২০৩০ সালের মধ্যে ৪ কোটি পরিবারকে পেনশন স্কিমে আনার নির্দেশ
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সর্বজনীন পেনশন স্কিম সম্প্রসারণে বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের প্রায় ৪ কোটি পরিবারের প্রতিটি থেকে অন্তত একজন সদস্যকে সর্বজনীন পেনশন স্কিমের আওতায় আনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণের নির্দেশনা দিয়েছেন।
গত মঙ্গলবার (১২ মে) বিকেলে অর্থ মন্ত্রণালয়ে নিজের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত সর্বজনীন পেনশন স্কিমের অগ্রগতি, চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা বিষয়ক এক উচ্চপর্যায়ের সভায় তিনি এ নির্দেশনা দেন।
সভায় পেনশন স্কিমকে আরও আকর্ষণীয় ও জনবান্ধব করতে শরিয়াহভিত্তিক পেনশন স্কিম চালুর বিষয়েও গুরুত্ব দেন অর্থমন্ত্রী। পাশাপাশি নমিনিদের জন্য আজীবন পেনশন সুবিধা বিবেচনা এবং প্রগতি স্কিমে আউটসোর্সিং কর্মীদের অন্তর্ভুক্তির বিষয়েও ইতিবাচক মনোভাব ব্যক্ত করেন।
সভায় জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান মো. সুরাতুজ্জামান স্কিমের বর্তমান অবস্থা নিয়ে বিস্তারিত উপস্থাপনা তুলে ধরেন। এ সময় অর্থ সচিব খায়েরুজ্জামান মজুমদারসহ অর্থ বিভাগের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ও জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
উপস্থাপনায় জানানো হয়, যাত্রা শুরুর পর থেকে গত ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত প্রবাস, প্রগতি, সুরক্ষা ও সমতা—এই চারটি স্কিমে মোট ৩ লাখ ৭৭ হাজার ৫৪৫ জন নাগরিক নিবন্ধন করেছেন। এ পর্যন্ত পেনশন তহবিলে মোট জমার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৫৫ কোটি ৭০ লাখ টাকা। মুনাফাসহ মোট বিনিয়োগের পরিমাণ ২৭৯ কোটি ৭৪ লাখ টাকা।
জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের আগের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৭ আগস্ট পর্যন্ত প্রথম এক বছরে এই স্কিমে যুক্ত হয়েছিলেন ৩ লাখ ৭২ হাজার ৪০১ জন এবং তখন মোট জমার পরিমাণ ছিল ১৩১ কোটি টাকা। তবে ২০২৪ সালের আগস্টে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর স্কিমটির ভবিষ্যৎ নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হলে অংশগ্রহণের গতি কমে যায়।
সংশ্লিষ্টরা জানান, ২০২৩ সালের ১৭ আগস্ট ১৮ থেকে ৫০ বছর বয়সী সব বাংলাদেশি নাগরিকের জন্য সর্বজনীন পেনশন স্কিম চালু হয়। বিশেষ বিবেচনায় ৫০ বছরের বেশি বয়সীরাও এতে যুক্ত হওয়ার সুযোগ পান।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের তথ্য বলছে, প্রথম এক বছরে যেখানে প্রায় পৌনে চার লাখ মানুষ স্কিমে যুক্ত হয়েছিলেন, সেখানে পরবর্তী ২০ মাসে অংশগ্রহণকারী বেড়েছে মাত্র প্রায় ৫ হাজার।
তবে অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে সবুজ সংকেত পাওয়ার পর জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষ নিয়মিত কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। এখন জনগণের আস্থা ফিরিয়ে এনে পেনশন স্কিমে অংশগ্রহণ বাড়ানোই সরকারের বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
Related News
২০৩০ সালের মধ্যে ৪ কোটি পরিবারকে পেনশন স্কিমে আনার নির্দেশ
Manual6 Ad Code বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সর্বজনীন পেনশন স্কিম সম্প্রসারণে বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেছেন অর্থমন্ত্রীRead More
জুলাই থেকে বন্ধ হচ্ছে ব্যাংকবহির্ভূত ৫ আর্থিক প্রতিষ্ঠান
Manual3 Ad Code বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের প্রাথমিক অনুমোদন সাপেক্ষে দেশের পাঁচটিRead More



Comments are Closed