Main Menu

শিক্ষা মন্ত্রী আসবেন! “তাই”

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি: শিক্ষা মন্ত্রী মহোদয় আসবেন! “তাই” ঘন্টার পর ঘন্টা দাড়িয়ে থাকতে হলো ঝড় বৃষ্টি উপেক্ষা করে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের। শনিবার দিরাই পৌর এলাকার বিভিন্ন বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সকাল ১০টা থেকে দুপুর অবধি রাস্তায় লাইন ধরে দাড় করিয়ে রাখা হয়। হাতে ফুলের স্টিক, ব্যানার ফেস্টুন দিয়ে। হাইকোর্ট থেকে এ বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও তার কোন তোয়াক্কা না করেই বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের এই উদাসীনতাইকে মানতে পারছেন না ছাত্রছাত্রী কিংবা অভিভাবকরা। আবার প্রতিবাদও করছেন না কোমলমতি শিক্ষার্থীরা।
জানা যায়, শনিবার দিরাই উপজেলা সদরে সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত মহিলা কলেজ ও পলিটেকনিক ইন্সষ্টিটিউট উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ছিল। শিক্ষা মন্ত্রী আসবেন মন্ত্রীকে বরণ করতে হবে শুধুমাত্র এই কারণে বৈরী আবহাওয়া উপেক্ষা করে ঘন্টার পর ঘন্টা শিক্ষার্থীদের বৃষ্টির মধ্যে দাড় করিয়ে রাখা হয়। যা স্বাভাবিকভাবে মেনে নিতে পারেননি অভিভাবক, সচেতন নাগরিকরা।
এ ব্যাপারে পৌর এলাকার বাসিন্দা সাইদুল ইসলাম জানান, ঝড় বৃষ্টির মধ্যে ছোট ছোট ছেলে-মেয়েদের লাইনে দাড় করিয়ে রাখা অমানবিকই নয় মানবাধিকার লঙনও বটে।
দিরাই উচ্চ বিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক আব্দুল হাইয়ুম তালুকদার জানান, শনিবার আমার ছেলের অর্ধ বার্ষিক পরীক্ষা ছিল বিকালের শিফটে, শিক্ষকরা সকালে পরিক্ষা হবে বলে তাদেরকে মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে সকালে উপস্থিত করানো হয়। সকালের শিফটের পরীক্ষাও নেয়া হয়নি মন্ত্রীকে স্বাগত জানানো হবে তাই। পাশাপাশি বিকালের শিফটের শিক্ষার্থীদের দাড় করিয়ে রাখা হয় এবং ঐ দিনের নির্ধারিত পরীক্ষা গ্রহন স্থগিত করে দেয়া হয়।
দিরাই উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের সভাপতি আব্দুল হক বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, আমাদের বিদ্যালয়ের ছাত্রীরা বিদ্যালয়টি সরকারী করণের দাবীতে রাস্তায় দাড়িয়েছিল।
দিরাই উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সব্যচাষী দাস চয়ন দাড়িয়ে থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, শিক্ষার্থীরা কোনদিন সরাসরি শিক্ষামন্ত্রীকে দেখেনি, মন্ত্রীকে দেখবে এবং অভিনন্দন জানাতে দাড়িয়েছিল।
দিরাই বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জাফর ছিদ্দিকীর নম্বরে ফোন দেয়া হলে সাংবাদিক পরিচয় জেনে পরে কথা বলবেন বলে লাইন কেটে দেন।
এ ব্যাপারে জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নিজাম উদ্দিন শিক্ষার্থীদের দাড় করানোর বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, এ ব্যাপারে আমি নিজেও ক্ষুদ্ধ। আমি ঐ সব বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকসহ কর্তৃপক্ষকে কারণ দর্শানোর চিঠি দেব। কেন সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত রাস্তায় দাড় করিয়ে রাখা হয়। তিনি আরও বলেন, বিষয়টি মন্ত্রী মহোদয় জানতে পারলে তিনিই বেশী ক্ষুদ্ধ হবেন।

Share





Related News

Comments are Closed