Main Menu

মধুমাসের বাতাসে রসালো ফলের ঘ্রাণ : দাম চড়া

বৈশাখী নিউজ ২৪ ডটকম: ঋতু বৈচিত্রে মধুমাস জ্যৈষ্ঠ। কিন্তু মধুমাসের মধু ফলের এত ধৈর্য্য নেই! ক্যালেন্ডারের ছক মেনে চলতে হয় না তাদের। তাইতো বৈশাখ শেষ না হতেই আম, কাঁঠাল, লিচুর মৌ মৌ গন্ধ ছড়াতে শুরু করেছে জেলার সর্বত্র। গ্রীষ্মের শেষ সপ্তাহে বৃষ্টিতে তরমুজ- বাঙ্গির দিন যে শেষ । গ্রীষ্মকাল কেবল যন্ত্রণাতে ভোগাবে এতটা একতরফা নয় গ্রীষ্মের রীতি। প্রখর দাবদাহে প্রকৃতি ও মানুষ যখন গরম ও ক্লান্তিতে ধুঁকছে, সেই সময়ই শুরু হলো ঝুম বৃষ্টি, সাথে আসতে শুরু করেছে মধুমাসের মধু ফল। প্রকৃতি ক্লান্ত-শ্রান্ত মানুষদের স্বস্তি দিতে এ মাসেই উপহার দিয়ে থাকে রসালো ও সুস্বাদু ফল। বৈচিত্রময় রসে টইটম্বুর এসব মৌসুমী ফলের ঘ্রাণে এখন চারদিক মাতোয়ারা। ইতোমধ্যেই আম, কাঁঠাল, লিচু, জাম, আনারস ও জামরুলে ছেয়ে গেছে বাজার। রসালো এসব ফলে মনে পড়ে ঝড়ের দিনে মামার বাড়ি আম কুড়াতে সুখ/ পাকা জামের মধুর রসে রঙিন করি মুখ।
সিলেট নগীরতে ফলের বাজার ঘুরে দেখা যায়, আম ও লিচুতে সয়লাব। তবে নানা বর্ণের যে আম এখন বিক্রি হচ্ছে তা দেশীয় নয়, ভারত থেকে আমদানি করা। গুটি জাতের দেশীয় কিছু আম পাওয়া গেলেও তা অপরিপক্ব। এগুলো স্বাদের দিক দিয়ে যেমন নিæমানের, তেমনি স্বাস্থের জন্যও ক্ষতিকর। তারপরও এসব আম বিক্রি হচ্ছে ১৫০ থেকে ১০০ টাকা কেজি দরে। ভারত থেকে আসা আম স্থান ভেদে বিক্রি হচ্ছে ২২০ থেকে ১৪০ টাকা কেজি দরে। এদিকে প্রায় দু’সপ্তাহ হলো লিচু উঠতে শুরু করেছে। মোটা বিচিওয়ালা এসব লিচু টকমিষ্টি স্বাদের। বনেদি জাতের শাঁসালো রসালো লিচু, আম ও জাম পেতে আরও কিছু দিন সবুর করতে হবে। বাজারে বনেদি জাতের আম ও লিচু আসতে দেরি হলেও বসে নেই ফল ব্যবসায়ীরা। বিভিন্ন স্থান থেকে আসা এখন সিলেট নগরীর অলিগলিতে ফল বিক্রি করছে ব্যবসায়ীরা। একাধিক আড়ত ব্যবসায়ী জানালেন, এবার আবহাওয়া অনুক‚লে থাকায় গাছ ভরে প্রচুর ফুল এসেছিল আম ও লিচু বাগানে। চৈত্রের খরতাপ ও বৈশাখের শেষ সপ্তাহের বৃষ্টি এবং ঝড়ো হাওয়ায় কিছু ফুল নষ্ট হলেও লিচু ও আমের বা¤পার ফলন হয়েছে। বাজারে সবে মাত্র ফল আসছে। তাই মূল্যটাও একটু বেশি।
সিলেট নগরীর আম্বরখানা পয়েন্ট সংলগ্ন ফল ব্যবসায়ী রইছ আলী বলেন বলেন, এমনিতে মৌসুমের শুরুতে যে কোন পণ্যের মূল্য বেশি থাকে, সরবরাহ বাড়লে দামও কমে আসে।
লালদিঘিপাড় এলাকার ফল ব্যবসায়ী তছির আলী বলেন, মৌসুমি ফল বলতে বর্তমানে বাজারে রয়েছে তরমুজ, পেঁপে, বাঙ্গি, বেল, আম, কাঁঠাল, আনারস প্রভৃতি। গত বছরের তুলনায় এ বছর ফলন ভালো হওয়ার কারণে বাজারদর এখনো স্বাবাবিক রয়েছে। কিছুদিনের মধ্যে দাম আরো কমে আসবে।
প্রতিবছরের মতো এবারও বাজারে প্রচুর চাহিদা রয়েছে কিন্তু মূল্য বাড়ার কারণে সাধারণ ভোক্তাদের ক্রয়ক্ষমতা কমে গেছে। আম-কাঁঠাল-লিচুর সরবরাহ কম থাকায় দাম বেশি, অন্যদিকে বৃষ্টি হওয়ায় কমে গেছে তরমুজ-বাঙ্গির দাম। তবে দাম একটু বেশি হলেও মধু ফল বলে কথা। মধু সময়ের মধু ফলে বাঙালির চিরকালীন দুর্বলতা। তাপদাহের যন্ত্রণায় জনমনে একটু শীতলতার পরশ ও প্রশান্তি মধুমাসের এই মধু ফলে।
আম্বরখানায় একজন লিচু ক্রেতা নজীর হোসেন লাহিন বলেন, মধুমাসে ফলের ধাম চড়া থাকাতে আমরা ক্রয় করতে পারছি না। তবে রমজানের আগে যদি ফরমালিন মুক্ত ফল বাজারে আসে তবে ক্রেতা ক্রয় করতে সক্ষম হবে।
আরেকজন ক্রেতা জানালেন জুনেদ আহমদ বলেন, বর্তমানে ফলের দাম চড়া থাকায় আমরা ক্ষুদ্র ক্রেতারা ক্রয় করতে পারছি না।

Share





Related News

Comments are Closed