Main Menu

তাহিরপুরে ৮০ পিস ইয়াবার হদিসে তদন্তে পুলিশ সুপার

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি: সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে ১শ পিস ইয়াবা সহ মাদক ব্যবসায়ীকে আটকের পর থানার এসআই ২০ পিস ইয়াবা জব্দ দেখিয়ে মামলা দায়ের কনে। পরে সেই ৮০ পিস ইয়াবার হদিস না মেলা কিংবা উধাও হয়ে যাওয়ার ঘটনাটি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশের পর ঘটনার তদন্ত করতে সহকারি পুলিশ সুপার বৃহস্পতিবার সরেজমিনে এসে তদন্ত করেন।
স্থানীয় বিভিন্ন সুত্রে জানা যায়, উপজেলার সীমান্তবর্তী জঙ্গলবাড়ি এলাকা থেকে গত সোমবার রাতে থানার এসআই তার সঙ্গীয় পুলিশ ফোর্স নিয়ে ১শ পিস ইয়াবা সহ কলাগাঁও মাইজহাটির সামছুল হকের ছেলে আজিজুলকে গ্রেফতার করেন। ওই রাতে স্থানীয় এক কয়লা ব্যবসায়ী ইয়াবা ব্যবসায়ীকে ছাড়িয়ে নিতে মোটা অংকের টাকায় ওই এসআইয়ের সাথে রফাদফা করেন। এদিন রাত সোয়া ১টায় এসআই’র মুঠোফোনে ইয়াবা সহ একজনকে আটকের সত্যতা জানতে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, না মদ পান করেছিল, আর একটা ট্যাবলেট জ্বালিয়েছিলো, ইয়াবা সহ কাউকে আটকের বিষয়টি মোটেও সত্য নয়।’ রাত ২টায় ফের ইয়াবা সহ আটক করা হয়েছে কীনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, যেখানে ইয়াবা ছিলই না সেখানে আমি কী ইয়াবা কিনে তাকে মামলার আসামী করব। ইতিমধ্যে বিষয়টি এলাকাবাসী পুলিশের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের ও গণমাধ্যমকর্মীদের অবহিত করলে কিছুটা বেকায়দার পড়ে যান ওই এসআই। অবশেষে পরদিন মঙ্গলবার সকালে ওই এসআই বাদী হয়ে ২০পিস ইয়াবা ট্যাবলেট জব্দ দেখিয়ে থানায় মামলা দায়ের করতে বাধ্য হন। রাতে মাদকসেবী আর পরদিন সকালে ২০পিস ইয়াবা ট্যাবলেট জব্দ দেখিয়ে মামলা দায়ের করা ও পরবর্তীতে ইয়াবা ট্যাবলেট কীভাবে পেলেন জানতে এসআই রফিকুল ইসলামের মুঠোফোনে মঙ্গলবার যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘ভাই পরে আজিজুলের বুক পকেট তল্লাশী করে ২০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট পাইছি।’
প্রত্যক্ষদর্শীরা ১শ পিস ইয়াবা সহ আটকের কথা জানালো, তাহলে বাকী ৮০ পিস ইয়াবা গেল কোথায়? এমন প্রশ্নের উত্তরে ওই এসআই বলেন, আর কোন ট্যাবলেট-ই ছিলনা। উল্লেখ্য প্রায় ৫ মাস পূর্বে থানার অপর এক এএসআই জঙ্গলবাড়ির আবুল কাসেম নামক এক ইয়াবা ব্যবসায়ীকে ২শ পিস ট্যাবলেট সহ আটকের পর তখনও ডিলার হিসাবে আজিজুলের নাম প্রকাশ পেলেও তদবীরের জোড়ে সে যাত্রায় সে রক্ষা পেয়ে যায়।
পুলিশের দায়িত্বশীল একটি সুত্রে জানা গেছে , রাজধানী ঢাকার ডিএমপিতে থাকা কালীন সময়ে ওই দাপুটে এসআই সাদা পোষাকে বিভিন্ন অপকর্মে জড়িয়ে গেলে তাকে সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে গত কয়েকমাস পুর্বে শাস্তিমুলক বদলী করা হয়।
দিরাই সার্কেলের সহকারি পুলিশ সুপার মো. ছুরত আলম বৃহস্পতিবার রাতে থানায় অবস্থানকালীন সময়ে বলেন, ওই এসআই’র বিরুদ্ধে উঠা অভিযোগের তদন্ত করতে আমি সরেজমিনে গিয়েছিলাম। তিনি আরো বলেন, জব্দ তালিকায় যাদেরকে স্বাক্ষ্য করা হয়েছিলো তাদের নিকট থেকে পুন:রায় স্বাক্ষ্য নিয়েছি।

Share





Related News

Comments are Closed