Main Menu

সরকারি দামে ধান বিক্রি করতে পারছে না কৃষকরা

মোস্তাফিজুর রহমান সুমন, ফুলবাড়ী (দিনাজপুর) প্রতিনিধি: দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে উপজেলা খাদ্য গুদামে সরকারি ভাবে ইরি-বোরো ধান সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিক ভাবে ক্রয় শুরু হলেও উপজেলার ৩২,৫৫৫ জন কৃষকের মধ্যে ২৮,৭৬৪ জন কৃষকই সরকারের কাছে বিক্রি করতে পারছেন না তাদের উৎপাদিত বোরো ধান।

অন্যান্য এলাকার ন্যায় ফুলবাড়ীতে এখন ইরি-বোরো ধান নিয়ে বিপাকে পড়েছে কৃষক। বাজারে ক্রেতা না থাকায় তারা ন্যয্য মুল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। প্রান্তিক চাষীরা পানির দামে বোরো ধান বিক্রি করে মিটাচ্ছে মজুরের খরচ। বর্ষা মৌসুমের এই ধান বিক্রি করতে না পেরে ধানের রক্ষণাবেক্ষন নিয়েও বিপাকে পড়েছে ধানচাষীরা।

উপজেলা কৃষি স¤প্রসারণ কর্মকর্তা এটিএম হামিম আশরাফ বলেন, ফুলবাড়ী উপজেলার মধ্যে ৩২ হাজার ৫৫৫টি সরকার রেজিষ্ট্রার ভুক্ত কৃষক পরিবার রয়েছে। এছাড়া রেজিষ্ট্রেশন ছাড়াও প্রায় ১০ হাজারের অধিক। এই মৌসুমে ইরি-বোরো ধান উৎপাদন হয়েছে ৮৫ হাজার ৪৯১ মে.টন বা ২১ লাখ ৩৭ হাজার ২৭৫ মন, সেখানে সরকার সরাসরি কৃষকের নিকট ধান ক্রয় করছে ১ হাজার ৯৭৫ মে.টন।

কৃষি অফিসের হিসাব অনুযায়ী একজন কৃষক ৪০ কেজি থেকে ১০০ কেজি পর্যন্ত ধান সরকারের নিকট বিক্রি করতে পারবে। এতে ৩২ হাজার ৫৫৫ জন কৃষকের মধ্যে সরকারের নিকট ধান বিক্রি করতে পারবে মাত্র ৩ হাজার ৭শত ৯১জন।

উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মধুসুদন বর্মণ বলেন, উৎপাদিত বোরো ধানের মধ্যে এই উপজেলায় খাদ্য চাহিদা রয়েছ ২৩ হাজার ২২ টন। সরকার ক্রয় করছে ১ হাজার ৯শত ৭৫ মে.টন। আর মিলারদের মাধ্যমে চাল ক্রয় করার সিদ্ধান্ত হয়নি। গত বোরো মৌসুমে মিলারদের মাধ্যমে ৭ হাজার ৫শত ৩০মে.টন চাল ক্রয় করা হয়েছে। সেই হিসাব অনুযায়ী উপজেলার চাহিদা পুরন হওয়ার পরে উদ্বৃদ্ধ থাকবে ৬০ হাজার মে.টন ধান । যা বিক্রি করার জায়গা নাই। একারণে ধান বিক্রি করতে পারছেন না উপজেলার প্রান্তিক ধানচাষীরা।

ধান চাষী আবদুর রহমান বলেন, বাজারে বোরো ধানের দাম না থাকায় প্রতি একর জমিতে কৃষকদের লোকসান গুনতে হচ্ছে ৭ থেকে ৯ হাজার টাকা পর্যন্ত। এতে প্রান্তিক চাষীরা ঋনের দায়ে জর্জরিত হয়ে যাচ্ছে। একই কথা বলেন, উপজেলা রাঙ্গামটি গ্রামের মমিনুল ইসলাম সহ অনেক ধানচাষী।

উপজেলা চাউল কল মালিক সমিতির সভাপতি সমিউল আলম বলেন, মিল মালিকেরা তাদের উৎপাদিত আমন মৌসুমের চাল এখন পর্যন্ত বিক্রি করতে পারে নাই। তাই ব্যাংকের ঋনও পরিশোধ হয়নি। তাই নতুন করে ব্যাংক থেকে টাকা নিয়ে তারা ধান কিনতে পারছেন না। তিনি বলেন, পার্শ্ববর্তী রাষ্ট্র ভারত থেকে আমদানি করা নিম্নমানের চাউল নিন্মদরে বাজারে সয়লাব হওয়ায় দেশীয় চাউলের বাজারে ধ্বস নেমেছে। তিনি আরো ও বলেন, অনেক মিল মালিকেরাই এখন পর্যন্ত তাদের ব্যাংক ঋনের বিপরীতে মজুদ করা চাউল বাজারে বিক্রি করতে পারে নাই। একারণে ব্যবসায়ীরা বোরো ধান কিনতে পারছে না বলেই বোরো ধানের বাজারে ধ্বস নেমেছে।

Share





Related News

Comments are Closed