বিনা দোষে জেল খাটছে তিন রিক্সা চালক!
বৈশাখী নিউজ ২৪ ডটকম : পুলিশ জনগণের সেবক, এ কথাকে মিথ্যা প্রমান করে চলেছেন সিলেটের দক্ষিণ সুরমা পুলিশ ফাড়িঁর কর্তব্যরত পুলিশ কর্মকর্তারা। তারা বর্তমানে রক্ষকের জায়গায় ভক্ষকের ভুমিকা পালন করছেন। রাতের আধাঁরে কিংবা দিনের আলোয় ফাড়িঁ পুলিশের টহল বাহিনী অপরাধ দমনের বদলে নিজেরাই অপরাধকে প্রশ্রয় দিয়ে যাচ্ছেন। ফাড়িঁ এলাকার ভেতর অবস্থিত বিভিন্ন অপরাধের আস্তানা উচ্ছেদ না করে অপরাধীদের আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগ অনেক পূরনো। রেলওয়ে স্টেশন, কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল, ক্বীন ব্রিজ এলাকাসহ প্রতিটি পাড়া মহল্লায় রাতের বেলা ফাড়িঁ পুলিশ টহলের নামে নিরপরাধ মানুষকে ধরে এনে ফাড়িঁতে আটকিয়ে রেখে টাকার বিনিময় ছেড়ে দিচ্ছে। টাকা না পেলে তাদেরকে মিথ্যা মামলায় আসামী বানিয়ে চালান দিচ্ছেন আদালতে। এ রকম গুরুতর অভিযোগ উঠেছে ফাড়িঁর এএসআই অরুনের বিরুদ্ধে। অনেক ভদ্র পরিবারের সন্তানদের রেলওয়ে স্টেশন কিংবা টার্মিনাল এলাকায় একা পেলে এএসআই অরুন গাড়িতে উঠিয়ে নিয়ে যান ফাড়িঁতে। পরে এএসআই অরুন সাজানো অবাঞ্চিত পতিতাদের সাথে আদালতে চালানের ভয় দেখিয়ে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেন। এএসআই অরুনের ধারাবাহিক নির্যাতনের হাত থেকে রেহাই পায়নি নিরপরাধ তিন রিক্সা চালকসহ ৫ ব্যক্তি। ঐ পাঁচ ব্যক্তিকে আটকের পর টাকা না পেয়ে আদালতে চালান দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ফাড়িঁ পুলিশের এ এসআই অরুনের বিরুদ্ধে। ৫ ব্যক্তিকে হয়রানীর অভিযোগে গত ২৮ মে পুলিশ কমিশনার বরাবর লিখিত অভিযোগ প্রদান করেছেন, সিলেট নগরীর কদমতলী এলাকার ফজলু মিয়ার ছেলে আল আমিন।
লিখিত অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, কদমতলী পয়েন্ট সংলগ্ন মাইক্রোবাস কাউন্টারের পাশে তার একটি রেষ্ট্রুরেন্ট রয়েছে। গত ২৬ মে রাত ২টায় এএসআই অরুন রেষ্ট্রুরেন্টে আচমকা পুলিশ সদস্যদের নিয়ে প্রবেশ করেন। রেষ্ট্রুরেন্টের কর্মচারী কদমতলী এলাকার মৃত মারফত আলীর ছেলে পাভেজ আহমদ (১৭), দাউদপুর গ্রামের কৃষœ বিশ্বাসের ছেলে কানাই বিশ্বাস (১৬)কে কোনো কারণ ছাড়াই জোর পূর্বক আটক করেন। এ সময় রেষ্ট্রেুরেন্টের ভেতর থেকে রিক্সা চালক রায়হান আহমদ (২৭), আকাশ (২৫) ও কিশোর রাসেল (১৫)কে আটক করে নিয়ে যান ফাড়িঁতে। পাঁচজনকে ফাড়িঁতে আটকিয়ে রেখে তিনি আল আমিনের কাছে জনপ্রতি ৫ হাজার টাকা করে ২৫ হাজার টাকা দাবি করেন। টাকা দিলে তাদেরকে ছেড়ে দেবেন বলে জানান। আল আমিন তাৎক্ষণিক টাকা জোগাড় করতে পারেননি। পরে এএসআই অরুন আটক রায়হানের কাছে থাকা ৩৮০ টাকা, পারভেজের কাছ থেকে ৩৯১ টাকা, আকাশের কাছ থেকে ৭০ টাকা, রাসেলের কাছ থেকে ১১৩০ টাকা জোরপূর্বক নিয়ে নেন। পরদিন সকালে পাচঁজনকে এসএমপি এ্যাক্টে আদালতে চালান দিলে রায়হান ও রাসেল আদালত থেকে জরিমানা দিয়ে মুক্ত হন। অপর তিন রিক্সা চালক আদালতের জরিমানার টাকা জোগাড় করতে না পারার কারণে এখনো কারাগারে আটক রয়েছে। এএসআই অরুনের হীন অপকর্মের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য আল আমিন প্রশাসনিক উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
উল্লেখ্য বিগত সময়ে অরুন কনস্টেবল থাকাকালীন সময়ে সিলেট কতোয়ালী থানায় মুন্সির দায়িত্ব পালন করতেন। সেই সময়ে মামলার ফটোকপি ৩০০ থেকে ৫০০ টাকায় তিনি বিক্রি করতেন। পরবর্তীতে এএসআই পদে পদোন্নতি পাওয়ার পর মুন্সির দায়িত্ব থেকে তাকে সরিয়ে বদলি করে দক্ষিণ সুরমা পুলিশ ফাড়িঁতে যোগদান করার নির্দেশ দেওয়া হয়। সেই থেকে আজ অবধি তিনি ফাড়িঁতে দায়িত্ব পালন করছেন। থানায় মামলার ফটোকপি বিক্রেতা এএসআই অরুন ফাড়িতে যোগদানের পর থেকে সাধারণ মানুষকে হয়রানী, টাকা আদায় করে আসছেন বলে অভিযোগ করেন স্থানীয়রা।
Related News
সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে স্বয়ংক্রিয় তথ্য বুথ উদ্বোধন
সিকৃবি সংবাদদাতা: সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (সিকৃবি) আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর সেবা কার্যক্রমকে সহজ, দ্রুত ও গতিশীল করারRead More
ওসমানী হাসপাতালে সাংবাদিক নির্যাতনের প্রতিবাদে সিলেটে সর্বস্তরের সাংবাদিকদের সমাবেশ
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে ইন্টার্নRead More



Comments are Closed