ফাহিমার পরিবারের পাশে জামায়াত
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সিলেট সদর উপজেলার সোনাতলায় পাশবিক নির্যাতন ও নৃশংস হত্যাকান্ডের শিকার চার বছরের শিশু ফাহিমার পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন সিলেট মহানগর জামায়াত নেতৃবৃন্দ।
সোমবার (২৫ মে) দুপুরে ফাহিমার বাড়ীতে গিয়ে পরিবারে প্রতি সমবেদনা জানান এবং ঈদ উপলক্ষে নগদ আর্থিক উপহার তুলে দেন। আর্থিক উপহার গ্রহন করেন নিহত ফাহিমার বাবা রায়ছুল হক ও মা রুবেনা বেগম।
জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও সিলেট মহানগরী আমীর মুহাম্মদ ফখরুল ইসলামের নেতৃত্বে মহানগর জামায়াতের প্রতিনিধি দলে উপস্থিত ছিলেন- মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারী মোঃ শাহজাহান আলী, সদর উপজেলা জামায়াতের আমীর নাজির উদ্দিন, নায়েবে আমীর আব্দুল লতিফ লালা, সেক্রেটারী প্রিন্সিপাল আল ইমরান, ৮নং কান্দিগাও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আব্দুল মনাফ, কান্দিগাও ইউনিয়ন জামায়াতের সেক্রেটারী আব্দুল কাইয়ুম।
এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- স্থানীয় মুরব্বী হাজী কলমদর আলী, আনসার আহমদ, মাওলানা আব্দুল্লাহ ও রহিম উল্লা প্রমূখ।
এ সময় সিলেট মহানগর জামায়াতের আমীর মুহাম্মদ ফখরুল ইসলাম বলেন, ‘শিশু ফাহিমার প্রতি নৃশংসতায় গোটা জাতি শোকে স্তব্দ ও বিক্ষুব্ধ। একটি ছোট্ট শিশুর উপর এমন বর্বরতা কোন সভ্য সমাজে মেনে নেয়া যায়না। সিলেটের ফাহিমা, ঢাকার রামিসাসহ দেশব্যাপী শিশুদের উপর পাশবিক নির্যাতন ও খুনের ঘটনায় জড়িত প্রায় সকলেই মাদকসেবী। কিন্তু মাদক নিয়ন্ত্রণে সরকার কার্যকর ভুমিকা রাখতে ব্যর্থ হয়েছে। ফাহিমা হত্যাকান্ডের এতদিন পরও এখনো অভিযোগপত্র দাখিল না হওয়া দুঃখনজনক। আদালত খোলার প্রথম কার্যদিবসে অভিযোগপত্র দাখিলের জোর দাবী জানাচ্ছি।’
তিনি বলেন, ‘দেশের ইতিহাসে মেহেরপুরে প্রথমবারের মতো শিশু ধর্ষন ও খুনের বিচার ২৯ দিনে সম্পন্ন হয়েছে। এটি একটি ইতিবাচক দিক। অল্প সময়ে ঢাকার রামিসা হত্যা মামলার চার্জশীট দাখিল হয়ে গেছে। ফাহিমার চার্জশীট দাখিলে ধীরগতি কেন সিলেটবাসী জানতে চায়। দুঃখনজক হলেও সত্য যে, সিলেটে মাদকসেবীর ছুরিকাঘাতে একজন র্যাব সদস্য খুন হয়েছেন। হত্যায় জড়িত ছেলেটি বিএনপির প্রভাবশালী নেতার ছেলে। তার বিরুদ্ধে ছিনতাই, মাদকসহ নানা মামলা থাকলেও এতদিন গ্রেফতার করা হয়নি। যার ফলে একজন্য র্যাব সদস্যকে জীবন দিতে হয়েছে। ইতোপূর্বে গ্রেফতারী অপহরনকারী চক্রের সদস্য হিসেবে এক প্রভাবশালী বিএনপি নেতার ছেলেকে গ্রেফতার হয়। সিলেট-১ আসনের সরকারদলীয় এমপি নির্বাচনের আগে ঘোষণা দিয়েছিলেন মাদকের ব্যাপারে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করবেন। কিন্তু এর দৃশ্যমান অ্যাকশন সিলেটবাসী দেখতে পায়নি। সিলেটে দিন দিন ছিনতাই ও রাহাজানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে জনগণ আতংকিত। সিলেটবাসী এই অবস্থা থেকে মুক্তি চায়। সিলেট মহানগর বিএনপির সভাপতির ৫০ লাখ টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনা প্রমাণ করে সিলেটের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কত অবনতি ঘটছে। এভাবে কোন রাষ্ট্র ও সমাজ চলতে পারেনা। মাদক নির্মুল ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতিতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। শিশু ফাহিমার বিচার ১ মাসের মধ্যে সম্পন্ন করতে হবে।’

উল্লেখ্য, সিলেট সদর উপজেলার কান্দিগাঁও ইউনিয়নের জালালাবাদ থানাধীন সোনাতলা গ্রামের শিশু ফাহিমা গত ৬ মে দুপুরে নিখোঁজ হয়। এ ঘটনায় একই দিন পরিবারের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়।
নিখোঁজের তিন দিন পর বাড়ির পাশের একটি পুকুরপাড় থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
ঘটনার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও স্থানীয় যুবসমাজ অভিযুক্তদের শনাক্তে কাজ শুরু করে। একপর্যায়ে গত ১১ মে জাকির নামের এক যুবককে জালালাবাদ থানা পুলিশ আটক করে। পরে জিজ্ঞাসাবাদে জাকির ফাহিমাকে হত্যার বিষয়ে স্বীকারোক্তি দেয়।
স্থানীয়রা জানান, বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগে শিশু ফাহিমাকে পাশবিক নির্যাতন করে জাকির। এরপর ফাহিমাকে হত্যা করে স্ত্রীর ওড়না দিয়ে পেঁচিয়ে ব্যাগে রাখে জাকির। পরে সেই ওড়নাসহ বাদাঘাট এলাকার ডোবায় ফেলে দেয় জাকির। ওই ডোবা থেকে ৮ মে ফাহিমার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
নিহত শিশু ফাহিমা সিলেট সদর উপজেলার কান্দিগাঁও ইউনিয়নের সোনাতলা গ্রামের দিনমজুর রাইসুল হকের মেয়ে। রাইসুল হক স্থানীয় বাজারে একটি দোকানে দিনমজুরের কাজ করেন।
স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, ফাহিমাকে হত্যার পর তাকে ওড়না পেচিয়ে বালতির মধ্যে রাখে। তার জিহ্বা ও চোখ দুটো বেরিয়ে এসেছিল। অপরাধী জাকির ইয়াবাখোর। ধর্ষণের পর শিশুটিকে হত্যা করে লাশ গুম করার চেষ্টা করে। তখন এলাকাবাসী শিশুটির খোঁজে চারিদিকে খোঁজ খবর রাখছিল, নয়তো সে কেটে নদীতে ভাসিয়ে দিতো।
Related News
সিলেটের শাহপরাণে গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু
Manual6 Ad Code বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সিলেটের শাহপরাণ থানাধীন ধনুকান্দি এলাকায় এক নারীর রহস্যজনক মৃত্যুRead More
সিলেটের ভার্থখলা থেকে মাদককারবারী গ্রেফতার
Manual2 Ad Code বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সিলেট মহানগরীর দক্ষিণ সুরমার ভার্থখলা থেকে এক মাদক ব্যবসায়ীRead More



Comments are Closed