Main Menu

আখেরি মোনাজাতের মাধ্যমে শেষ হয়েছে শাহজালাল (রহ.)’র ওরস

বৈশাখী নিউজ ২৪ ডটকম: ওলিকুল শিরোমণি হযরত শাহজালাল (রহ.) এর ৬৯৭তম বার্ষিক ওরস মোবারক বুধবার ভোররাতে আখেরি মোনাজাত ও শিরনি বিতরণের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে। দুই দিনব্যাপী ওরসে ভক্ত-আশেকানদের ঢল নেমেছিল মাজার এলাকায়।
এর আগে মঙ্গলবার বাদ ফজর মাজারে গিলাপ ছড়ানোর মাধ্যমে শুরু হয় পবিত্র এই ওরস মোবারক।এদিন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বিরোধিদলীয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার পক্ষ থেকে দলীয় নেতাকর্মীরা মাজারে গিলাপ প্রদান করেন। এছাড়াও বিভিন্ন সংগঠন ও ব্যক্তির পক্ষ থেকেও মাজারে গিলাপ প্রদান করা হয়।
ওরসকে ঘিরে মাজার প্রাঙ্গণে বসেছিল বাউলদের আসর। বাউলসাধকরা হৃদয় উজাড় করে নিবেদন করেছেন ভক্তিমূলক ও পীর-মুর্শিদি গান। কিছুক্ষণ পরপর জাল্লে জালাল বাবা শাহজালাল, লালে লাল বাবা শাহাজালাল স্লোগান তুলে মাজার প্রাঙ্গণ সরগরম করে রাখেন।
ওরস উপলক্ষ্যে ভক্ত-আশেকানরা দেড়শতাধিক গরু ও খাসি নিয়ে আসেন নজরানা হিসেবে। সারাদেশ থেকে আসা ভক্ত-আশেকানদের মধ্যে শিরনি বিতরণের জন্য পশুগুলো জবাই করা হয়। ওই মাংস দিয়ে রান্না করা শিরনি মাজারে আগতদের মধ্যে বিতরণ করা হয়।
মঙ্গলবার দিবাগত রাত সাড়ে ৩টা পর্যন্ত জিকির ও এবাদত বন্দেগির মাধ্যমে ভক্তরা সময় অতিবাহিত করবেন। বুধবার ভোররাতে আখেরি মোনাজাতের মাধ্যমে দু দিনব্যাপী ওরস শেষ হয়। মোনাজাতের পর পরই অগণিত ভক্তদের মাঝে বিতরণ করা হয় শিরনি।
এছাড়া দেশি-বিদেশি ভক্ত-আশেকানরা গিলাফ-হজরত শাহজালাল (রহ.) তরবারির রেপ্লিকা ও লাল সালু মাথায় বেঁধে মাজারে আসছেন। দু দিনব্যাপী ওরসে মানুষের ঢল নামে। শাহজালালের মাজার প্রাঙ্গণ থেকে নগরের অলিগলিতে ভক্তদের সমাগম ঘটে। নগরে বিরাজ করে উৎসবের আমেজ।
শাহজালাল (র.) ৬৯৭তম বার্ষিক ওরসে আসা ঢাকার মুগদা এলাকার রহিম মিয়া জানান, ওরস শুরুর সপ্তাহখানেক আগেই সিলেট পৌঁছেন তিনি। রহিম জানান, প্রতিবছর ‘বাদশার বাড়িতে’ (শাহজালালে মাজার) দুই তিনবার না আসলে শান্তি পাই না। এ জন্যই প্রতিবছর ওরসের সপ্তাহখানেক আগেই সিলেট আসি।
৩৬০ আউলিয়া আশেকান পরিষদের সভাপতি শেখ মো. মখন মিয়া চেয়ারম্যান বুধবার ভোররাতে জানান, মঙ্গলবার ভোরে গিলাফ ছড়ানোর মাধ্যমে শুরু হওয়া ওরস বুধবার ভোরে আখেরি মোনাজাত ও শিরনি বিতরণের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে।
মাজার কমিটি সূত্রে জানা জানায়, ওরসে আগত অতিথিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশের পাশাপাশি ভক্ত আশেকানদের সমন্বয়ে ১৮০০ স্বেচ্ছাসেবক নিরাপত্তা কর্মী হিসেবে কাজ করেন। এছাড়া ওরসে কেউ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাৎক্ষণিক চিকিৎসা সেবার জন্য মেডিকেল টিমের পাশাপাশি ফায়ার সার্ভিস, বিদ্যুৎ বিভাগের আলাদা টিম মাজার এলাকায় সার্বক্ষণিক অবস্থান করছিল।
এছাড়া ওরসের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মাজার কমিটির পক্ষ থেকে ২৪টি সিসি ক্যামেরা ও পুলিশের পক্ষ থেকেও আরো ২০টি সিসি ক্যামেরার পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে স্পাই ক্যামেরা বসানো হয়। মাজারের ওরস নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে সবকিছু পরিচালিত হয়। সিসি ক্যামেরার নিয়ন্ত্রণ করে মহানগর পুলিশের একটি দল।
হজরত শাহজালাল (র.)-এর মাজারের সরেকওম (মোতোয়াল্লি) ফতেহ উল্লা আল আমান বলেন, খুবই সুন্দর ও শান্তিপূর্ণভাবে ওরস সম্পন্ন হয়েছে। ভক্তদের সুন্দরভাবে মাজারে জায়গা করে দেওয়া হয়েছে।
সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার মুহাম্মদ রহমত উল্লাহ বলেন, ওরস উপলক্ষ্যে ৫ স্তরের নিরাপত্তা বলয় ছিল। কোনো ধরনের বিশঙ্খলা ছাড়াই শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ওরস শেষ হয়েছে।

Share





Related News

Comments are Closed