Main Menu

লালমনিরহাটে ছোট গরুর দিকেই ঝুঁকছে ক্রেতারা

সাহানুর রহমান, লালমনিরহাট প্রতিনিধি : লালমনিরহাট জেলার পশুর হাটগুলোতে গরু ও মহিষ আমদানি বেড়েছে কয়েক গুণ। তবে, আকারে বড় গরুর তুলনায় ছোট গরুর ক্রেতাই বেশি দেখা যাচ্ছে। জেলার বিভিন্ন সীমান্ত পথেই আসছে ভারতীয় গরু ও মহিষ। তবে, সেগুলো চোরাই পথে এলেও বিশেষ ব্যবস্থায় করিডোর করে বৈধ করা হচ্ছে দেশের বাজারে। জানা গেছে, প্রতিবেশী দেশ ভারতের বেশ কিছু রাজ্যে প্রচুর সংখ্যক গরু পালন করা হয়। কিন্তু সেখানে গরুর মাংসের চাহিদা একেবারেই কম। তাছাড়া সাংবিধানিক ভাবে গবাদিপশু রফতানি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকায় সেখানে সবময়ই গরুর দাম অপেক্ষাকৃত কম। বিভিন্ন সীমান্ত হয়ে কম দামে ভারতীয় গরু দেশে আসার পর বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) ক্যাম্পে সাময়িক সময়ের জন্য রাখা হয়। এর পর গরুর বর্ণনা দিয়ে স্থানীয় কাস্টমস অফিসে গরু প্রতি ৫শ’ টাকা ফি জমা দিলে ভারতীয় গরু বৈধ হয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে চলে যাচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, কতিপয় অসাধু কর্মকর্তার মদদে এক তৃতীয়াংশ গরু করিডোর ছাড়াই চলে যাচ্ছে। ফলে রাজস্বের একটা বড় অংশ হারাচ্ছে সরকার।
ভারতীয় গরুর করিডর এর দায়িত্বে থাকা পাটগ্রাম ইসলামপুর কাস্টমস অফিস সূত্রে জানা যায়,গত বছরের তুলনায় এ বছর প্রায় দ্বিগুণ গরু এসেছে। এ অফিসের মাধ্যমে ২০১৫ সালে মোট ১৯ হাজার ৭১৩টি গরু করিডোর করা হলেও ২০১৬ সালের আগস্ট পর্যন্ত ৩৪ হাজার ৫৪০টি গরু করিডোর হয়েছে।ভারতীয় এ গরু ও মহিষগুলো হাটে তুলতে গিয়ে সীমান্ত এলাকার গ্রাম পুলিশ, জনপ্রতিনিধি থেকে শুরু করে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কতিপয় অসৎ সদস্যকেও চাঁদা দিতে হয় বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছে। এতে করে খরচ বেড়ে যাওয়ায় তুলনামূলকভাবে বেশি দামে ওই গরু কিনছে সাধারণ ক্রেতারা। আর এ কারণেই বড় গরুর চাহিদা অনেকটাই কমে গেছে বলে ব্যবসায়ীদের দাবি।
জেলার সীমান্তবর্তী এলাকার পশুর হাট থেকে বড় আকারের ভারতীয় গরু ও মহিষগুলো প্রতিদিন ট্রাকে চলে যায় রাজধানীসহ সারাদেশে। পুরো মহাসড়কের প্রতিটি মোড়ে পরিবহন শ্রমিক, মোটর শ্রমিক ও পুলিশসহ বিভিন্ন সরকারি সংস্থাকে দিতে হচ্ছে নিদিষ্ট পরিমাণের চাঁদা। এতে গরু প্রতি ৫ থেকে ৭ হাজার টাকা মূল্য বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে ব্যবসায়ীরা জানান।
উত্তর অঞ্চলের অন্যতম গরু কেনা-বেচার স্থান বলে পরিচিত জেলার পাটগ্রাম উপজেলার রসুলগঞ্জ হাটে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, প্রচুর সংখ্যক গরুর আমদানি হয়েছে সেখানে। যার বেশির ভাগই ভারতীয় গরু ও মহিষ। দেশি গরুর পাশাপাশি ভারতীয় এসব গরু কিনতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে গরু ব্যবসায়ীরাও এসেছেন।
সিরাজগঞ্জ থেকে গরু কিনতে আসা ব্যবসায়ী আফজাল হোসেন ও বক্তার হোসেন জানান, কয়েক বছর ধরেই লালমনিরহাটের বিভিন্ন পশুরহাট থেকে গরু কিনে নিয়ে গিয়ে ঢাকাসহ বিভিন্ন পশুর হাটে বিক্রি করতেন তারা। কিন্তু এসব গরু ট্রাকে করে নিয়ে যেতে পথে মোটর শ্রমিক এবং ট্রাক শাখা থেকে শুরু করে পুলিশকেও চাঁদা দিতে হয়।
লালমনিরহাটের আর একটি সীমান্তবর্তী পশুরহাট হচ্ছে দুরাকুটির হাট। সেখানে গরু বিক্রি করতে গিয়ে আফজাল হোসেন জানান, অনেক খরচ করে গরু বড় করেছি। কিন্তু বড় গরুর ক্রেতাই নেই, ছোট গরুর চাহিদা অনেক বেশি।
বিজিবি-১৫ ব্যাটালিয়নের পরিচালক লেঃ কর্নেল বজলুর রহমান হায়াতী জানান, গত বছরের তুলনায় এ বছর প্রচুর সংখ্যক ভারতীয় গরু আসছে। আমরা ওই সব গরু শতভাগ করিডর করে সরকারের রাজস্ব বাড়াতে সহায়তা করছি।

Share





Related News

Comments are Closed