Main Menu

সিলেটে মীর কাসেম আলীর গায়েবানা জানাজা অনুস্টিত

বৈশাখী নিউজ ২৪ ডটকম: বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মীর অংশগ্রহন ও হাজারো মুসল্লীর উপস্থিতিতে রোববার দুপুরে সিলেট সরকারী আলিয়া মাদরাসা ময়দানে জামায়াতের নির্বাহী পরিষদ সদস্য মীর কাসেম আলীর গায়েবানা জানাজা অনুস্টিত হয়েছে।
রোববার বেলা ২টায় জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও জোহরের নামাজ শেষ হওয়ার সাথে সাথে বৈরী পরিবেশ উপেক্ষা করে দলে দলে মুসল্লীগন আলিয়া মাদরাসা ময়দানে সমবেত হতে শুরু করেন। জামায়াতে ইসলামী, ছাত্র শিবিরের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রেণী পেশার হাজারো মানুষের উপস্থিতিতে বেলা ২টার আগেই আলিয়া ময়দান লোকে লোকারণ্য হয়ে যায়। জানাজার পুর্বে সিলেট জেলা ও মহানগর জামায়াত নেতৃবৃন্দের হৃদয়গ্রাহী বক্তব্য উপস্তিত মুসল্লীগনকে আবেগাপ্লুত করে তোলে। এসময় বিশাল আলিয়া ময়দানে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারনা হয়। বেলা ২টা ১৫মিনিটে গায়েবানা জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় ইমামতি করেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও সাবেক এমপি অধ্যক্ষ মাওলানা ফরিদ উদ্দীন চৌধুরী।
জানাজা পুর্ব সংক্ষিপ্ত সমাবেশে জামায়াত নেতৃবৃন্দ বলেন, কোন অপরাধ নয়, বাংলাদেশ থেকে ইসলাম ও ইসলামী আন্দোলনকে নির্মুল করতেই বেছে বেছে একের পর এক শীর্ষ জামায়াত নেতাকে বিচারের নামে শহীদ করা হয়েছে। শনিবার দিবাগত রাত সাড়ে ১০টার দিকে দুনিয়া থেকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে অর্থনৈতিকভাবে সুখী-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার অন্যতম কারিগর মীর কাসেম আলীর মত মানুষকে। ইতোমধ্যে বিচারের নামে আমীরে জামায়াত মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী, সেক্রেটারী জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ, সহকারী সেক্রেটারী জেনারেল কামারুজ্জামান ও সহকারী সেক্রেটারী জেনারেল আব্দুল কাদের মোল্লার মত সৎ ও মেধাবী নেতৃত্বকে শহীদ করা হয়েছে। বাংলাদেশের সবুজ জমিনে ইনসাফ ভিত্তিক কোরআনের সমাজ বিনির্মানের মধ্য দিয়ে শহীদ মীর কাসেম আলী সহ সকল শহীদদের হত্যার বদলা নেয়া হবে। ইনশাআল্লাহ। ক্ষমতার জোরে ত্রুটিপূর্ণ ও একপেশে অন্যায় বিচারের ন্যায়ভ্রষ্ট রায়ে ১৯৭১ সালে মাত্র ১৮ বছরের একজন আপাদমস্তক মানবতাবাদী যুবক মীর কাসেম আলীকে মানবতাবিরোধী অপরাধী সাজিয়ে হত্যার সাথে জড়িতেদের জাতি কোন দিন ক্ষমা করবেনা। শোক কে শক্তিতে পরিণত করে দ্বীনের কাজ সঠিকভাবে আঞ্জাম দেওয়ার মাধ্যমে শহীদ মীর কাসেম আলীদের রক্তের বদলা নিতে ইসলামী আন্দোলনের সকল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের প্রস্তুত থাকতে হবে। মীর কাসেম আলীকে হত্যার প্রতিবাদে জামায়াত কেন্দ্র আহুত সোমবার সকাল ৬টা থেকে বেলা ২টা পর্যন্ত সর্বাত্মক ও শান্তিপূর্ণ অর্ধদিবস হরতাল পালনের জন্য সিলেটবাসীর প্রতি আহ্বান জানান তারা।
রোববার সিলেট জেলা ও মহানগর জামায়াতের যৌথ উদ্যোগে সিলেট সরকারী আলিয়া মাদরাসা মাঠে জামায়াতে ইসলামীর নির্বাহী পরিষদ সদস্য মীর কাসেম আলীর গায়েবানা জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদের সদস্য ও সিলেট মহানগর জামায়াতের আমীর এডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের এর সভাপতিত্বে ও ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারী মো: শাহজাহান আলীর পরিচালনায় অনুষ্ঠিত জানাজা পুর্ব সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও সিলেট বিভাগীয় আঞ্চলিক দায়িত্বশীল অধ্যাপক ফজলুর রহমান, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও সাবেক এমপি অধ্যক্ষ মাওলানা পরিদ উদ্দীন চৌধুরী, কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও সিলেট জেলা দক্ষিনের আমীর মাওলানা হাবীবুর রহমান, কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও সিলেট জেলা উত্তরের আমীর হাফিজ আনোয়ার হোসাইন খান ও বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র শিবিরের কেন্দ্র্রীয় কার্যকরী পরিষদ সদস্য ও সিলেট মহানগরী সভাপতি মাসুক আহমদ।
অন্যানের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- সিলেট মহানগর জামায়াতের নায়েবে আমীর হাফিজ আব্দুল হাই হারুন ও মো: ফখরুল ইসলাম, সিলেট জেলা দক্ষিনের নায়েবে আমীর মুক্তিযোদ্ধা মতিউর রহমান, জেলা উত্তরের নায়েবে আমীর সৈয়দ ফয়জুল্লাহ বাহার, সেক্রেটারী মাওলানা ইসলাম উদ্দিন, সিলেট মহানগর সহকারী সেক্রেটারী মো: আব্দুর রব, জৈন্তাপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব জয়নাল আবেদীন, গোলাপগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হাফিজ নজমূল ইসলাম, ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব সাইফুল্লাহ আল হোসাইন, জালালপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাওলানা সুলাইমান হোসেন, ইসলামী ছাত্র শিবির সিলেট মহানগরী সেক্রেটারী আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ, শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিবির সভাপতি নাসিম আহমদ, সিলেট জেলা পূর্ব শিবির সভাপতি এহতেশামুল হক জাকারিয়া ও জেলা পশ্চিম সভাপতি সাফাত রহমান প্রমুখ।
সিলেট বিভাগীয় আঞ্চলিক দায়িত্বশীল অধ্যাপক ফজলুর রহমান বলেন- জামায়াতের নির্বাহী পরিষদ সদস্য মীর কাসেম আলীর বিরুদ্ধে উত্থাপিত সকল অভিযোগ মিথ্যা, ভিত্তিহীন, কাল্পনিক, বানোয়াট। মীর কাসেম আলীকে হত্যা করতেই তাঁর ছেলে ব্যারিষ্টার আরমানকে গুম করা হয়েছে। মৃত্যুপথ যাত্রী বাবার সন্তানকে দেখার শেষ ইচ্ছা পুরন করতে না দেয়ার ঘটনাই প্রমান করে মীর কাসেম আলী নিরপরাধ। ইসলামী আন্দোলনকে বাধাগ্রস্থ করতেই জাতির শ্রেষ্ট মেধাবী সন্তানদের বিচারের নামে অবিচার চালিয়ে হত্যার মহোৎসব চলছে।
সভাপতির বক্তব্যে কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও সিলেট মহানগরী আমীর এডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন- সরকার পক্ষ যেখানে মীর কাসেম আলীর বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ প্রমান করতে পারেনি, সেখানে এমন অভিযোগে মৃত্যুদন্ড তো দুরের কথা একদিনের সাজাও দেয়া যায়না। শুধুমাত্র রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে বিচারের নামে মীর কাসেম আলীর মত একজন শিল্পোদ্যোক্তাকে শহীদ করা হয়েছে। ইতিহাসের শ্রেষ্ট মানবতাবাদী আদর্শবান সৎ ও সুনাগরিকদেরকে যারা কথিত মানবতাবিরোধী অপরাধী বানিয়ে হত্যা করেছে ইতিহাস তাদের কখনো ক্ষমা করবেনা। কোন ষড়যন্ত্রই এদেশে ইসলামী আন্দোলনের অগ্রযাত্রা রুখতে পারবেনা। যে মাটিতে জামায়াতের নিরপরাধ শীর্ষ নেতৃবৃন্দের রক্ত ঝরেছে সে মাটিতে কোরআনের সমাজ বিনির্মান হবেই। ইনশাআল্লাহ। আমরা শোকাহত তবে বিচলিত নই। খোদার জমিনে তাঁর দ্বীনকে বিজয়ী করতে আমরা আমাদের অবস্থান থেকে সম্পুর্ন গনতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় আন্দোলন চালিয়ে যাবো। আমরা মজলুম তাই আমাদের বিচারের ভার মহান আল্লাহর কাছেই দিলাম। এই বিচারই শেষ বিচার নয়। জনতার আদালতে একদিন সকল হত্যাকান্ডের বিচার হবেই হবে ইনশাআল্লাহ।

Share





Related News

Comments are Closed