Main Menu

ইজতেমায় বিপুল সংখ্যক মুসল্লীর উপস্থিতি

বৈশাখী নিউজ ২৪ ডটকম: সিলেট বিভাগীয় ইজতেমার দ্বিতীয় দিনের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। শুক্রবার ফজরের নামাজের পর ইজতেমার দ্বিতীয় দিনের কার্যক্রম শুরু হয়। এদিকে, শুক্রবার জুমার দিন সকাল থেকে ইজতেমায় বিপুল সংখ্যক মুসল্লী আসতে শুরু করেছেন। সকাল ১১টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত পুরো ইজতেমা মাঠ লোকে লোকারণ্য হয়ে গেছে।
দক্ষিণ সুরমার মোল্লারগাঁও ইউনিয়নের খিদিরপুর মাঠে বৃহস্পতিবার থেকে তিন দিনব্যাপী সিলেট বিভাগীয় ইজতেমা শুরু হয়েছে।
ইজতেমায় যোগ দিতে গত বুধবার থেকে বাস, মিনিবাস, মাইক্রো ও কারযোগে বিভিন্ন জায়গা থেকে আসতে থাকেন ধর্মপ্রাণ মানুষ।
বৃহস্পতিবার বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মুসল্লীদের সমাগম বাড়তে থাকে। সিলেট সুনামগঞ্জ সড়কের বাইপাস রোডের দক্ষিণ সুরমা উপজেলার মোল্লারগাঁও ইউনিয়নের বাইপাস সড়ক সংলগ্ন ইজতেমা ময়দান বৃহস্পতিবার সকালেই ইজতমা মাঠ পুরোটা ভরে গেছে। মহিলাদের জন্য আলাদা প্যান্ডেল না থাকায় ইজতেমায় ইবাদতের উদ্দেশ্যে আসা মহিলারা প্যান্ডেলের পাশের বাড়িগুলোতে অবস্থান করে বয়ান শুনেছেন।
১ম দিন বৃহস্পতিবার বাদ জোহর মাওলানা আব্দুল মতিনের বয়ানের মাধ্যমে তিন দিনব্যাপী তাবলীগ জামাতের ইজতেমার কার্যক্রম শুরু হয়। বাদ আছর বয়ান পেশ করেন মাওলানা আনিছুর রহমান এবং বাদ মাগরিব বয়ান পেশ করেন মাওলানা রবিউল ইসলাম।
১১টি খিত্তায় ডেরা টানিয়ে মুসল্লীরা অবস্থান করছেন। ইজতেমায় অংশ নিতে দু’দিন আগে পৌঁছেছেন বিদেশি মুসল্লিরাও। প্রায় ১৫ লাখ বর্গ ফুট আয়তনের বিশাল প্যান্ডেল নির্মাণসহ ইজতেমা মাঠে বিভিন্ন উপজেলা থেকে আগত মুসল্লীদের জন্য ১১টি খিত্তা ভিত্তিক ওজু-গোসলের জন্য ১১টি ডিপ টিউবওয়েল ও ১২টি জলাধার স্থাপন করা হয়েছে।
নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য বিউবোর পক্ষ থেকে ২টি অস্থায়ী ট্রান্সফরমার স্থাপন করা হয়েছে। নির্মিত হয়েছে ১ হাজার ৮শ’টি অস্থায়ী শৌচাগার। একই সঙ্গে সিভিল সার্জনসহ দাতব্য সংস্থাগুলোর পক্ষ থেকে ইজতেমা ময়দানে মেডিকেল ক্যাম্প খোলা হয়েছে। অসুস্থ মুসল্লিদের খেদমতে রয়েছে আল মারকাজুল খায়েরি আল ইসলামির এম্বুলেন্স। রেডক্রিসেন্টের পক্ষ থেকেও স্বাস্থ্য সেবার জন্য একটি ক্যাম্প খোলা হয়েছে। এছাড়া, কয়েকটি বেসরকারি মেডিকেল কলেজও সেখানে মেডিকেল ক্যাম্প খুলেছে।
তাবলীগ জামায়াতের সর্ববৃহৎ এই আয়োজনের নিরাপত্তার জন্য ইজতেমার ময়দানে রয়েছে আইনশৃংখলা বাহিনীর চার স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা। থাকছে চেক পোস্ট, পিকেট পার্টি, খিত্তা ভিত্তিক পার্টি ও সাদা পোশাকের পুলিশ। এছাড়া র‌্যাব সদস্যরাও স্ট্যান্ডবাই ডিউটি করবেন জানিয়েছেন সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ কমিশনার (মিডিয়া) জেদান আল মুসা। তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সিসি ক্যামেরা লাগানো হয়েছে। সেই সঙ্গে পুলিশ সদস্যরা বাইনোকুইলারের মাধ্যমে পুরো এলাকার ওপর নজরদারি রেখেছে। পুলিশের পক্ষ থেকে সেখানে একটি ক্যাম্প, কন্ট্রোল রুম ও ওয়াচ টাওয়ার নির্মাণ করা হয়েছে বলে জানান তিনি। তিনি জানান, বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই ইজতেমা ময়দানে কয়েক লাখ মুসল্লীর সমাগম হয়েছে। আখেরী মোনাজাতে প্রায় ১০ লাখ মুসল্লীর সমাগম ঘটবে বলে জানান জেদান।
বিশ্ব ইজতেমার সার্বিক ব্যবস্থাপনায় সিলেটের জেলা প্রশাসককে প্রধান করে একটি উপদেষ্টা কমিটি গঠন করা ছাড়াও কয়েকটি উপ-কমিটিও রয়েছে।
প্রথমবারের মতো এবার তাবলীগ জামাতের উদ্যোগে মোল্লারগাঁওয়ে তিনদিন ব্যাপী শুরু হওয়া ইজতেমা ৩১ ডিসেম্বর শনিবার সকালে আখেরী মোনাজাতের মাধ্যমে সমাপ্তি ঘটবে।

Share





Related News

Comments are Closed