একীভূত পাঁচ ব্যাংকের গ্রাহকদের জন্য বড় সুখবর
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: একীভূত হওয়া সমস্যাগ্রস্ত পাঁচ ইসলামী ব্যাংকের আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দেওয়া শুরু হতে যাচ্ছে আগামী সপ্তাহ থেকে। প্রাথমিকভাবে গ্রাহকরা আমানত বিমার আওতায় একবারে সর্বোচ্চ দুই লাখ টাকা তুলতে পারবেন।
বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংক সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
গত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে কয়েকটি প্রভাবশালী গ্রুপ জালিয়াতির মাধ্যমে ডজনখানেক ব্যাংক থেকে বিপুল পরিমাণ ঋণ তুলে নেয়। এসব অনিয়ম ও ঋণ কেলেঙ্কারির চাপে ব্যাংকগুলো ধীরে ধীরে গভীর সংকটে পড়ে। এর মধ্যে সংকটে থাকা পাঁচটি ব্যাংক একত্রিত করে ‘সম্মিলিত ইসলামি ব্যাংক’ গঠনের অনুমতি দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
ব্যাংকগুলো হলো– এক্সিম, সোশ্যাল ইসলামী, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী, গ্লোবাল ইসলামী ও ইউনিয়ন ব্যাংক।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে বাংলাদেশ ব্যাংকের এক কর্মকর্তা জানান, আমানত ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়ার জটিলতা দূর করা হয়েছে। এর ফলে আগামী সপ্তাহে অর্থাৎ সোমবার-মঙ্গলবার (২৯-৩০ ডিসেম্বর) থেকে ব্যাংকগুলো টাকা দেওয়া শুরু করবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই অর্থ আমানত বিমার আওতায় দেওয়া হবে।
গ্রাহক নিজ নিজ ব্যাংকের শাখা থেকে টাকা তুলতে পারবেন বলেও জানান। তবে, কোনো গ্রাহকের যদি একটি ব্যাংকে একাধিক হিসাব থাকে, তাহলে তিনি শুধু একটি হিসাব থেকেই টাকা তুলতে পারবেন। আর যদি কারো একাধিক ব্যাংকে হিসাব থাকে, তাহলে প্রতিটি ব্যাংক থেকেই নির্ধারিত পরিমাণ টাকা উত্তোলনের সুযোগ পাবেন।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক সংশ্লিষ্ট এ কর্মকর্তা জানান, যেসব গ্রাহকের হিসাবে দুই লাখ টাকা বা এর কম আছে, স্কিম কার্যকর হওয়ার পর তারা পুরো টাকা একবারেই তুলতে পারবেন। আর যাদের হিসাবে দুই লাখ টাকার বেশি রয়েছে, তারা প্রতি তিন মাস অন্তর সর্বোচ্চ এক লাখ টাকা করে দুই বছর পর্যন্ত তুলতে পারবেন।
তবে, ৬০ বছরের বেশি বয়সী গ্রাহক অথবা ক্যানসার বা জটিল রোগে আক্রান্ত আমানতকারীদের জন্য এই সীমা শিথিল রাখা হয়েছে— তারা প্রয়োজন অনুযায়ী যেকোনো পরিমাণ টাকা তুলতে পারবেন।
‘সম্মিলিত ইসলামি ব্যাংক পিএলসি’ নামক নতুন ব্যাংকটির প্রধান কার্যালয় রাজধানীর সেনা কল্যাণ ভবনে স্থাপন করা হয়েছে। ব্যাংকটির পরিশোধিত মূলধন নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৫ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকার দিচ্ছে ২০ হাজার কোটি এবং আমানতকারীদের শেয়ার থেকে আসবে বাকি ১৫ হাজার কোটি টাকা। অনুমোদিত মূলধন রাখা হয়েছে ৪০ হাজার কোটি।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, পাঁচ ব্যাংকে বর্তমানে ৭৫ লাখ আমানতকারীর প্রায় ১ লাখ ৪২ হাজার কোটি টাকা জমা রয়েছে। বিপরীতে ঋণ রয়েছে ১ লাখ ৯৩ হাজার কোটি টাকা, যার বড় অংশ ইতোমধ্যে খেলাপি হয়ে পড়েছে।
সারাদেশে এসব ব্যাংকের ৭৬০টি শাখা, ৬৯৮টি উপশাখা, ৫১১টি এজেন্ট ব্যাংকিং আউটলেট এবং ৯৭৫টি এটিএম বুথ রয়েছে। একীভূত হওয়ার পর একই এলাকার একাধিক শাখা মিলে একটি বা দুটি করা হবে। ব্যাংকগুলোর পরিচালন খরচ কমাতে এরই মধ্যে কর্মীদের বেতন-ভাতা ২০ শতাংশ কমানো হয়েছে।
Related News
দেশের বাজারে কমল স্বর্ণের দাম
Manual2 Ad Code বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম আরও কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশRead More
ডেবিট-ক্রেডিট কার্ড নিয়ে সতর্ক করল বাংলাদেশ ব্যাংক
Manual8 Ad Code বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সব ধরনের ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারকারীদের আর্থিক প্রতারণারRead More



Comments are Closed