সিলেটে বিদেশে পাঠানোর নামে কোটি টাকা ‘আত্মসাত’, অভিযুক্ত রানা কারাগারে
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সিলেটে কানাডা, ইউকে, আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়াসহ বিভিন্ন দেশের ওয়ার্ক পারমিট, স্টুডেন্ট ভিসা, ভিজিট ভিসা দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে প্রায় কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে একটি প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে।
এই ঘটনায় ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী মাছুম আহমদ সিলেট অতিরিক্ত চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন (কোতোয়ালী সি আর মামলা নং- ১৩২৯/২৫)। তিনি নগরের ‘ফেইথ এসোসিয়েটস’ নামক একটি স্টুডেন্ট ও ভিজিট ভিসা প্রসেসিং প্রতিষ্ঠানের সত্ত্বাধিকারী।
মামলার এক নাম্বার আসামি নাহিদুজ্জামান রানাকে বুধবার (৮ জুলাই) কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত। তিনি নিজেকে একটি গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে প্রতারণা করেন বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।
মামলার আসামিরা হলেন— গোপালগঞ্জ উপজেলার নজির হোসেনের ছেলে মো: নাহিদুজ্জামান রানা (৩০), তার স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা স্মৃতি (২৮), ঠাকুরগাঁও এর মো: আব্দুস সালামের ছেলে মো: আবু সায়েম (২৫), মোহাম্মদ নিয়াজ উদ্দিন বিশ্বাসের ছেলে মোহাম্মদ আব্দুস সালাম (৬৫), মোহাম্মদ আব্দুস সালামের স্ত্রী মোছা: সালমা বেগম (৫৫)। আসামিরা সম্পর্কে একে অপরের আত্মীয় (স্বামী, স্ত্রী, শ্যালক, শ্বশুর ও শাশুড়ি)।
আদালত সূত্র ও মামলা সূত্রে জানা যায়, মামলার অপর আসমি মো: নাহিদুজ্জামান রানার স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা স্মৃতি জামিনে মুক্ত আছেন। বাকী আসামিরা পলাতক।
মামলার বিবরণীতে জানা যায়, ১নং আসামি মো: নাহিদুজ্জামান রানা নিজেকে ডিজিএফআই-এর একজন ‘মেজর’ পরিচয় দিয়ে বাদীর পাশের ফ্ল্যাটে সপরিবারে বাসা ভাড়া নেন। প্রতিবেশী হওয়ার সুবাদে বাদীর পরিবারের সাথে সুসম্পর্ক গড়ে তোলেন এবং নিজেদের ‘এন আর এসোসিয়েটস’ নামক একটি ভিসা প্রসেসিং প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স দেখান। পরবর্তীতে তারা সম্পূর্ণ গ্যারান্টি সহকারে ৩০ জন লোকের জন্য কানাডা স্কুলিং ভিসা, ইউকে ওয়ার্ক পারমিট, আমেরিকা ওয়ার্ক পারমিট এবং অস্ট্রেলিয়া ভিজিট ভিসা করার চুক্তি করেন এবং প্রতি ফাইলের জন্য অগ্রিম ৩ লক্ষ টাকা দাবি করেন।
এরপর আসামিরা বাদির কাছ থেকে বিভিন্ন ব্যাংকের চেক ও নগদসহ মোট ৯৮ লাখ ৩৫ হাজার টাকা আত্মসাৎ করেন।
টাকা নেওয়ার পর আসামিরা কোনো প্রকার ভিসা সংক্রান্ত কাগজপত্র না দিয়ে সময়ক্ষেপণ করতে থাকেন। একপর্যায়ে ১নং আসামি সিলেট থেকে বদলি হয়েছেন মর্মে ঢাকার বারিধারায় বাসা নিয়ে চলে যান এবং সিলেটের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বাসা বন্ধ করে দেন। পরবর্তীতে বাদী টাকা ফেরত চাইলে আসামিরা টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানান এবং পরে টাকা চাইলে বাদীকে প্রাণনাশের হুমকি প্রদান করেন।
এরপর ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী গত বছরের অক্টোবরে আদালতে অভিযোগ করেন। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে তদন্তের দায়িত্ব দিয়েছিলেন পিবিআই-কে। পিবিআই ঘটনার সত্যতা পেয়ে আদালতে রিপোর্ট জমা দেওয়ার পর আদালত আসামিদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু করেন।
Related News
সিলেটে উলামা মাশায়েখ পরিষদের বিক্ষোভ
Manual4 Ad Code বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: ‘৯০ ভাগ মুসলমানের দেশে কুরআন-সুন্নাহবিরোধী আইন চলবে না’ বলেRead More
সিলেটে কৃষি অধিদপ্তর এবং এফআইভিডিবির মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর
Manual7 Ad Code বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: এগ্রোইকোলজি ও টেকসই খাদ্যব্যবস্থা উন্নয়নে ও রূপান্তরকে এগিয়ে নিতেRead More



Comments are Closed