Main Menu

বাংলাদেশকে আর বিভক্ত হতে দেওয়া হবে না: জামায়াত আমীর

বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আগামীতে দেশ পরিচালনায় সুযোগ পেলে একটি ইনসাফপূর্ণ সমাজ কায়েম করা হবে যেখানে আইন সবার জন্য সমান হবে এবং বিচার ব্যবস্থা কোনোভাবেই টাকার কাছে বিক্রি হবে না।

শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে হবিগঞ্জের স্থানীয় নিউফিল্ড মাঠে আয়োজিত এক বিশাল নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আমীর তার বক্তব্যে জাতীয় ঐক্যের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করে ঘোষণা দেন যে, বাংলাদেশকে আর কোনোভাবেই বিভক্ত করতে দেওয়া হবে না। একটি ঐক্যবদ্ধ ও সমৃদ্ধ রাষ্ট্র গড়াই তাদের মূল লক্ষ্য।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, যারা সন্ত্রাসবাদের বিপক্ষে এবং ন্যায়ের পক্ষে অবস্থান নিতে চান, তাদের উচিত ইনসাফ কায়েমের পক্ষে ভোটাধিকার প্রয়োগ করা। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, বর্তমানে অনেক ক্ষেত্রে বিচারব্যবস্থা কলুষিত হচ্ছে, কিন্তু জামায়াত ক্ষমতায় গেলে প্রতিটি নাগরিকের জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে। তিনি ভোটারদের আশ্বস্ত করে বলেন যে, এমন একটি বাংলাদেশ তাঁরা গড়তে চান যেখানে কোনো জনপ্রতিনিধি বা রাজনৈতিক নেতা চরিত্র হননের নোংরা রাজনীতিতে লিপ্ত হবেন না। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি এবং তাঁদের পরিবারের সদস্যদের বার্ষিক আয়-ব্যয়ের হিসাব জনসমক্ষে দিতে বাধ্য করা হবে বলেও তিনি অঙ্গীকার করেন।

রাজনীতিকে পেশা হিসেবে ব্যবহারের কঠোর সমালোচনা করে জামায়াত আমীর বলেন, জামায়াতের কাছে রাজনীতি কোনো অর্থ উপার্জনের মাধ্যম নয়, বরং এটি একটি মহান দায়িত্ব। তিনি মন্তব্য করেন যে, যারা রাজনীতিকে পেশা হিসেবে গ্রহণ করেছে তারাই মূলত দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির সঙ্গে যুক্ত। জামায়াত ক্ষমতায় গেলে দেশের সকল প্রকার চাঁদাবাজি বন্ধ করে দেওয়া হবে এবং ব্যবসায়ীদের জানমালের পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। ব্যবসায়ীরা যেন কোনো ধরনের দুশ্চিন্তা বা আতঙ্ক ছাড়া শান্তিতে ঘুমাতে যেতে পারেন এবং নির্বিঘ্নে ব্যবসা পরিচালনা করতে পারেন, সেই পরিবেশ তৈরি করা হবে বলে তিনি হবিগঞ্জের মানুষকে প্রতিশ্রুতি দেন।

নির্বাচনী জনসভায় আমীর ডা. শফিকুর রহমান দেশপ্রেমিক জনতাকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, দেশের সম্পদ লুণ্ঠনকারীদের হাত থেকে রক্ষা করতে হলে সৎ ও যোগ্য নেতৃত্বের বিকল্প নেই। হবিগঞ্জের নিউফিল্ড মাঠে আয়োজিত এই সমাবেশে দলের স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

সকাল থেকেই জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা হাজার হাজার নেতাকর্মীর উপস্থিতিতে সমাবেশস্থল জনসমুদ্রে পরিণত হয়।

Share





Related News

Comments are Closed