Main Menu

তালাবদ্ধ থাকায় অচল সিসিকের কার্যক্রম

বিশেষ প্রতিনিধি: সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী, প্রধান প্রকৌশলী ও হিসাব রক্ষকের কক্ষের তালা এখনো খোলা হয়নি। ফলে মঙ্গলবার অফিস করা হয়নি প্রধান নির্বাহী সহ সংশ্লিষ্টদের।
অন্যদিকে সিটি কাউন্সিলার আজাদুর রহমান আজাদ জানান, মঙ্গলবার রাতে এ বিষয়টি নিয়ে আওয়ামী লীগের শীর্ষ স্থানীয় নেতৃবৃন্দের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। তিনি জানান, সিসিকের প্রধান নির্বাহী বিগত দিনগুলোতে কাউন্সিলরদের কোন মূল্যায়ন করেননি। ফলে বাধ্য হয়ে তারা প্রধান নির্বাহীসহ সংশ্লিষ্টদের কক্ষে তালা দিয়েছেন।
এদিকে প্রধান নির্বাহীসহ সংশ্লিষ্টদের কক্ষে তালা দেয়ায় মঙ্গলবার অফিস করেননি কর্মকর্তারা। ফলে কার্যত অচলই ছিল সিসিকের কার্যক্রম। এ কারণে সেবা প্রত্যাশীদের পড়তে হয়েছে বিড়ম্বনায়।
মদিনা মার্কেট এলাকা থেকে আসা রুবেল আহমদ জানান, তিনি তার এক আত্মীয়ের ব্যবসায়ী সনদ নিতে আসলে প্রধান নির্বাহীর স্বাক্ষর না হওয়ায় তাকে ফিরে যেতে হয়েছে। এভাবে সিটি কর্পোরেশন এলাকার বেশ কয়েকজন সেবাগ্রহীতা সেবা না পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে ফিরে যান।
সিসিকের প্রধান নির্বাহী এনামুল হাবীব জানান, তালা দেয়ায় তিনি মঙ্গলবার অফিসে জাননি। কিভাবে সময় কাটলো প্রশ্ন করলে তিনি জানান, বাইরে বিভিন্ন প্রোগ্রাম থাকায় সেগুলো মিস করিনি।
এদিকে ঘটনাটি একটি ন্যাক্কারজনক উল্লেখ করে সিলেটের সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজন সভাপতি ফারুক মাহমুদ চৌধুরী জানান, “যারা সিসিকের মতো একটি জনগুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে তালা দিল তারা জনপ্রতিনিধি হওয়ার যোগ্যতা রাখেন না। তিনি বলেন, সিটি কর্তৃপক্ষ এসব দূষ্কৃতিকারিদের বিরুদ্ধে মামলা করে আইনের আশ্রয় নিতে পারতো। অন্যদিকে যারা তালা দিল, তাদের কোন বক্তব্য, অভিযোগ থাকলে সিলেটবাসীর অভিবাবক অর্থমন্ত্রী মহোদয়কে বিষয়টি অবগত করতে পারতো বলেও মন্তব্য করেন তিনি’’।
সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, কম মূল্যে টেন্ডার না পেয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে কর্মকর্তাদের কক্ষে তালা দিয়েছেন সরকারদলীয় কাউন্সিলররা। তবে এমন অভিযোগ একেবারেই উড়িয়ে দিয়েছেন ৮নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ইলিয়াছুর রহমান ইলিয়াছ। তিনি বলেন, “এটি একেবারেই মিথ্যা, বরং কর্মকর্তারা তাদের পকেটস্থ স্পেশাল বলে পরিচিত কয়েকজন কাউন্সিলরকে টেন্ডারে সুবিধা করে দিয়েছেন”।
জানা গেছে, উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে মঙ্গলবার রাতে কাউন্সিলরদের সাথে বৈঠক করবেন সিলেট জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ। এ বৈঠকে উদ্ভূত সমস্যা সমাধানের পথ বেরিয়ে আসবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্ট কাউন্সিলররা।
উল্লেখ্য, আরিফুল হক চৌধুরী মেয়র থাকাকালীন গত বছর সিটি করপোরেশনের মালিকানাধীন লাল দিঘীরপাড় সিটি মার্কেট ভাঙার দরপত্র আহবান করা হয়। পরবর্তীতে ১ কোটি ৮০ লাখ টাকা সর্বোচ্চ দরদাতা নির্বাচিত হয় একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। কিন্তু সে সময় মার্কেটের ব্যবসায়ীদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ওই টেন্ডার প্রক্রিয়া স্থগিত রাখা হয়। উচ্চ আদালতে রিটের শুনানি রায় সিসিকের পক্ষে আসে। কিন্তু সরকারদলীয় কয়েকজন কাউন্সিলর সমঝোতার মাধ্যমে ১ কোটি ৫ লাখ টাকায় এই কাজ নিতে চান। এ ঘটনা নিয়ে সোমবার সন্ধ্যায় সিসিকের ওই তিন কর্মকর্তার কার্যালয় তালাবদ্ধ করা হয়।

Share





Related News

Comments are Closed