সুনামগঞ্জে পিতৃহীন ১৪ বছরের কিশোরীকে ধর্ষণ
সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি: বসতবাড়ির দরজার সামনে থেকে অপহরণ করে নিয়ে গিয়ে পিতৃহীন ১৪ বছরের কিশোরীকে গ্রামের প্রভাবশালী ও দাঙ্গাবাজ পরিবারের এক যুবক কর্তৃক ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে।
জেলার তাহিরপুর উপজেলার বাদাঘাট ইউনিয়নের সুন্দর পাহাড়ি গ্রামের প্রভাবশালী গ্রাম্য মাতব্বর ও দাঙ্গাবাজ খ্যাত কাঁচা মিয়া ওরফে কাঁচুর বখাটে ছেলে আবদুল জলিল (২৩) মঙ্গলবার রাত ৮টার দিকে ওই গ্রামের পিতৃহীন দরিদ্র পরিবারে কিশোরীকে ঘরের দরজার সামনে থেকে অপহরণ করে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণের ঘটনাটি ঘটিয়েছে বলে ওই কিশোরী ও তার পরিবারের লোকজন অভিযোগ তুলেছেন।
ভিকটিম ও তার পরিবারের লোকজন এবং সালিসে থাকা গ্রামবাসী সুত্রে জানা যায়, উপজেলার সুন্দর পাহাড়ি গ্রামের কাঁচুর বখাটে ছেলে আবদুল জলিল মঙ্গলবার এশার নামাজের পর গ্রামের পিতৃহীন ১৪ বছরের কিশোরীকে বাড়ির দরজার সামনে থেকে অপহরণ করে নিয়ে গিয়ে গ্রামের পেছনে জামা-কাপড় ছিড়ে ফেলে বিবস্ত্র করে ধর্ষণ করে। ওই কিশোরী জলিলের পায়ে ধরে বার বার ইজ্জত ভিক্ষা চাইলেও টলেনি নরপশুর বিবেক!। ধর্ষণের পর ফেলে রেখে জলিল চলে আসলে ধর্ষিতা জলিলের বাড়িতে গিয়ে ধর্ষকারীর মায়ের কাছে ঘটনা খুলে বললে রাতেই গ্রামের রেজ্জাকের বাড়িতে সালিস বৈঠক বসে। সালিসে টাকা পয়সা খরচ করে বিয়ের বয়স হলে কিশোরীকে অনত্র বিয়ে দেয়ার আশ্বাস দিয়ে সালিসীগণ উঠে যান। এ বিষয়ে থানা পুলিশ কিংবা অন্য কাউকে না জানানোর জন্য হুমকি সরুপ গ্রামছাড়া করার আল্টিমেটাম দিয়ে যান স্বয়ং ধর্ষণকারীর পিতা।
এদিকে গ্রাম্য সালিসের নামে ধর্ষিতা কিশোরীকে অনত্র বিয়ে দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ব্যর্থ হবার পর চিকিৎসা ও আইনি সহযোগীতা নিতে বাঁধা দেয়ার জন্য গ্রামের সড়কে ও কিশোরীর বাড়ির চারপাশে কাঁচুর লোকজন রাত থেকে বুধবার দিনব্যাপী পাহারা বসায়। এক পর্যায়ে গ্রামের কিছু লোকের সহযোগীতায় বুধবার দুপুরে বাড়ি থেকে পালিয়ে এসে ওই কিশোরী অন্যের মুঠোফোনে বেলা ১টার দিকে এ প্রতিনিধিকে ধর্ষণের ঘটনাটি জানিয়ে গণমাধ্যমের সহযোগীতায় চিকিৎসা ও আইনি সহায়তা পেতে কান্না জড়িত কন্ঠে বলে, ভাই আমারে কাঁচু মিয়া ও তার পুলা (ছেলে) পাইলে মাইরা ফালাইব’ আমারে বাঁচান, আমি পলাইয়া আইছি জানলে বাড়িত বিধবা মা ও ভাইদের মারধর করতে পারে তারা।’ রাতে সালিসে রেজ্জাকের বাড়িতে কাঁচু, তার সহোদর জয়নাল, মোস্তাক, তাদের আরো কয়েক সহযোগীরাই উপস্থিত ছিলেন বলেও নিশ্চিত হওয়া গেছে। ধর্ষণকারীর পিতা কাঁচুর সাথে বুধবার বেলা ২টার দিকে মুঠোফোনে বক্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ঘটনা ষড়যন্ত্র, আমার ছেলে মেয়েটার ডেনাত (হাতে) ধরে টান দিছিল’ রাইত (রাতে) আমরা বইছিলাম (বসেছিলাম) ঘটনা সত্য না। এছাড়াও তিনি অন্যান্য সকল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমার এক ছেলে রহিম ফাঁসির দন্ডপ্রাপ্ত হিসাবে কারাগারে আটক’ “আমার মাথা ঠিক নাই, এইডাত যদি পারইন তাইলে আমরারে বাছাইন”।
তাহিরপুর থানার ওসি শ্রী নন্দন কান্তি ধরের নিকট এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন- ভিকটিম থানায় এসে বেলা আড়াইটায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছে, পুলিশী তদন্তে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেলে অভিযুক্তরা যতবড় প্রভাবশালী হোক না কেন ভিকটিমের চিকিৎসা ও আইনি সহায়তা দু’টোই থানা পুলিশ গুরুত্ব সহকারে দেখবে।’
সূত্র জানায়, বুধবার বিকেলে ভিকটিম বাদাঘাট পুলিশ ফাড়িতে আসলে তাহিরপুর থানার তদন্তকারী অফিসার এসআই (উপ-পরিদর্শক) একেএম জালাল উদ্দিন তাকে গালি-গালাজ ও উল্টো শাসাতে থাকেন। এরপর সন্ধায় সুন্দর পাহাড়ি গ্রামে ঘটনা তদন্তের নামে অভিযুক্তদের পিতা কাঁচুর সাথে যোগসাজস করে ভিকটিমের মা ও ভাইদের মামলা করলে হয়রানী বাড়বে বলে বিষয়টি আপোসের জন্য চাঁপ সৃষ্টি করেন।
এ ব্যাপারে এসআই জালালের বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি সন্ধা ৭টায় বলেন, না এটা আমার কিছু না, মেয়ের বয়স ১৪, মামলা নেয়ার কোন সুযোগ নাই, তাছাড়া মেয়ের মা-ভাইদের আমি ভয়-ভীতি দেখাইনি, তারাই তো মামলা করতে ইছ্ছুক না। এছাড়া তার বিরুদ্ধে আনা সকল অভিযোগ তিনি অস্বীকার করেন।
Related News
ছাতকে সুরমা নদীতে টোল আদায় করতে না পেরে বিপাকে ইজারাদার
সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি: সুনামগঞ্জের ছাতকে সুরমা নদীতে পৌরসভার ইজারা নেওয়া টোল আদায় করতে না পেরে বিপুলRead More
সুনামগঞ্জের হাওরে বোরোর মনগড়া লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে ক্ষোভ
সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি: এক ফসলি বোরো ফসলের দেশ হাওর জনপদ সুনামগঞ্জ। বৈশাখে বিস্তীর্ণ হাওরে বছরের একমাত্রRead More



Comments are Closed