সাতক্ষীরার কলারোয়ায় পটলের বাম্পার ফলন
জুলফিকার আলী,কলারোয়া(সাতক্ষীরা)প্রতিনিধি: কলারোয়ায় চলতি মৌসুমে পটলের বাম্পার ফলন হয়েছে। তবে পটল উঠানোর শুরুতে যে দাম পেয়েছিলেন কৃষকরা কিন্তু শেষ মুহুর্তে দাম অত্যন্ত কম হওয়ায় কৃষকদের মধ্যে হতাশা বিরাজ করছে।
দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অন্যতম বৃহৎ পটলের হাট সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার কাজীরহাট, সোনাবাড়িয়া ও দমদম বাজার অন্যতম। এসব হাট থেকে প্রতিদিন হাজার হাজার মণ পটল যাচ্ছে ঢাকা, খুলনা, রাজশাহী, পঞ্চগড়, সৈয়দপুর, নীলফামারী, সিলেট, চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন জেলা সদরের বড় বড় মোকাম বা হাটে। কৃষক, ক্রেতা, বিক্রেতা, আড়ৎ ব্যবসায়ীসহ পটল শ্রমিকদের কাটছে ব্যস্ত সময়। চলতি মৌসুমে কলারোয়া উপজেলায় ২শ’ ৯০ হেক্টর জমিতে সন্ধ্যারানী ও ভারতীয় বোম্বাইসহ স্থানীয় বিভিন্ন জাতের পটলের চাষ হয়েছে বলে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মহসিন আলী জানান। এবারও পটলের খুব ভাল ফলন হয়েছে বলেও তিনি কৃষি বিভাগকে জানিয়েছেন। তবে প্রথম দিকে যে দাম ছিল ওই পরিমান দাম শেষ পর্যন্ত কৃষকরা পেতো তাহলে কৃষকরা ব্যাপক লাভমান হতেন বলে তিনি মনে করেন।
কলারোয়া উপজেলার ১২টি ইউনিয়নসহ যশোর-সাতক্ষীরা জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে চাষীরা পটল নিয়ে আসেন এই তিন মোকামে। হাজারো ক্রেতা বিক্রেতার সমাগম ঘটে এই হাটে। সপ্তাহে ২ দিন করে তিন হাটে মোট ৬ দিন পটল বাজার জমজমাট থাকে বলে স্ব-স্ব ইউনিয়নের ইউপি চেয়ারম্যানরা জানিয়েছেন। তবে পটলের স্থায়ী কোন বাজার না থাকায় কাজীরহাট বাজার মহাসড়কের পাশে, দমদম ও সোনবাড়িয়া বাজার চন্দনপুর-কলারোয়া সড়কের পাশেই পসরা সাজিয়ে বসেন বিক্রেতারা। এর ফলে সৃষ্টি হয় তিব্র যানজট।
কাজীরহাট বাজারের পটল আড়ৎ ব্যবসায়ী হুমায়ুন কবীর ও কামাল বিশ্বাস সাংবাদিকদের জানান, এই হাট থেকে প্রতিদিন ৬ থেকে ৭ হাজার মণ পটল রপ্তানী হয় দেশের বিভিন্ন জেলা সদরে।
পটল রপ্তানীকারক ও পাইকারী ব্যবসায়ী মহসিন আলী ও মুজিবার রহমান জানান, বাজারে পটলের খুব চাহিদা। পটলের ব্যবসা জমে উঠেছে। তবে প্রথম দিকে ভালোই দাম ছিল বর্তমানে দাম অত্যন্ত কম। বর্তমানে দাম কম হওয়ার কারণ জানতে চাইলে তারা বলেন,বানের পটল এবং ভুই’র পটল একই সাথে উঠায় দাম কমে গেছে। অন্যবার বানের পটল ও ভুই এর পটল এক সাথে উঠতো না বিধায় শেষ মুহুর্ত পর্যন্ত কৃষকরা ভালো দাম পেতো।
উপজেলার গোয়াল চাতর গ্রামের পরান পাল, নাকিলা গ্রামের দ্বীন মোহাম্মদ, দরবাসা গ্রামের ফারুক হোসেনসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা পটল চাষীরা জানান, এক বিঘা পটল চাষে তাদের খরচ হয় ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা। এবছর পটলের ফলনও বেশী। এক বিঘা জমিতে তারা ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকার মত পটল বিক্রি করছেন। বর্তমানে কেজি প্রতি ৩-৪ টাকায় বিক্রি হওয়ায় তাদের লাভ হচ্ছে না।
কাজীরহাট পটল হাটের লেবার সর্দার আনছার আলী জানান, তার অধীনে ১২০ জন শ্রমিক কাজ করেন। কাজীরহাটসহ বিভিন্ন হাটে ৮টি করে আড়তে তার ওই ১২০ জন শ্রমিক কাজ করে। তাদের মজুরীও ভাল হয়। তবে প্রতিদিন হাজার হাজার মণ পটল বিক্রি হলেও এখানে স্থায়ী কোন হাট গড়ে তোলা হয়নি। যে কারণে প্রায় দুর্ঘটনা ঘটে এবং যানজট তো লেগে আছেই। উপজেলার কাউরিয়া গ্রামের মুক্তার হোসেন জানান, তিনি এবছর ৫ বিঘা জমিতে পটল চাষ করেছেন। এ পর্যন্ত খরচ হয়েছে ১ লক্ষ টাকা। কিন্তু বিক্রি করেছেন ৩ লক্ষ টাকা। আর যদি শেষ পর্যন্ত দাম পেতেন তাহলে হয়তো আরো দুই লক্ষ টাকা বিক্রি করতে পারতেন বলে তিনি জানান।
এদিকে পটলের সংগে সাথী ফসলের চাষ কৃষকদের বাড়তি আয়ের পথ খুলে দিয়েছে। সে কারণে অনেক চাষী এখন পটল ক্ষেতে সাথী ফসল চাষ করছেন। উপজেলার সীমান্তবর্তী সোনাবাড়িয়া মাঠ ঘুরে দেখা যায়, পটল ক্ষেতে মরিচ, শাক, টমেটো, পেঁয়াজ, ধনে, ঢেঁড়সসহ নানা সাথী ফসল ফলিয়েছেন কৃষকরা। সোনবাড়িয়া গ্রামের আমিরুল ইসলাম জানান, ধান ও পাট ছেড়ে পটলসহ বিভিন্ন সবজি চাষ করছি। এতে লাভ হয় অনেক বেশী। বর্তমানে বাজারে কেজি প্রতি ৩-৪ টাকায় বিক্রি হচ্ছে পটল।
Related News
পরিত্যক্ত জমিতে লাউ চাষে সাফল্য, বিষমুক্ত সবজিতে হাসি ফুটেছে কৃষক ফারুকের মুখে
আনোয়ার হোসেন রনি, ছাতক সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি: সুনামগঞ্জের ছাতকে বাড়ির সামনে দীর্ঘদিনের পরিত্যক্ত জমিতে উচ্চফলনশীল লাউRead More
নড়াইলের পাট চাষিরা দাম নিয়ে দুঃচিন্তায়
নড়াইল সংবাদদাতা: নড়াইলের গ্রামীণ জনপদে পাট কাটা,পচানো এবং ধোঁয়ায় ব্যস্ত সময় পার করছেন পাট চাষিরা।অনেকেRead More



Comments are Closed