বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী উৎসব ও ব্যবসায়ী সম্মেলনের উদ্বোধন
মৌলভীবাজার প্রতিনিধি: বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা বলেছেন, বাংলাদেশে আইন ব্যবসায়ী বান্ধব। ব্যবসায়ীদের বিনিয়োগ অনুকূল পরিবেশ রক্ষায় বাংলাদেশের আইনী ব্যবস্থায় ইতিবাচক অনেক সংস্কার করা হয়েছে। তিনি বলেন, বিচার বিভাগের একজন হিসেবে আমি বিদেশী বিনিয়োগকারীদের আশ্বস্ত করতে পারি, আইনী জটিলতার কারণে বাংলাদেশে বিদেশী বিনিয়োগ কখনোই বাধাগ্রস্ত হয় না বা হবেও না। প্রধান বিচারপতি বলেন, এদেশে আমলাতান্ত্রিক ব্যবস্থার কারণে বিনিয়োগে অনেকে দীর্ঘসূত্রতার সৃষ্টি হয়। এ সমস্যা দূর করতে ব্যবসায়ী, প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে এগিয়ে আসতে হবে।
বৃহস্পতিবার বিকেলে মৌলভীবাজার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে উৎসব ও সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে বাণিজ্যিক ও সাংস্কৃতিক আদান প্রদান বৃদ্ধির লক্ষ্যে দি মৌলভীবাজার চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি তিনদিনের এই উৎসবের আয়োজন করেছে। সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন মৌলভীবাজার চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মো. কামাল হোসেন। সম্মেলনে প্রধান বক্তা ছিলেন ভারতের ত্রিপুরার বাণিজ্য, শিক্ষা, শিল্প ও আইনমন্ত্রী তপন চক্রবর্তী।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা আরো বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে দ্বি-পাক্ষিক বাণিজ্যের বিশাল সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে ভারতের উত্তর-পূর্ব অঞ্চলের ৭টি রাজ্যের ভৌগলিক অবস্থানের কারণে সেখানকার অধিবাসীরা নানা নাগরিক সুযোগ থেকে বঞ্চিত। বাংলাদেশ থেকে পণ্য রফতানী বৃদ্ধি পেলে ঐ ৭ রাজ্যের অধিবাসীরা সহজে মান সম্মত পণ্য পেতে পারেন। তিনি বলেন, সম্ভাবনা সত্বেও বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ট্যারিফ-নন ট্যারিফ বাধার কারণে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যিক সমতা প্রতিষ্ঠিত হয়নি। ভারত থেকে বাংলাদেশ যে পরিমাণ পণ্য আমদানী করে, রপ্তানী করে তার চেয়ে অনেক কম। অথচ, বাংলাদেশে উৎপাদিত অনেক পণ্য ভারতের চাহিদা পূরণ করতে পারে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বিদ্যুৎ সমন্বয়ের লক্ষ্যে দ্বি-পাক্ষিক সহযোগিতার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এর ফলে, ত্রিপুরায় পালাটানা বিদ্যুৎ কেন্দ্রে উৎপাদিত বিদ্যুৎ আসবে বাংলাদেশে আর বাংলাদেশের খুলনায় উৎপাদিত বিদ্যুৎ থেকে কিছু সুবিধা পাবে ভারত। এভাবে শিল্প ও বাণিজ্যের অন্যান্য ক্ষেত্রে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা বাড়লে দু’দেশই উপকৃত হবে।
প্রধান বিচারপতি বাংলাদেশ ও ভারতের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যিক সহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে যৌথ উদ্যোগে আর্ন্তজাতিক বাণিজ্য ও সমুদ্রসীমা বিরোধের লক্ষ্যে একটি আরবিট্রেশন সেন্টার গঠনের প্রস্তাব করেন। দু’দেশের ব্যবসায়ীসহ বাণিজ্য সংশ্লিষ্টদের সমসাময়িক বাণিজ্য সংশ্লিষ্ট পদ্ধতি, আইন ও বিধির ব্যাপারে দক্ষ করে তুলতে একটি বাংলাদেশ ও ভারতের যৌথ উদ্যোগে একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র গঠনেরও প্রস্তাব করেন তিনি।
প্রধান বিচারপতি দু’দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরো জোরদার করতে ভারতের ভিসা সংক্রান্ত জটিলতা নিরসন ও দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ঘাটতি কমানের উদ্যোগ গ্রহণের জন্য উভয় দেশের ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ ও সরকারের প্রতি আহবান জানান।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন-অভ্যন্তরীন সম্পদ বিভাগের সিনিয়র সচিব ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান নজিবুর রহমান, সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি অব পুলিশ কামরুল আহসান, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এডভোকেট মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ ও সদস্য মো. রফিকুর রহমান, সিলেট চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি সালাউদ্দিন আলী আহমদ, মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসক মো. তোফায়েল ইসলাম, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শাহ জালাল, মহিলা এমপি সাবিহা নাহার বেগম, মৌলভীবাজার পৌর মেয়র মো. ফজলুর রহমান, নারী উদ্যোক্তা আয়েশা আক্তার ডালিয়া, জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি কামাল উদ্দিন চৌধুরী, দৈনিক উত্তর ত্রিপুরার সম্পাদক ও মৈত্রী উৎসব উদ্যাপন পরিষদের সমন্বয়ক মোহিত পাল প্রমুখ।
এর আগে প্রধান অতিথি ও অতিথিবৃন্দ স্থানীয় শহীদ মিনারে মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও এক মিনিট নীরবতা পালন করেন।
সম্মেলনে মৌলভীবাজার জেলার পর্যটন, খনিজ ও প্রাকৃতিক সম্পদ এবং শিল্প সম্ভাবনার উপর নির্মিত একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। পরে অতিথিদের সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়েছে। রাতে দুই দেশের শিল্পীদের অংশগ্রহণে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয়েছে।
অনুষ্ঠানে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, বাংলাদেশে বর্তমানে বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। বর্তমান সরকার এফডিআই বা সরাসরি বিদেশী বিনিয়োগ উৎসাহিত করতে সব ধরণের সহযোগিতা দিচ্ছে। স্পেশাল ইকোনমিক জোন, আইসিটি পার্কসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশে বিনিয়োগের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। ভারতের ব্যবসায়ীরা নিজস্ব উদ্যোগে অথবা বাংলাদেশী ব্যবসায়ীদের সাথে এসব খাতে যৌথ বিনিয়োগ করলে সরকার সব ধরণের সহযোগিতা প্রদানে প্রস্তুত রয়েছে।
সিলেট চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি সালাহ উদ্দিন আলী আহমেদ বলেন, বৃহত্তর সিলেটে ভারতীয় ব্যবসায়ীদের বিনিয়োগের বিপুল সম্ভাবনা বিরাজ করছে। বিশেষ করে সিলেটের পার্শ্ববর্তী মেঘালয় ও ত্রিপুরাসহ ভারতের সেভেন সিস্টারের বাজারে পণ্য বিপণনে ভারতের ব্যবসায়ীরা সিলেট অঞ্চলকে গেটওয়ে হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন। উত্তর-পূর্ব ভারতে বাংলাদেশের পণ্য রপ্তানী সহজ করলে সিলেট অঞ্চলের ব্যবসায়ীরাও উপকৃত হবেন।
Related News
শ্রীমঙ্গলে বাসের ধাক্কায় সিএনজির ৩ যাত্রী নিহত
শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি: মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে যাত্রীবাহী বাস ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে তিনজন নিহত হয়েছেন।Read More
কমলগঞ্জে স্কুলছাত্রীকে আটকে রেখে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, আটক ৩
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে প্রেমের ফাঁদে ফেলে ষষ্ঠ শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে (১৪) পাঁচ দিনRead More



Comments are Closed