জৈন্তাপুরে মাদ্রাসা ছাত্রীকে ৩০ বেত্রাঘাত, শিক্ষক বহিস্কার
মোঃ রেজওয়ান করিম সাব্বির, জৈন্তাপুর প্রতিনিধি: সিলেটের জৈন্তাপুরে ছাত্রীকে ৩০টি বেত্রাঘাত করলেন মাদ্রাসা শিক্ষক। এ ঘটনায় কমিটির জরুরী সভায় শিক্ষককে বহিস্কার করা হয়েছে।
এলাকাবাসী ও সরেজমিনে ঘুরে জানা যায়, গত ৫মে বৃহস্পতিবার উপজেলার চিকনাগুল ইউনিয়নের চিকনাগুল আজিজিয়া মহিলা মাদ্রাসার তৃতীয় শ্রেনীর ছাত্রী কহাইগড় গ্রামের সমছুর উদ্দিন সমছুর মেয়ে মাসুমা বেগম (১২) পায়ে বিষফুড়া দেখা দেওয়ায় এবং সর্দ্দি-জ্বরে ভোগার কারনে ৩দিন অনুপস্থিত থাকে। সুস্থ হয়ে গত ৫মে মাদ্রাসার ক্লাসে উপস্থিত হলে অত্র মাদ্রাসার নাজিমে হুজুর মাওলানা অহিদ আহমদ মাসুমাকে ৩০টি বেত্রাঘাত করেন। বেত্রাঘাতের ফলে মাসুমা জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। এমতাবস্থায় মাদ্রাসার শিক্ষক ছাত্রীকে অজ্ঞান অবস্থায় অফিস কক্ষে আটকে রাখেন। বিষয়টি ৪ ঘন্টা পর অন্য এক ছাত্রীর মাধ্যমে খবর পেয়ে মাসুমার মা মাদ্রাসায় গিয়ে ছাত্রীটিকে উদ্ধার করে স্থানীয় চিকিৎসকের কাছে নিয়ে চিকিৎসা করেন। বর্তমানে আঘাতের যন্ত্রনা নিয়ে বিছানায় ছটফট করছে মাসুমা।
এদিকে ঘটনার সুষ্ট বিচারের আশ্বাস দিয়ে কাউকে এমনকি কোন সংবাদকর্মীকে ছবি উঠাতে না করতে বলা হয়। পিতা সমছুর উদ্দিন সমছু এলাকাবাসীর চাপে বিষয়টি গোপন রাখেন। কিন্তু ঘটনাটি এক ছাত্রী হতে অন্য ছাত্রী এরপর অভিভাবক হয়ে গোটা এলাকায় সংবাদটি ছড়িয়ে পড়ে।
শনিবার সকাল সাড়ে ৯টায় সরেজমিনে কহাইগড় গ্রামের সমছুর উদ্দিন সমছু মিয়ার বাড়ীতে গিয়ে দেখা যায় বেত্রাঘাতের যন্ত্রনায় বিছানায় ছটফট করছে শিশু মাসুমা। মাসুমার মা মেয়েকে দেখতে দিলেও ছবি তুলতে বাঁধা হয়ে দাড়ান। মায়ের অনুরোধে ছবি না তুললে তিনি ঘটনার বর্ণনা দেন।
এদিকে রাস্তায় মাসুমার পিতা সমছু মিয়ার সাথে দেখা হলে ঘটনার কথা স্বীকার করেন তিনি। অভিযোগ করবেন কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও প্রিন্সিপাল বিষয়টি শনিবার সকাল ১১টায় সমাধান করবেন বলে আশ্বাস দেওয়ায় আমি কোন অভিযোগ করিনি। তবে সঠিক বিচার না পেলে আইনের আশ্রয় নিবেন বলে জানান তিনি।
এবিষয়ে মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি মুহিবুর রহমান এবং প্রিন্সিপাল হাফিজ মাওলানা সিদ্দিক আহমদ জানান জানান- এলাকার গন্যমান্যরা এবং মাদ্রাসার শিক্ষক মন্ডলীদের নিয়ে অভিযুক্ত মাওলানা অহিদ আহমদের উপস্থিতিতে রেজুলেশনের মাধ্যমে তাকে মাদ্রাসা হতে বহিস্কার করা হয়। সেই সাথে মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির মাধ্যমে যাবতীয় চিকিৎসার দায়িত্ব নেওয়া হয়। এছাড়া আগামিতে কোন শিক্ষক কর্তৃক শিক্ষার্থীদের উপর বেত্রাঘাত কিংবা শারিরিক নির্যাতন না করার কড়া নির্দেশ জারী করা হয় বলে জানান তারা।
এবিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার খালেদুর রহমান জানান- বিষয়টি আমাকে কেউ জানাননি।
Related News
কোম্পানীগঞ্জে ৮৬ লাখ টাকার ভারতীয় ওষুধ-পণ্য জব্দ, আটক ২
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় পুলিশের পৃথক অভিযানে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় পণ্য ও বিভিন্নRead More
কানাইঘাটে চোরাইপণ্যবাহী পিকআপের ধাক্কায় কিশোরের মৃত্যু
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার লক্ষ্মীপ্রসাদ পশ্চিম ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী সুনারতনপুঞ্জি গ্রামে পিকআপের চাকায় পিষ্টRead More



Comments are Closed