Main Menu

ছাতকে তাজউদ্দিন বাহিনীর নির্যাতন-হামলা-মামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন

Manual6 Ad Code

ছাতক (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি: সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার সিংচাপইড় ইউনিয়নের গহরপুর গ্রাম এখন আতঙ্কের জনপদ। লন্ডন বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত, জেল–খাটা দাগী আসামি ও এলাকার কুখ্যাত সন্ত্রাসী তাজউদ্দিন এবং তার ‘বাহিনী’র লাগামহীন তাণ্ডবে অতিষ্ঠ হয়ে দীর্ঘদিনের নীরবতা ভেঙে রাস্তায় নেমেছেন সাধারণ গ্রামবাসী লোকজন।

হামলা, নির্যাতন, মিথ্যা মামলা, এমনকি পবিত্র মসজিদের ভেতরে ঢুকে মারধরের মতো ন্যক্কারজনক ঘটনার প্রতিবাদে আজ শনিবার বিকেলে পাকা সড়কে অনুষ্ঠিত হয় দুই ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধন। গ্রামটির শত শত যুবক–পুরুষ এতে অংশ নেন।

গ্রামবাসীর অভিযোগ-‘তাজউদ্দিন বাহিনী’ নামে পরিচিত একটি সংঘবদ্ধ ক্যাডার গ্রুপ বহুদিন ধরে গ্রামবাসীকে জিম্মি করে রেখেছে। রাতের অন্ধকারে তারা গুপ্ত হামলা চালায়; দিনের বেলায় দেয় প্রকাশ্যে হুমকি। গত কয়েক মাসে গ্রামে একাধিক সংঘর্ষ, হামলা, ভাঙচুর এবং মিথ্যা মামলার ঘটনাও ঘটেছে, যেগুলোর পেছনে রয়েছে তাজউদ্দিন এবং তার হাতে গোনা কিছু অনুসারী ক‌্যাডার।

গ্রামবাসীরা ব‌লেন, ১৪৪ ধারা জারি থাকা অবস্থায়ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ঘুরে বেড়ানো এবং মানুষের ওপর হামলা চালানো-এদের জন্য কোনো ব্যাপারই নয়। প্রশাসনের ভয়ে নয়, বরং পুলিশি ‘শেল্টার’ পেয়েই তারা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।”

এমনি পরিস্থিতিতে শান্ত গ্রামের দিনযাপন এখন পরিণত হয়েছে আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তায়। গ্রামের মানুষজন জানান- রাতে ঘর থেকে বের হওয়া, রাস্তা দিয়ে চলাচল, এমনকি মসজিদে নামাজ পড়া-সবই এখন ঝুঁকিপূর্ণ। কোনো মুহূর্তে কোথা থেকে ‘তাজউদ্দিন বাহিনী’র হামলা এসে পড়বে-তা কেউ বলতে পারেন না।

Manual6 Ad Code

গ্রামবাসীরা মানববন্ধনে বলেন, গত বৃহম্প‌তিবার মসজিদের ভেতরে ঢুকে মুসল্লিদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে, যা ইসলামের প্রতি প্রকাশ্য অবমাননা। এ ঘটনায় গ্রামে চরম ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। হামলায় ১০–১২ জন আহত হওয়ার তথ্যও মানববন্ধনে তুলে ধরা হয়।

বক্তারা দাবি করেন, এমন ঘটনাও তাজউদ্দিন ও তার সহযোগীদের দাপটের কারণে যথাযথ বিচার পায়নি। তাদের অভিযোগ—জাউয়া বাজার পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জের একটি অংশ তাজউদ্দিন বাহিনীকে গোপনে সহায়তা দিচ্ছে। এর ফলে সন্ত্রাসীরা গ্রামে আরও নির্ভীক হয়ে উঠেছে। তবে গত শুক্রবার ঘটনাস্থলে গিয়ে ওসি মিজানুর রহমান দুই পক্ষকে শান্ত থাকার পরামর্শ দিলেও গ্রামবাসীর দাবি—“সন্ত্রাসীরা কোনো নির্দেশই মানেনি। বরং পরদিনই আরও বেপরোয়া আচরণ করেছে।”

মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন—ইজাদ্দুর রহমান, সৈয়দ আলী, সিকন্দর আলী, আবদুল জব্বার, জুনাব আলী, আব্দুর রহিম, আব্দুল বারি, আব্দুর রহমান, আওয়াল শাহ, ওসমান আলী, কামাল মিয়া, আল আমিন, সমুজ আলী, তখদ্দুছ আলী, মুজিবুর রহমান, পিয়ন, তৈয়মুছ আলী, মইন উদ্দিন, আলা উদ্দিন, সেলিম আহমদসহ আরও অনেকে।

Manual5 Ad Code

বক্তারা বলেন—তাজউদ্দিন দীর্ঘদিন ধরে লন্ডন বিএনপির নাম ব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে ভয় দেখিয়ে আসছে। তার বাহিনীর সন্ত্রাসের কারণে গ্রামে শান্তির লেশমাত্র নেই। আমরা শান্তিপ্রিয় মানুষ; কিন্তু এই সন্ত্রাসীদের কারণে পুরো গ্রাম অস্থিতিশীল হয়ে গেছে।

বড় সংঘর্ষের আশঙ্কা করে গ্রামবাসী জানান- বর্তমান পরিস্থিতিতে শক্ত ব্যবস্থা না নিলে বড় ধরনের সংঘর্ষের সম্ভাবনা রয়েছে। তাজউদ্দিন বাহিনীর সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, পাল্টাপাল্টি অভিযোগ, মামলা ও সংঘর্ষের কারণে গ্রামের পরিবেশ অতি দ্রুত অবনতি ঘটছে।

এক বাসিন্দা বলেন, মানুষ চায় শান্তি। কিন্তু প্রতিদিনই কোনো না কোনো গোষ্ঠী সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে পরিস্থিতি জটিল করে তুলছে। আমরা চাই প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা নিন।

Manual4 Ad Code

মানববন্ধনে উপস্থিত সবাই সিংচাপইড় ইউনিয়নের গহরপুরে শান্তি ফিরিয়ে আনতে স্থানীয় সংসদ সদস্যের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন। তাদের ভাষ্য— “পুলিশের ওপর সব দায়িত্ব ছেড়ে দিলে চলবে না। রাজনৈতিক প্রভাবশালী নেতৃত্ব এগিয়ে এলে সন্ত্রাসীরা দমে যাবে। গ্রামবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এমপি মহোদয়ের সরাসরি উদ্যোগ এখন সময়ের দাবি।”

গ্রামের মানুষ কী চান, তাজউদ্দিন বাহিনীর সব সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বন্ধ, মসজিদে হামলার বিচার, গ্রামে নিরাপত্তা জোরদার, প্রশাসনের নিরপেক্ষ তদন্ত,শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান ফিরিয়ে আনা।

Manual8 Ad Code

গ্রামবাসীর দাবি, আমরা শান্তি চাই, সন্ত্রাসমুক্ত গহরপুর চাই। আমাদের ঘরে–বাইরে নিরাপত্তা চাই। মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা কর্তৃপক্ষের কাছে আহ্বান জানান—গ্রামের অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে ও দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নিতে।

Share





Related News

Comments are Closed

Manual1 Ad Code
Manual3 Ad Code