কিবরিয়া হত্যা মামলায় জামিন পেলেন আরিফ
বৈশাখী নিউজ ২৪ ডটকম: সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এএমএস কিবরিয়া হত্যা মামলায় সিলেট সিটি করপোরেশনের বরখাস্তকৃত মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীকে জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট।
এ বিষয়ে জারি করা রুল নিষ্পত্তি করে মঙ্গলবার বিচারপতি সৈয়দ মোহাম্মদ দস্তগীর হোসেন ও বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়ার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন।
জামিন পাওয়ায় আরিফুলের কারামুক্তিতে বাধা নেই বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা। তবে হাইকোর্টের এই জামিন আদেশ স্থগিত রেখে আপিল বিভাগে আবেদন করা হবে বলে জানিয়েছেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ডক্টর মোহম্মদ বশিরুল্লাহ।
আরিফুলকে কেন জামিন দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে গত ৯ আগস্ট রুল দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। সেই রুলের ওপর চূড়ান্ত শুনানি শেষে এই আদেশ দেন আদালত। শুনানিতে আদালতে আরিফুলের পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মইনুল হোসেন ও আবদুল হালিম কাফি। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. বশির উল্লাহ।
আরিফুল হকের আইনজীবী আবদুল হালিম কাফি সংবাদিকদের জানান, কিবরিয়া হত্যা মামলায় ১৭৬ জনের মধ্যে ৩২ জন সাক্ষ্য দিয়েছেন। তাঁদের বক্তব্যে আরিফুলের জড়িত থাকার বিষয়টি আসেনি। ২০১৪ সাল থেকে আরিফুল কারাগারে আছেন। তিনি অসুস্থ। শুনানিতে এসব যুক্তি দেওয়া হয়েছে। আদালত জামিন দিয়েছেন। তবে একই ঘটনায় বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে মামলা থাকায় আরিফুল এখনই মুক্তি পাচ্ছেন না।
ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. বশির উল্লাহ বলেন, আরিফুলকে হাইকোর্টের দেওয়া জামিন আদেশের বিরুদ্ধে তারা আপিল করবেন।
প্রসঙ্গত, ২০০৫ সালের ২৭ জানুয়ারি হবিগঞ্জ সদরের বৈদ্যেরবাজারে ঈদ-পরবর্তী এক জনসভা শেষে বের হওয়ার পথে গ্রেনেড হামলার শিকার হন সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এ এম এস কিবরিয়া। সে হামলায় গুরুতর আহত অবস্থায় ঢাকা নেওয়ার পথে মৃত্যু হয় তার। এ মামলায় সংশোধিত সম্পূরক অভিযোগপত্রে আরিফুল হক চৌধুরীর নাম অন্তর্ভুক্ত হয় তিনি তখন সিলেট সিটি কর্পোরেশনের মেয়র। সেই সংশোধিত সম্পূরক অভিযোগপত্র দাখিলের পর ২০১৪ সালের ২১ ডিসেম্বর মেয়র আরিফুলসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত। ঐ বছরের ৩০ ডিসেম্বর আরিফুল বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন। আদালত তা নাকচ করে দিলে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়। পরে গত ২২ মার্চ মায়ের অসুস্থতার কারণে হাইকোর্টের অপর একটি বেঞ্চ মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীকে ১৫ দিনের জন্য জামিন দিয়েছিলেন। জামিনে মুক্তির পর ১০ এপ্রিল আবার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে আত্মসমর্পণ করলে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়। এরপর থেকে তিনি কারাগারেই আছেন।
বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা আরিফুল হক সিলেট মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটিরও সদস্য। সর্বশেষ ২০১৩ সালে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সাবেক মেয়র বদর উদ্দিন আহমেদ কামরানকে হারিয়ে তিনি সিলেটের মেয়র নির্বাচিত হন। তবে কারাগারে আটক থাকা অবস্থায় ২০১৫ সালের জানুয়ারিতে আরিফুল হককে মেয়র পদ থেকে সাময়িক বরখাস্ত করে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়।
Related News
সিলেটে সাবেক মেয়র কামরান হত্যাচেষ্টা মামলা থেকে ৭০ বিএনপি নেতাকর্মী খালাস
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সিলেটের সাবেক মেয়র ও মহানগর আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি মরহুম বদরউদ্দিন আহমদRead More
মৌলভীবাজারে ৪ হত্যা মামলার রায়, ১০ জনের মৃত্যুদণ্ড
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: মৌলভীবাজারে পৃথক চারটি হত্যা মামলায় গত দুই মাসে ১০ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেনRead More



Comments are Closed