পাখি পালনে সফল উদ্যোক্তা আব্দুর রহমান
অমিতা সিনহা: মাত্র আড়াই মাসের প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে নিজ প্রচেষ্টায় স্বাবলম্বী হয়ে উঠেছে সিলেটের যুবক আব্দুর রহমান (২৮) । নিজ প্রশিক্ষণকে বিফল হতে দেননি। স্বল্প মূল্যের প্রাণিজ আমিষ শিল্পের প্রতি আগ্রহ থেকে নিজ খরচে উদ্যোগ নিয়ে তিনি খামার গড়ে তুলেছেন নিজস্ব জায়গায়। শুরুতে নিজের বাড়িতে মাত্র ৮ হাজার টাকা দিয়ে কোয়েল পাখি পালন করেছিলেন। এখন লাখ টাকার খামার গড়ে তুলেছেন তার বটেশ্বরের ১৯ শতক জমিতে। যে খামারের কোয়েল পাখি ও ডিম বিক্রি করে এখন তার দৈনিক আয় হয় ১০ হাজার টাকার উর্ধ্বে।
আব্দুর রহমানের কর্ম উদ্যোগ এখানেই সীমিত নেই। তার মতো স্বাবলম্বী হতে ইচ্ছুক যুবকদের পাশে থেকে অনুপ্রেরনা যুগিয়ে যাচ্ছেন । তাদেরকে কোয়েল পালনের নির্দেশণা দেওয়ার পাশাপাশি নিজ খামারের একেকটি পাখি ও প্রয়োজনীয় খাবার তুলে দিচ্ছেন ওই সব যুবকদের হাতে। যাতে তারা বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনের মাধ্যমে নিজস্ব খামার গড়ে তুলতে পারে। তিনি ইতোমধ্যে সিলেট বিভাগের সেরা পোল্ট্রি উদ্যোক্তার পুরস্কারও ছিনিয়ে এনেছেন।
সরেজমিনে পরিদর্শনকালে, সিলেট নগরীর সোনার পাড়ার বাসিন্দা যুবক আব্দুর রহমান বলেন, উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করার পর বাড়ির সবাই প্রবাসে কিংবা চাকরির জন্য চাপ দিয়েছিলো। কিন্তু এই সবে আমার মন ছিলো না। আমার আগ্রহ ছিলো দেশে কোন কাজ করে নিজ পায়ে দাড়াঁনোর । তাই ২০১০ সালে যুব উন্নয়ন প্রশিক্ষন কেন্দ্রে আড়াই মাসের ট্রেনিং নিয়ে নিজ বাড়িতে ৩শ’ ২০টি কোয়েল পাখি দিয়ে প্রাণিজ আমিষের ব্যবসা শুরু করি। প্রথম পর্যায়ে কোয়েল পাখির ডিম থেকে বাচ্চা জন্মাতে গিয়ে আর্থিকভাবে আমাকে অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হতে হয়। কিন্তু আমি হার মানিনি।
চার ভাই-বোনের মধ্যে সবার বড় ছেলে হিসেবে আমি পরিবারের জমানো টাকা থেকে লাখ খানেক টাকা ব্যয় করে বটেশ্বরে কোয়েল পাখির খামার গড়ে তুলি। এখন সিলেট বিভাগে কোয়েল পাখির একজন সফল খামার হিসেবে ব্যবসায়ীরা আমার কাছ থেকে পাখি আর ডিম কিনতে উদগ্রীব। বর্তমানে আমার খামারের দৈনিক আয় হচ্ছে ১০ হাজার টাকার উর্ধে। সম্প্রতি নগরীর শিবগঞ্জ বাজারে ‘সরকার কোয়েল’ নামে একটি দোকান করেছি। এতে করে পোল্ট্রির ব্যবসায়ীরা সহজেই পাখি ও ডিম সংগ্রহ করতে পারছেন। বর্তমানে আমার খামারে ৫জন যুবক কাজ করছে। পাশাপাশি তারা নিজেদেরও কোয়েল পাখির খামার গড়ে তুলেছেন।
আব্দুর রহমান বলেন, নিজের খামার পরিচালনার পাশাপাশি সমাজের বেকার যুবকদের স্বাবলম্বী হওয়ার অনুপ্রেরণা যুগিয়ে তিনি আনন্দ পান। তিনি আরো বলেন, ২০১৪ সনে সারা দেশে ৮৬জনের মধ্যে সেরা বিভাগীয় পোল্ট্রি উদ্যোক্তার পুরস্কারও গ্রহন করেছি।
যুব উন্নয়ন কেন্দ্রের সংশ্লিষ্টরা জানায়, সিলেটের যুব উন্নয়ন প্রশিক্ষণ কর্মশালায় নারী- পুরুষ সকলেরই অংশ গ্রহণের সুযোগ আছে । কিন্তু কৃষি ও পোল্ট্রি শিল্পের প্রশিক্ষনে মহিলাদের অনাগ্রহের কারণে শুধু পুরুষরাই প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন। সিলেটের ১৩টি উপজেলা থেকে প্রতি ব্যাচে ১৮-৩৫ বছরের ৬০জন যুবককে ৩ মাসের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।
প্রশিক্ষণ কোর্সের মধ্যে রয়েছে- হাঁস-মুরগি, গবাদি পশু পালন, মৎস চাষ ও কৃষি বিষয়ক শিক্ষা । ট্রেনিং শেষে তাদেরকে সনদপত্র প্রদান করা হয়। তাছাড়া প্রশিক্ষণকে কাজে লাগাতে আগ্রহী যুবকদের জন্য ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ প্রদানের সুবিধা আছে।
সিলেট জেলা যুব উন্নয়ন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত সমন্বয়কারী এস এ এম কবীর বলেন, এই অঞ্চলের যুবকরা দেশীয় কৃষি কিংবা আমিষ জাতীয় খাদ্য উৎপাদনের আগ্রহ রয়েছে। ছেলেদের সাথে যদি সিলেটের মেয়েরাও এগিয়ে আসে তবে, দেশীয় পোল্ট্রি শিল্পকে আরো এগিয়ে নেওয়া সম্ভব ।
এক প্রশ্নের জবাবে জেলা যুব উন্নয়ন প্রশিক্ষন কেন্দ্রের উপ- পরিচালক মোহাম্মদ আলাউদ্দিন বলেন, যুব উন্নয়ন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র থেকে প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত যুবকদের তদন্তের মাধ্যমে আর্থিক সুবিধা দেওয়া হয়। এছাড়া জনতা ব্যাংক, কৃষি ব্যাংক ও কর্মসংস্থান ব্যাংককের সুযোগ সুবিধাও তাদের জন্য রয়েছে।
Related News
পরিত্যক্ত জমিতে লাউ চাষে সাফল্য, বিষমুক্ত সবজিতে হাসি ফুটেছে কৃষক ফারুকের মুখে
আনোয়ার হোসেন রনি, ছাতক সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি: সুনামগঞ্জের ছাতকে বাড়ির সামনে দীর্ঘদিনের পরিত্যক্ত জমিতে উচ্চফলনশীল লাউRead More
নড়াইলের পাট চাষিরা দাম নিয়ে দুঃচিন্তায়
নড়াইল সংবাদদাতা: নড়াইলের গ্রামীণ জনপদে পাট কাটা,পচানো এবং ধোঁয়ায় ব্যস্ত সময় পার করছেন পাট চাষিরা।অনেকেRead More



Comments are Closed