Main Menu

ভূমধ্যসাগরে অনাহারে সুনামগঞ্জের আরেক তরুণের মৃত্যু

Manual8 Ad Code

বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: লিবিয়া থেকে গ্রিসে যাওয়ার পথে খাবারের অভাবে দুর্বল হয়ে ভূমধ্যসাগরে সুনামগঞ্জের আরেক তরুণের মৃত্যু হয়েছে বলে জানতে পেরেছে পরিবার।

মুহিবুর রহমান ছাতক উপজেলার ভাতগাঁও ইউনিয়নের ঘাগলাজুর গ্রামের নুরুল আমিনের ছেলে। এ নিয়ে ইউরোপ যাওয়ার পথে ভূমধ্যসাগরে এই জেলার ১৩ জনের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেলো।

Manual2 Ad Code

মুহিবুরের চাচাতো ভাই ভাতগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের ইউপি সদস্য মো. সুনু মিয়া বলেন, গ্রিস যাওয়ার জন্য চার মাস আগে বাড়ি থেকে রওনা হয়েছিল মুহিবুর। জমি বিক্রি করে ও সুদে টাকা এনে পাগলার দালাল নবী হোসেনকে ১৩ লাখ টাকা দেওয়া হয়। এরপর দুবাই হয়ে, সৌদি আরব হয়ে লিবিয়া গিয়েছিল মুহিবুর। পরে লিবিয়া থেকে বোটে করে গ্রিসে যাওয়ার সময় খাবারের অভাবে দুর্বল হয়ে মারা গেছে সে। তার লাশও সাগরে ফেলে দেওয়া হয়েছে।

মুহিবুর রহমানের পরিবার স্থানীয়দের জানিয়েছেন, ভূমধ্যসাগরে মারা যাওয়া সুনামগঞ্জের ১২ জনের ওই বোট থেকে জীবিত উদ্ধার হয়েছেন জগন্নাথপুর উপজেলার কলকলিয়া ইউনিয়নের সাদীপুর গ্রামের মারুফ আহমদ। তিনি দেশে ফোন করে জানিয়েছেন, ছাতকের মুহিবুর রহমান ওই বোটেই মারা গেছেন। মারুফ ও মুহিবুর একই সঙ্গে সৌদি আরবে ও লিবিয়ায় ছিলেন। মুহিবুর ও মারুফের বাড়ি পৃথক উপজেলায় হলেও কাছাকাছি এলাকায়।

Manual1 Ad Code

মুহিবুরের মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর তার পরিবারে শোকের মাতম চলছে। তার বাবা ও ছোট ভাই হাফিজুর রহমান অসুস্থ হয়ে পড়েছেন বলে জানা গেছে। হাফিজুর রহমানকে সিলেটের ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ছেলের মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর তার মা রহিমা বেগমও বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন।

ছাতক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান বলেন, এ বিষয়ে কেউ কোনো অভিযোগ করেননি। বুধবার বিকেলে ফেসবুকের মাধ্যমে জেনেছি। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। মুহিবুর রহমানের পরিবারের সঙ্গে কথা বলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ‘

এর আগে ২৮ মার্চ শনিবার ভূমধ্যসগরে সুনামগঞ্জের ১২ জনের মৃত্যু খবর পাওয়া যায়। জানা যায়, লিবিয়া থেকে ছোট রাবারের বোটে করে সম্প্রতি ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে গ্রিসে যাওয়ার পথে তাদের মৃত্যু হয়, তাঁদের সবাই তরুণ।

এই যাত্রায় বেঁচে যাওয়া এক তরুণ ও নিহত ব্যক্তিদের পরিবারের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ২১ মার্চ লিবিয়া থেকে ৪৮ জনকে নিয়ে ওই বোট গ্রিসের উদ্দেশে রওনা হয়েছিল। সাগরে প্রথমে নৌযানটির জ্বালানি শেষ হয়ে যায়। পরে পথ হারিয়ে বোটটি সাগরে ছিল ছয় দিন। তখন পানিশূন্যতা ও অনাহারে মারা যান অনেকে। এর মধ্যে সুনামগঞ্জেরই ১২ জন। দুই দিন লাশগুলো বোটে রাখার পর সঙ্গীরা পরে সাগরে ভাসিয়ে দেন। ২৭ মার্চ গ্রিস উপকূলে ভাসতে থাকা বোট থেকে ২২ জনকে জীবিত উদ্ধার করে সে দেশের কোস্টগার্ড। পরদিন শনিবার বিকেলে মারা যাওয়া ব্যক্তিদের স্বজনদের কাছে খবর আসে।

মারা যাওয়া সুনামগঞ্জের ১২ জনের মধ্যে দিরাই উপজেলার ৬ জন, জগন্নাথপুর উপজেলার ৫ জন এবং দোয়ারাবাজার উপজেলার ১ জন রয়েছেন।

Manual6 Ad Code

নিহতদের মধ্যে জগন্নাথপুর উপজেলার পাঁচজন, তারা হলেন- চিলাউড়ার শামছুল হকের ছেলে ইজাজুল হক রেজা (২৩), একই গ্রামের দুলন মিয়ার ছেলে নাইম মিয়া (২৪), রানীগঞ্জ ইউনিয়নের টিঁয়ারগাঁও গ্রামের আখলুছ মিয়ার ছেলে শায়েক আহমদ জনি (২৫), পাইলগাঁও (হাড়গ্রাম) গ্রামের প্রাক্তন শিক্ষক হাবিবুর রহমানের ছেলে আমিনুর রহমান (২৬) ও ইছগাঁও গ্রামের বশির মিয়ার ছেলে আলী আহমদ (২২)।

দিরাই উপজেলার ছয়জন নিহত হয়েছেন, তারা হলেন- কুলঞ্জ ইউনিয়নের তারাপাশা গ্রামের সাইদ সরদারের ছেলে নূরুজ্জামান ময়না (৩০), ইসলাম উদ্দিনের ছেলে শাহান মিয়া (২৫) ও আব্দুল গণির ছেলে সাজিদুর রহমান (২৮); রাজানগর ইউনিয়নের ররনারচর গ্রামের আব্দুল মালিকের ছেলে উপজেলা যুবদলের সদস্য মজিবুর রহমান (৩৮), জগদল ইউনিয়নের বাসুরি গ্রামের সোহানুর রহমান এহিয়া (২৮), করিমপুর ইউনিয়নের মাটিয়াপুর গ্রামের তায়েফ মিয়া (৩০)।

এছাড়াও দোয়ারাবাজার উপজেলার দোহালিয়া ইউনিয়নের কবিরপুর গ্রামের ফয়েজ উদ্দিনের ছেলে আবু ফাহিমও মারা গেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

Manual6 Ad Code

Share





Related News

Comments are Closed

Manual1 Ad Code
Manual2 Ad Code