লালমনিরহাটে বন্যায় ২৫ গ্রাম প্লাবিত
লালমনিরহাট প্রতিনিধি: লালমনিরহাটে দেখা দিয়েছে বন্যা। জেলার পাঁচ উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের ২৫ গ্রামের ৩০ হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন। বিশুদ্ধ পানি ও খাদ্যের অভাবে পানিবন্দী লোকজন কাটাচ্ছেন মানবেতর জীবন। যাতায়াতের চরম কষ্টে পড়েছেন পানিবন্দী এসব মানুষ। এসব বন্যার্ত মানুষের জন্য সরকারীভাবে ত্রান এখনো পৌঁছেনি তাদের হাতে।
উজান থেকে নেমে আসা পানিতে লালমনিরহাটে দেখা দিয়েছে ব্যাপক বন্যা। জেলার ৫টি উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের রাজপুর, কুলাঘাট, মোগলহাট, চর গোবর্ধন, মহিষখোঁচা, হরিণচড়া, চর বৈরাতি, সির্ন্দুনা, গড্ডিমারী, দহগ্রাম, আঙ্গোরপোতা সহ ২৫ টি গ্রামের প্রায় ৩০ হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন। এসব এলাকায় রোপা আমনসহ বিভিন্ন সব্জীর ক্ষেত গত দুইদিন থেকে পানির নীচে তলিয়ে রয়েছে। বিশুদ্ধ পানি, খাদ্য ও যাতায়াতের চরম সঙ্কটে পড়েছেন পানিবন্দী লোকজন। অনাহারে অর্ধাহারে পরিবার পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন তারা।
এদিকে বন্যার পানি প্রবেশ করেছে গোবর্দ্ধন ইসমাইল পাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়েও। ফলে বিদ্যালয়ে উপস্থিতিও গেছে কমে। সোমবার বন্যার পানি আরো বেড়ে যাওয়ায় বিদ্যালয়টি বন্ধ ঘোষনা করেছে কর্তৃপক্ষ। শিক্ষার্থী সামিনা আক্তার, আফরোজা বেগম, সিয়াম, জিয়াউর রহমান জানান, আমাদের ঘরেও পানি বাইরেও পানি বিদ্যালয়েও পানি ওঠেছে। তাই আমাদের চলাফেরা, খাওয়া-দাওয়া, ঘুমানো খুবই কষ্টকর হয়েছে।
ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল জলিল বলেন, স্কুল ঘরে পানি ওঠায় এবং এলাকায় ব্যাপক বন্যা দেখা দেয়ায় বিদ্যালয় বন্ধ দেয়া হয়েছে।
টানা বর্ষন আর তিস্তা ও ধরলার পানি হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় আকস্মিক এ বন্যার সৃষ্টি হয়েছে। বন্যার পানি ঘরে বাইরে থৈ থৈ করছে। গৃহপালিত পশু-পাখী নিয়ে চরম দুরাবস্থার মধ্যে রয়েছেন পানিবন্দী মানুষজন। বাধ্য হয়ে তাদের অনেকেই গরু ছাগল বিক্রি করছেন স্বল্প মুল্যে।
পানিবন্দী মানুষের কেউ কেউ আশ্রয় নিয়েছেন সরকারী রাস্তা, স্কুল ও কলেজের মাঠে। ঘরে-বাইরে সবখানে বন্যার পানি উঠায় কাজ-কর্মহীন হয়ে পড়েছেন খেটে খাওয়া এসব মানুষ। তারা তীর্থের কাকের মতোই তাকিয়ে রয়েছেন সরকারী অথবা বেসরকারী সাহায্যের দিকে।
এদিকে তিস্তা নদীর পানি সোমবার সকাল থেকে ব্যারাজ পয়েন্টে বিপদসীমার ১০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
পানিবন্দী বালাপাড়া এলাকার রফিকুল ইসলাম, এরশাদ হোসেন, আছিয়া বেগম, শহির উদ্দিন সহ অনেকই অভিযোগ করেছেন, এখনো কোন সাহায্য সহযোগীতা পৌঁছেনি বন্যার্তদের কাছে। তাই চরম খাদ্য কষ্টে রয়েছেন বন্যার্তরা।
লালমনিরহাট জেলা ত্রাণ ও পূর্নবাসন কর্মকর্তা একেএম ইদ্রিশ আলী জানালেন বন্যার্তদের জন্য ১শ’ ৯০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও মেম্বারগন তা বন্যার্তদের মাঝে বিতরণ করছেন।
Related News
পঞ্চগড়ের আকাশে মায়াবী কাঞ্চনজঙ্ঘা, মেঘ সরতেই ধরা দিল হিমালয়ের রূপালি মুকুট
সফিকুল আলম দোলন, পঞ্চগড় জেলা প্রতিনিধি: অপেক্ষার প্রহর শেষে মেঘের আড়াল ভেদ করে উত্তরের আকাশেRead More
রংপুরে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকে বাসের ধাক্কা, তিনজনের মৃত্যু
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার বৈরাগীগঞ্জে ঢাকা-রংপুর মহাসড়কে দাঁড়িয়ে থাকা একটি ট্রাকে বাসের ধাক্কায়Read More



Comments are Closed