Main Menu

পটুয়াখালীতে মা-মেয়েকে গণধর্ষণ, আটক ১

বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলায় মা ও মেয়েকে গণধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে।

শনিবার রাতে তেঁতুলিয়া নদীর ভরিপাশা পয়েন্টের চর ঈশানের কাছে একটি ট্রলারে মধ্যে এ ধর্ষণের ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করেছেন ধর্ষিতার স্বামী পরিতোষ বর্মন।

রবিবার বিকেলে ধর্ষিতার স্বামী বাদী হয়ে ছয়জনকে আসামি করে একটি মামলা করেছেন।

এদিকে ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে নুর আলম (৩৫) নামের এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে।

পরিতোষ বর্মন জানান, শনিবার সকাল ১০টার দিকে তার স্ত্রী ও মেয়ে ভাড়াটে মোটরসাইকেলে করে কালাইয়া বন্দরের শৌলা নুরজাহান গার্ডেনে বেড়াতে যান। সন্ধ্যার দিকে মা ও মেয়ে অপর একটি মোটরসাইকেলে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেন। কিন্তু মোটরসাইকেল চালক তাদেরকে বাড়ির পথে না নিয়ে পার্শ্ববর্তী নাজিরপুর ইউনিয়নের নিমদি এলাকার নদীর পাড়ে নিয়ে যায়।

এ সময় পরিকল্পনা অনুযায়ী নদীর পাড়ে অবস্থানরত ছয় ব্যক্তি মা ও মেয়েকে জোর করে একটি মাছ ধরার ট্রলারে উঠিয়ে নদীর মধ্যে নিয়ে যায়। কিছুদূর যাওয়ার পর ওই ছয় ব্যক্তি পালাক্রমে তাদের ধর্ষণ করে।

প্রত্যক্ষদর্শী এক জেলে জানায়, রাত সাড়ে ১০টার দিকে তিনিসহ কয়েক জেলে নদীতে মাছ ধরছিলেন। তখন নদীর মধ্য থেকে একটি মেয়ের চিৎকার তারা শুনতে পান। এ সময় স্থানীয় একটি জেলে দল এগিয়ে গেলে ওই ট্রলার থেকে কয়েক ব্যক্তি নদীতে ঝাঁপ দিয়ে পালিয়ে যায়। পরে জেলেরা ট্রলার থেকে বিবস্ত্র অবস্থায় মা ও মেয়েকে উদ্ধার করেন এবং নুর আলমকে আটকে রাখেন। ট্রলারটি তারা ভড়িপাশা খেয়াঘাটে নিয়ে এসে থানায় খবর দেন।

আটক নুর আলম ধর্ষণের অভিযোগ স্বীকার করে জানান, তার বাড়ি নাজিরপুর ইউনিয়নের রামনগর তাতেরকাঠি গ্রামে। তার বাবার নাম রশিদ মল্লিক। ঘটনার দিন একই গ্রামের রহিম মীর তাকে মোবাইল ফোনে একটি ট্রলারের নষ্ট মেশিন ঠিক করার কথা বলে নিমদি নদীর পাড়ে নিয়ে যায়। সেখানে তিনি ছাড়াও কাদের মৃধার ছেলে হারুন মৃধা (৪৫) ও রায় তাতেরকাঠি গ্রামের আমির হাওলাদারের ছেলে সোহেলসহ ছয়জন ছিল। হারুন মৃধা ওই নারী ও তার মেয়েকে খবর দিয়ে মোটরসাইকেলে নিমদি নদীর পাড়ে নিয়ে আসে। এরপর তাদের ট্রলারে তুলে মাঝ নদীতে নিয়ে সবাই মিলে পালাক্রমে ধর্ষণ করে।

বাউফল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আযম খান ফারুকী জানান, শনিবার মধ্য রাতে কেশবপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন লাবুর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশের একটি দল ভড়িপাশা থেকে মা ও মেয়েকে উদ্ধার করে। এ সময় নুর আলম নামে একজনকে আটক করা হয়। রাত ২টার দিকে মা ও মেয়েকে বাউফল হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। পরে মা ও মেয়ের স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য পটুয়াখালী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

Share





Related News

Comments are Closed