Main Menu

বালাগঞ্জের সাবেক মেম্বার রনজিত বৈদ্য কে গ্রেফতারের দাবি

বৈশাখী নিউজ ২৪ ডটকম: মহান মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত সিলেটের বালাগঞ্জ উপজেলার পূর্ব পৈলনপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের গালিমপুর গ্রামের ঐতিহ্য নষ্ট করছেন এলাকার সাবেক ইউপি সদস্য রনজিত বৈদ্য। আওয়ামী লীগের নাম ভাঙ্গিয়ে রনজিত বৈদ্য সাধারণ মানুষকে হয়রানিসহ এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগের নামে প্রায় ৫ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়া, মামলা দিয়ে হয়রানী করার অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করেছেন গালিমপুর গ্রামের জুয়েল দাস, দুলাল দাস, ন্তোষ দাস ও রসরাজ দাসসহ অনেকেই।
সোমবার সিলেট নগরীর জিন্দাবাজারস্থ সিলেট জেলা প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, গালিমপুর গ্রামের অধিকাংশ বাড়িতে বিদ্যুৎ সংযোগ না থাকায় চতুর রনজিত গ্রামের সহজসরল মানুষকে ধোঁকা দিয়ে বিদ্যুৎ দেয়ার কথা বলে আবেদনকারী শতাধিক গ্রাহকের কাছ থেকে অবৈধভাবে ৪২০০ টাকা করে প্রায় সাড়ে ৪ লাখ টাকা আদায় করেন। তিনি ইউপি সদস্য (মেম্বার) থাকাবস্থায় সরকারি প্রকল্পের টাকা আত্মসাৎসহ গ্রামের নিরীহ মানুষদের মামলা-হামলার মাধ্যমে হয়রানি করেছেন।
এ ব্যাপারে সাধারণ গ্রামবাসী সিলেট পল্লি¬ বিদ্যুৎ-১ এর জিএম বরাবরে রনজিত বৈদ্যের বিরুদ্ধে এ সংক্রান্ত অভিযোগ দায়ের করে। এতে পল্লি বিদ্যুৎ সমিতির বালাগঞ্জ জোনাল অফিসের ডিজিএম সরেজমিনে তদন্ত করে রনজিত বৈদ্যের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় ডিজিএম রনজিত বৈদ্য-এর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বালাগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ এর নিকট প্রতিবেদন দাখিল করেন। সাবেক ইউপি সদস্য রনজিত প্রভাবশালী হওয়ায় থানা পুলিশ বিষয়টি গুরুত্ব দেয়নি। পরবর্তীতে এ সংক্রান্ত বিষয়ে আমরা চলতি বছর ৬ অক্টোবর আদালতে মামলা দায়ের করলে আদালত রনজিত বৈদ্যের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির পরও অভিযুক্ত রনজিত বৈদ্য প্রকাশ্য চলাফেরা করে গ্রামে তার বিরুদ্ধে অভিযোগকারী ব্যক্তিদের নানাভাবে নাজেহাল করার চেষ্টা চালিয়ে গেলেও রনজিত বৈদ্যকে গ্রেফতার করছেনা বালাগঞ্জ থানা পুলিশ।
স¤প্রতি তিনি গ্রামবাসীর অনেকেরই স্বাক্ষর জাল করে তাঁর পক্ষে সাফাই গাইয়ে পলিল্লবিদ্যুৎ সমিতি সিলেট-১ এর জিএম বরাবরে গত ২৩ অক্টোবর লিখিত আবেদন প্রদান করে। বিষয়টি আমরা গ্রামবাসী জানতে পেরে স্বাক্ষর জাল ও প্রতারণার অভিযোগ এনে গত ৬ নভেম্বর সিলেট পল্লিবিদ্যুৎ সমিতি সিলেট-১ জিএম বরাবরে আবারও অভিযোগ করেছি। অভিযুক্ত রনজিত বৈদ্য তার নানা অপকর্ম ডাকতে গিয়ে তার বাড়িতে থাকা কল্পনা রাণী সরকারকে দিয়ে গ্রামের সুনামধন্য সাবেক ইউপি সদস্য করুণাময় দাশের বিরুদ্ধে মিথ্যা ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন। এছাড়া তিনি একের পর এক মিথ্যা মামলায় আসামী করে সাধারণ গ্রামবাসিকে অতিষ্ট করে যাচ্ছেন।
পল্লী বিদ্যুৎ কর্তপক্ষ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দেয়ার ৪ মাস অতিবাহিত হলেও থানার ওসি তরিকুল ইসলাম মামলাটি আমলে না নিয়ে উল্টো গ্রামের লোকজনকে থানায় ডেকে নিয়ে অভিযুক্ত রনজিতের পক্ষ নিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও হুমকি দেন। আমরা নিরুপায় হয়ে চলতি বছরের ২৭ জুলাই এ ব্যাপারে সংবাদ সম্মেলন করি। অবশেষে এ ব্যাপারে সিলেট জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট ১ম আদালতে রনজিত বৈদ্যকে আসামী করে মামলা দায়ের করলে আদালত অভিযুক্ত রনজিত বৈদ্যের বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারি করেন। গ্রেফতারী পরোয়ানা জারির পরও রনজিত বৈদ্য প্রকাশ্যে ঘুরাফেরা করে গ্রামের সাধারণ মানুষকে প্রতিদিনই নানাভাবে নাজেহাল করার চেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে। রনজিত বৈদ্যের ভাই অষিত বৈদ্য সরকারী চাকুরীজীবি হওয়া সত্বেও নানা অপকর্মের হোতা রনজিত বৈদ্যের সহযোগি হিসেবে কাজ করে গ্রামবাসীকে দিশেহারা করে তুলেছে। এছাড়া রনজিত বৈদ্যের বাড়ীতে থাকা কল্পনা রাণী সরকারের সাথে অভিযুক্ত রনজিদ বৈদ্যের বড় ভাই অজিত বৈদ্য দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ সম্পর্কর জের ধরে রনজিত বৈদ্য কল্পনা রানী সরকারকে বিভিন্ন প্রলোভনে তার বাড়ীতে রেখে গ্রামের সাবেক মেম্বার করুনাময় দাশের উপর মামলা দায়ের করেন।
আদালত কর্তৃক গ্রেফতারী পরোয়ানা জারীর পর বালাগঞ্জ থানা পুলিশ রনজিতকে গ্রেফতার না করায় রনজিত বৈদ্য আরো বেপোয়া হয়ে উঠেছেন। সে বলে তার বিরুদ্ধে ৭টি ওয়ারেন্ট হলেও পুলিশ আমাকে ধরবে না উল্টো পুলিশ দিয়ে তোদের গ্রামবাসীকে জেলের ভাত খাওয়াব।
চতুর রনজিত বৈদ্য তার এসব অপকর্ম ঢাকা দিতে গ্রামবাসীর একাধিক ব্যাক্তির স্বাক্ষর জাল করে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিরর কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন প্রদান করে সংবাদ সম্মেলন করে প্রকৃত ঘটনাকে আড়াল করার চেষ্ঠা চালিয়ে যাচ্ছে। সর্বোপরী রনজিত বৈদ্য নিজের অপকর্ম ঢাকতে একের পর এক সাজানো নাটক বানিয়ে গ্রামের নিরীহ মানুষদের হয়রানিসহ মহান মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত গালিমপুর গ্রামের ঐতিহ্য নষ্ট করার কাজে সবসময় লিপ্ত রয়েছে। এ ব্যাপারে এলাকার সাধারণ মানুষ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ সংশ্লিষ্ট সকলের সুদৃষ্টি কামনা করেন।

Share





Related News

Comments are Closed