারও জনশক্তি রপ্তানি বাড়লেও রেমিট্যান্সে তার প্রভাব এখনো পড়তে শুরু করেনি।
তা ছাড়া আগে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোসহ বিশ্বের যে পাঁচটি দেশ থেকে সবচেয়ে বেশি রেমিট্যান্স আসে সেই দেশগুলো থেকেও সম্প্রতি রেমিট্যান্স কম আসছে। সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যায়, রেমিট্যান্স আহরণের শীর্ষ দেশ সৌদি আরব থেকে গত জুলাই থেকে নভেম্বর পর্যন্ত পাঁচ মাসে রেমিট্যান্স আসে ৯৬ কোটি ৩৮ লাখ ডলার। আগের অর্থবছরের একই সময়ে দেশটি থেকে রেমিট্যান্স এসেছিল ১২৫ কোটি ডলার। পাঁচ মাসে সৌদি আরব থেকে রেমিট্যান্স কমেছে ২৯ কোটি ডলার, যা ২২.৮৫ শতাংশ।
আলোচ্য পাঁচ মাসে রেমিট্যান্স আহরণে দ্বিতীয় শীর্ষ দেশ সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে আসে ৮৭ কোটি ৪১ লাখ ডলার। আগের অর্থবছরের একই সময়ে এসেছিল ১১০ কোটি ডলার। একই সময়ের তুলনায় রেমিট্যান্স কমেছে ২৩ কোটি ডলার, যা ২১ শতাংশ।
রেমিট্যান্স প্রেরণে তৃতীয় অবস্থানে থাকা যুক্তরাষ্ট্র থেকে গত জুলাই থেকে নভেম্বর পর্যন্ত পাঁচ মাসে রেমিট্যান্স এসেছে ৬৮ কোটি ডলার। আগের অর্থবছরের একই সময়ে দেশটির প্রবাসীরা পাঠিয়েছিল ১০৫ কোটি ডলার। এ হিসাবে পাঁচ মাসে দেশটি থেকে ৩৭ কোটি ডলার বা ৩৫ শতাংশ রেমিট্যান্স কম এসেছে।
রেমিট্যান্স আয়ের দিক থেকে যুক্তরাষ্ট্রের পরে থাকা চতুর্থ দেশ মালয়েশিয়া থেকে আলোচ্য পাঁচ মাসে ৫১ কোটি ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। আগের অর্থবছরের একই সময়ে এসেছিল ৫৪ কোটি ডলার। আর পঞ্চম অবস্থানে থাকা কুয়েত থেকে এসেছে ৪২ কোটি ৩৪ লাখ ডলার। আগের অর্থবছরের একই সময়ে এসেছিল ৪১ কোটি ৯০ লাখ ডলার।
সব মিলিয়ে এই পাঁচ দেশ থেকে এসেছে ৩৪৫ কোটি ডলার। আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় যা ৯১ কোটি ৭৭ লাখ ডলার বা ২১ শতাংশ কম। আগের অর্থবছরের এই সময়ে এসব দেশ থেকে ৪৩৭ কোটি ডলার রেমিট্যান্স এসেছিল।
Related News
জেট ফুয়েলের দাম কমেছে প্রতি লিটারে ১৯ টাকা ২২ পয়সা
Manual6 Ad Code বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: উড়োজাহাজে ব্যবহৃত জ্বালানি তেল জেট এ-১ বা জেট ফুয়েলেরRead More
এক বছরে ১,৫৭০ কোটি টাকা ভ্যাট আদায় করল সিলেট কমিশনারেট
Manual1 Ad Code বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: ২০২৫-২৬ অর্থবছরে মূল্য সংযোজন কর (মূসক) খাতে রাজস্ব আদায়েRead More



Comments are Closed