সুরমায় বালু উত্তোলনে ভাঙ্গনের কবলে বিভিন্ন স্থাপনা
বিশেষ প্রতিনিধি: সিলেটের সুরমা নদীতে চলছে অবৈধ বালু উত্তোলনের মহোৎসব। একশ্রেণীর বালু খাদকরা অবৈধ বালু উত্তোলন করে ধ্বসে দিচ্ছে সুরমার দুই তীর। অজ্ঞাত কারনে অধিকাংশ সময় প্রশাসন পালন করে থাকে নিরব ভূমিকা। ফলে নদী ভাঙ্গনের ভয়ে সদা আতংকিত সুরমা তীরের বিশাল জনপদ।
অভিযোগ পাওয়া গেছে, গত প্রায় ৫ মাস ধরে মসউদ নামের জনৈক ‘বালুখেকো’ সুরমা নদী থেকে অবাঁধে বালু উত্তোলন ও ব্যবসা করে যাচ্ছেন। এলাকাবাসী বারবার প্রতিবাদ করলেও তাতে কান দিচ্ছে না স্থানীয় প্রশাসন। এতে করে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী গত ২৮ সেপ্টেম্বর নিজেরাই অভিযান চালিয়েছে সুরমা নদীতে। বালুখোকো মসউদের চার শ্রমিককে ড্রেজারসহ ধরে পুলিশের হাতে তুলে দেন তারা। পুলিশ ড্রেজার ছেড়ে দিয়ে তাদের আদালতে প্রেরণ করে। তা সত্বেও অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ করেননি ব্যবসায়ী মসউদ ও তার সহযোগীরা। শনিবার (১অক্টোবর) দুপুরে কয়েকটি ড্রেজার ও দলবল নিয়ে মসউদ আবার নেমে পড়েন সুরমা নদীর কানাইঘাটের গাছবাড়ি এলাকায় বালু উত্তোলনে। এলাকাবাসী এর প্রতিবাদ করলেও তা কানে দিচ্ছ্নে না তিনি। তারা প্রশাসনকে অবহিত করলেও এগিয়ে আসছে না কানাইঘাট উপজেলা প্রশাসন। এ নিয়ে এলাকায় দাঙ্গা-হাঙ্গামা ও রক্তপাতের আশংকা করছেন শানিস্তকামী মানুষ।
জানা গেছে, সিলেটের সুরমা নদীর কোটি টাকার বালু মহাল নিজদলইকান্দি। গত ১৪২২ বাংলা সন থেকে মহালটি ইজারা বহির্ভূত অবস্থায় রয়েছে। এ অবস্থায় স্থানীয় প্রশাসনের কোন প্রকার দখলদেহী ও অনুমতি ছাড়াই মসউদ মহালটি সম্পূর্ন লুটেপুটে খাচ্ছেন। স¤প্রতি এ মহালের বাইরেও তিনি বালু উত্তোলন কলে চলেছেন। ফলে সুরমাতীরে থাকা কানাইঘাট উপজেলার ঐতিহ্যবাহী গাছবাড়ি বাজারসহ সরকারী ও বেসরকারী বহু স্থাপনা ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে পৌছে গেছে। হুমকির মূখে বাড়িঘরসহ পানি উন্নয়নবোর্ডের (পাউবোর) বন্যা নিয়ন্ত্রন বাঁধও।
প্রশাসন সহ স্থানীয় সূত্রে প্রকাশ, সুরমানদীর নিজদলইকান্দি বালুমহালটি কোটি টাকা মূল্যের। এটির ভোগদখল পাওয়ার জন্য ব্যবসায়ী মসউদ চলতি ২০১৬ সালের প্রথমভাগে হাইকোর্টে একটি রিট (৬৮৭৮/১৬) করেন। রিটের প্রেক্ষিতে হাইকোর্ট তাকে ১ মাস ১১দিনের জন্য দখলদেহী প্রদানের আদেশ দিয়েছিলেন। বালু উত্তোলনের ভরা মৌসুমে জেলা ও স্থানীয় ভূ-প্রশাসন স্বল্পমেয়াদী দখলদেহী সমঝে নেয়ার জন্য মসউদকে বারবার চিঠি ও নোটিশ দেয়। কিন্তু সরকারী শর্তসাপেক্ষে তিনি মহালের দখলদেহী নিতে রাজি হননি। ফলে গত ৫ সেপ্টেম্বর দখলদেহীর সিদ্ধান্ত বাতিলের প্রস্তাব প্রেরণ করা হয়। দখলদেহীর প্রস্তাব বাতিলের পরও মসউদ বালু উত্তোলন অব্যাহত রাখলে নদীর দুই তীরে ব্যাপক আকারে ফাটল ও ভঙ্গন শুরু হয়। ফলে এলাকার জনমনে ক্ষোভের সঞ্চার হলে গত ২৮ সেপ্টেম্বর এলাকাবসী ৪জনকে ধরে পুলিশে দেন। কিন্তু দমে থাকছেন না মসউদ, অবৈধ বালু উত্তোলন অব্যাহত রেখেছেন । এ অবস্থায় এলাকাবাসী তার প্রতিরোধে এগিয়ে আসলে রক্তপাতের আশংকা করছেন এলাকার শান্তিকামী মানুষজন।
বালু উত্তোলন বিষয়ে ব্যবসায়ী মসউদ আহমদের সাথে শনিবার (১অক্টোবর) বিকেলে মোবাইল ফোনে কথা হলে তিনি সুরমানদীর তিনটি মহালে ইজারা ও সরকারী দখলদেহী নিয়ে বালু উত্তোলন করছেন বলে দাবি করেন। সরকার ও স্থানীয় প্রশাসেন কর্তৃক দখলদেহী প্রদানের কোন কাগজপত্র তার কাছে আছে কি না এ প্রশ্ন সম্পূর্নএড়িয়ে যান তিনি এবং বলেন আমি বর্তমানে সিলেটের বাইরে আছি।
সুরমা নদীর নিজদলাইকান্দি বালুমহাল ইজারা সম্পর্কে কানাইঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তারেক মোহাম্ম্দ জাকারিয়ার সাথে কথা হলে তিনি ওই মহালে সরকারী ইজারা ও দখলদেহী প্রদানের কথা সম্পূর্ন অস্বীকার করেন। তিনি জানান, ওই মহালে বর্তমানে বালু উত্তোলন সম্পূর্ন অবৈধ। অবৈধ বালু উত্তোলনের দায়ে গত ২৮ সেপ্টেম্বর কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সরকারী অনুমতি ও দখলদেহী ছাড়া কেউ বালু উত্তোলন করলে তাদের গ্রেফতার অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।
Related News
গোলাপগঞ্জের কুশিয়ারা নদীতে উৎসবমুখর নৌকা বাইচ
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলার মীরগঞ্জে কুশিয়ারা নদীতে ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবারRead More
জকিগঞ্জে মা-সন্তানকে বেঁধে ডাকাতি, স্বর্ণ ও নগদ টাকা লুট
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সিলেটের জকিগঞ্জে গভীর রাতে বসতবাড়ির দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে এক গৃহকর্ত্রী ওRead More



Comments are Closed