Main Menu

সিলেট শিল্পকলা একাডেমি থেকে পাঁচ প্রশিক্ষকের অব্যাহতি

বৈশাখী নিউজ ২৪ ডটকম : পারিবারিক ও ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে সিলেটের প্রবীণ কন্ঠশিল্পী হিমাংশু বিশ্বাসসহ পাঁচজন প্রশিক্ষক সিলেট জেলা শিল্পকলা একাডেমি থেকে স্বেচ্ছায় অব্যাহতি নিয়েছেন। তদন্ত চলাকালে তাঁরা পারিবারিক কারণ দেখিয়ে অব্যাহতি নেন বলে শিল্পকলা একাডেমি সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
স্বেচ্ছায় অব্যাহতি নেওয়া পাঁচ প্রশিক্ষক হলেন, হিমাংশু বিশ্বাস, অরবিন্দু দাশগুপ্ত, অনিমেষ বিজয় চৌধুরী, বিপুল শর্মা ও ইসমাইল গণি হিমন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, শিল্পকলা একাডেমিতে বর্তমানে প্রশিক্ষকের দায়িত্বে ছিলেন ১১ জন; আর তবলা সহকারী প্রশিক্ষক আছেন ৪ জন। ৮টি বিভাগে ১৫ জন প্রশিক্ষকের মাধ্যমে চলছে শিল্পকলা একাডেমির প্রশিক্ষণ প্রদান। বর্তমানে আবৃত্তি ও নাটক প্রশিক্ষণ নিয়মিত চলছে। মাঝে মধ্যে নৃত্য ও তবলার ক্লাস হয়। বাকি বিভাগের প্রশিক্ষণার্থীরা ঠিকমতো একাডেমিতে এলেও প্রশিক্ষকরা না আসায় তাদের ফিরে যেতে হচ্ছে।
শিল্পকলা একাডেমির হ জ ব র ল অবস্থার কারণ হচ্ছে, গত ২৫ মে জাতীয় কবির জন্মদিন পালনের বদলে শিল্পকলায় ‘সার্কাস’ প্রদর্শনী এবং ৩০ মে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও জাতীয় কবি নজরুল ইসলামের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সিলেটের প্রবীণ কন্ঠশিল্পী হিমাংশু বিশ্বাসকে ‘অপমান’ করার ইস্যুতে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। বিশেষ করে প্রবীণ কন্ঠশিল্পী হিমাংশু বিশ্বাসকে ‘অপমান’ করার ইস্যুতে সংস্কৃতিকর্মীরা সিলেট জেলা কালচারাল অফিসার অসিত বরণ দাশগুপ্তের বিরুদ্ধে ফুঁসে ওঠেছেন। তাঁরা অসিতের অপসারণ দাবি করে মানববন্ধন, সভা এবং জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দেন। এ ঘটনায় জেলা প্রশাসকের নির্দেশে গত ৯ জুন ৩ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটিও ঘটনা করা হয়। কমিটিকে পরবর্তী ৭ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। ১৩ জুন থেকে তদন্ত কমিটি তাদের কার্যক্রম শুরু করে। যার সময় গত ১৯ জুন রোববার অতিবাহিত হয়েছে। তদন্তকাজ চলাকালেই ব্যক্তিগত ও পারিবারিক কারণ দেখিয়ে পাঁচ প্রশিক্ষক অব্যাহতি নেন।
সিলেট জেলা শিল্পকলা একাডেমির উচ্চমান সহকারী রবিউল আহমেদ রনি বলেন, আমরা দুজন প্রশিক্ষকের অব্যাহতি অনুলিপির কপি পেয়েছি। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, চুক্তি অনুযায়ী ওই প্রশিক্ষকদের আগামী ৩০ জুন মেয়াদ শেষ হবে। প্রতিবছর মেয়াদ শেষে প্রশিক্ষকদের চুক্তির মেয়াদ বাড়ানো হয়। তিনি বলেন, এরআগেই তারা ব্যক্তিগত ও পারিবারিক কারণ দেখিয়ে অব্যাহতি নিয়েছেন। রনি বলেন, প্রতিদিন সব বিভাগের প্রশিক্ষণার্থী প্রতিষ্ঠানে আসেন। তবে প্রশিক্ষক না থাকায় চারটি বিভাগে ক্লাস হচ্ছে না। আবৃত্তি ও নাটকের প্রশিক্ষণ চলছে। পাশাপাশি মাঝে মধ্যে নৃত্য ও তবলা প্রশিক্ষণ চলছে।
তদন্ত কমিটির প্রধান মদনমোহন কলেজের অধ্যক্ষ আবুল ফতেহ ফাত্তাহ বলেন, তদন্ত কাজ চলছে। গত রোববার বেঁধে দেওয়া ৭ দিন সময় অতিবাহিত হয়েছে। আমরা তদন্ত চালাচ্ছি। এ বিষয়ে আজ বৃহস্পতিবার বৈঠক আছে।
এ ব্যাপরে প্রবীণ কন্ঠশিল্পী হিমাংশু বিশ্বাস বলেন, আমরা পাঁচজন কারণ দেখিয়ে স্বেচ্ছায় অব্যাহতি নিয়েছি। আমরা জেলা প্রশাসকের কাছে অব্যাহতিপত্র দিয়ে অব্যাহতি নিই।
উল্লেখ্য, ‘অপমান’ ও ‘অপসারণ’ ইস্যুতে বেশ কিছু দিন থেকে উত্তাপ বিরাজ করছে সিলেটের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে। প্রবীণ ও প্রখ্যাত এক কণ্ঠশিল্পীকে ‘অপমান’ করার অভিযোগ ওঠে জেলা কালচারাল অফিসার অসিত বরণ দাশগুপ্তের বিরুদ্ধে। এরপরই তাঁর অপসারণ দাবি করে সাংস্কৃতিককর্মীরা শুরু করেন আন্দোলন।

Share





Related News

Comments are Closed