শরতের বিদায়বেলায় পঞ্চগড়ে সন্ধ্যা নামলেই বাড়ছে ঠান্ডা, হালকা কুয়াঁশা
সফিকুল আলম দোলন, পঞ্চগড় জেলা প্রতিনিধি: দিনে রোদের তেজ, সন্ধ্যা নামতেই হিমেল বাতাস। রাত গভীর হলে কাঁথা-চাদরের আশ্রয়, আর ভোরে ঘাসের ডগায় জমে শিশির। কোথাও কোথাও হালকা কুয়াশার আবছা পর্দা। শরতের আকাশে এখনো সাদা মেঘের ভেলা, অথচ উত্তরের সীমান্ত জেলা পঞ্চগড়ে প্রকৃতি যেন আগেভাগেই জানান দিচ্ছে শীতের আগমনী বার্তা।
গত কয়েক দিন ধরে দিন ও রাতের আবহাওয়ায় এমন বৈপরীত্য লক্ষ করা যাচ্ছে। দুপুরে গরম অনুভূত হলেও সূর্য ডোবার পর থেকেই বাড়ছে শীতলতার অনুভব,নামছে হালকা কুয়াশা । বিশেষ করে গভীর রাত ও ভোরে ঠান্ডা বেশি টের পাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। হিমেল বাতাসে বদলে যাচ্ছে সন্ধ্যার চেনা পরিবেশ, আর শিশিরভেজা ভোর মনে করিয়ে দিচ্ছে আসন্ন শীতের কথা।
তেঁতুলিয়া আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, মৌসুমি বায়ুর নিষ্ক্রিয়তা ও বাতাসে জলীয়বাষ্পের পরিবর্তনের কারণে রাত থেকে সকাল পর্যন্ত কুয়াশা দেখা যাচ্ছে। এর আগে বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপের প্রভাবে জেলায় বৃষ্টিপাতও হয়েছিল।
হিমালয়ের কাছাকাছি ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে দেশের অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় পঞ্চগড়ে শীতের অনুভূতি সাধারণত আগেভাগে দেখা দেয়। এবারও শরতের মাঝামাঝি থেকেই রাতের বাতাসে মিলছে শীতের আগাম আভাস। সন্ধ্যার পর বাইরে বের হলে অনেকেই সঙ্গে রাখছেন ফুলহাতা শার্ট কিংবা পাতলা চাদর। মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন যানবাহনে চলাচলকারীদের কাছে রাতের ঠান্ডা বেশি অনুভূত হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা আজিজুল হক বলেন, “দিনের বেলায় বেশ গরম থাকে, কিন্তু সন্ধ্যার পর বাইরে বের হলেই শরীরে ঠান্ডা বাতাস লাগে। বিশেষ করে রাতে মোটরসাইকেল বা অন্য কোনো যানবাহনে চলাচলের সময় ঠান্ডা বাতাস বেশি গায়ে লাগে। এ কারণেই এখন বাইরে বের হওয়ার সময় ফুলহাতা পোশাক সঙ্গে রাখছি।”
শীতের আগাম আভাসে অনেক পরিবারই নিচ্ছে প্রস্তুতি। কেউ পুরোনো লেপ-তোষক রোদে দিচ্ছেন, কেউ আবার নতুন করে তৈরির খোঁজখবর নিচ্ছেন। শীতের তীব্রতা বাড়ার আগেই শিশু ও বয়স্কদের আরামের কথা ভেবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে চাইছেন অনেকে। এতে সামনে শীত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে লেপ-তোষক তৈরির কাজেও ব্যস্ততা বাড়তে পারে।
পঞ্চগড়ের মানুষের কাছে শীত কেবল ঋতু পরিবর্তন নয়; এটি দৈনন্দিন জীবনযাপনেরও গুরুত্বপূর্ণ অংশ। শীত বাড়লে বদলে যায় পোশাক, ঘুমের অভ্যাস ও চলাফেরা। তাই রাতের বাতাসে ঠান্ডার পরশ মিলতেই অনেকের মনে শুরু হয়েছে শীতের প্রস্তুতির ভাবনা।
তবে রাতের শীতলতা বাড়লেও দিনের উষ্ণতা এখনো পুরোপুরি কাটেনি। তাই এই আবহাওয়াকে শীতের পূর্ণ আগমন না বলে ঋতু পরিবর্তনের আগাম ইঙ্গিত হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
দিনের রোদমাখা পথ, সন্ধ্যার হিমেল বাতাস আর ভোরের শিশির—সব মিলিয়ে পঞ্চগড়ের প্রকৃতিতে ধীরে ধীরে বদলের সুর। সামনে কুয়াশা আরও ঘন হবে কি না, বাড়বে কি না শীতের তীব্রতা—তা নির্ভর করবে পরবর্তী সময়ের আবহাওয়ার ওপর। আপাতত শরতের শেষভাগে উত্তরের এই জনপদে প্রকৃতি যেন নীরবে বলে যাচ্ছে—শীত আসছে, ধীরে ধীরে।
Related News
শরতের বিদায়বেলায় পঞ্চগড়ে সন্ধ্যা নামলেই বাড়ছে ঠান্ডা, হালকা কুয়াঁশা
সফিকুল আলম দোলন, পঞ্চগড় জেলা প্রতিনিধি: দিনে রোদের তেজ, সন্ধ্যা নামতেই হিমেল বাতাস। রাত গভীরRead More
ট্রাকচাপায় পথচারী ২ নারী নিহত
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: লালমনিরহাটে ট্রাকের চাপায় ফজিলা বেগম ও জহিলা বেগম নামে পথচারী দুই নারীRead More



Comments are Closed