সিলেটে সাইবার অপরাধ ও কিশোর গ্যাং নিয়ন্ত্রণ আমাদের বড় চ্যালেঞ্জ : পুলিশ সুপার
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সাইবার অপরাধ ও কিশোর গ্যাংকে জেলা পুলিশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ বলে মন্তব্য করেছেন সিলেটের নতুন পুলিশ সুপার (এসপি) আখতার উল আলম। তবে এ দুটিই বন্ধ করার আশ্বাস দিয়েছেন সিলেটে নতুন যোগ দেওয়া এই পুলিশ সুপার।
সোমবার (৮ ডিসেম্বর) সকালে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে পুলিশ সুপার এ প্রসঙ্গে বলেন, জেলা দুটি চ্যালেঞ্জ, একটি হলো- সাইবার অবরাধ বা সাইবার প্রতারণা, অনলাইনে এখন অনেক অপরাধ ও প্রতারণা হচ্ছে, বিকাশ বা নগদে আর্থিক লনেদেনেও প্রতারণা হচ্ছে, এছাড়া অনলাইন জুয়া পুরো দেশেই ছড়িয়ে পড়েছে। আমরা অনলাইন জুয়া বন্ধ করতে চাই। আরেকটি হলো- কিশোর গ্যাং। কিশোর গ্যাংও সারাদেশে ব্যাপক আকারে ছড়িয়ে পড়েছে। আমি সিলেটে কিশোর গ্যাংয়রে দৌরাত্ম বন্ধ করতে চাই।
গত ২৯ নভেম্বর সিলেট জেলার নতুন পুলিশ সুপার হিসেবে যোগদান করেন কাজী আখতার উল আলম। এর আগে ২৬ নভেম্বর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় (পুলিশ-১ শাখা) জারি করা প্রজ্ঞাপনে আখতার উল আলমকে সিলেটের দায়িত্ব প্রদান করা হয়।
সিলেটে যোগ দেওয়ার পর সোমবার প্রথমবারের মতো সাংবাদিকদের সাাথে মতবিনিময় করেন নতুন এই পুলিশ সুপার।
এসময় সাংবাদিকরাও সিলেটের বিভিন্ন ইস্যুতে নিজেদের মতামত দেন ও পুলিশ সুপারকে প্রশ্ন করেন।
সিলেটে প্রবাসীদের নিরাপত্তা প্রসঙ্গে এসময় পুলিশ সুপার বলেন, সিলেট প্রবাসীবহুল এলাকা। আমার প্রথম প্রায়োরিটিতেই থাকবে প্রবাসী যারা আছেন, তারা একটা নির্দিষ্ট সময় দেশে আসেন পরিবারের সাথে সময় ব্যয় করতে, তারা যাতে এই সময়টা নিরপেদে থাকতে পারেন এই বিষয়টা আমরা অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখবো।
সিলেটের সীমান্ত এলাকার বিভিন্ন অপরাধ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সিলেট সীমান্তবর্তী এলাকা। এখানে ভারতের সাথে ১৮০ থেকে ১৯০ কিলোমিটার সীমান্ত রয়েছে। সীমান্তে মাদক বা চোরাচালান হয় না এটা বললে ভুল বলা হবে। অবশ্যই এসব হয়। এ ব্যাপারে কার্যকরী ব্যবস্থা নিতে হবে। চোরাচালান ও মাদক দমাতে হবে। এ ব্যাপারে আমাদের জিরো টলারেন্স থাকবে।
তিনি বলেন, সামনে নির্বাচন আছে। বাংলাদেশের ইতিহাসে্এবার বেটার নির্বাচন করার কথাি প্রধান উপদেষ্টা বলেছেন। নির্বাচন যাতে অবাধ হতে পারে, জনগন যাতে আস্থাশীল থাকে, নির্বাচনের পরিবেশ ভালো তাকে এ ব্যাপারে সবার সহযোগিতায় আমরা ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।
সড়ক দুর্ঘটনা প্রসঙ্গ তিনি বলেন, সড়ক দুর্ঘটনায় অকালেই অনেক প্রাণ ঝড়ে যায়। এ ব্যাপারে আমরা সচেতনামূলক কার্যক্রম চালাবো। চালকের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে। সচেতন হলে সড়ক দুর্ঘটপনা কমে যাবে।
তিনি বলেন, কোন সাংবাদিক যদি হয়রানি মামলার শিকার হন, তদন্তে তার অপরাধ প্রমাণ না পেলে তার নাম বাদ দেওয়া হবে।
শীতকালে সিলেটে অপরাধ প্রবণতা বাড়ে, এক সাংবাদিকের এমন মন্তব্যের প্রেক্ষিতে আখতার উল আলম বলেন, শীতকালে অপরাধ প্রবণতা বাড়ে। ডাকাতি বেড়ে যায়। এ ব্যাপারে আমরা সচেষ্ট আছি। জেলায় চেকপোস্টের পরিমাণ বাড়ানো হয়ে। ৩০টি চেকপোস্ট রয়েছে। এছাড়া ৪৬টি মোবাইল টিম মহাসড়কের লিংক রোডে টহলে আছে।
এসময় সীমান্ত হত্যা, সাংবাদিকদের নামে হয়রানিমূলক মামলা, নিরপরাধ ব্যক্তিদের পুলিশের হয়রানি, গত বছরের ৫ আগস্টের পর অনেকক্ষেত্রে পুলিশের ঘুষ বাণিজ্য বেড়ে যাওয়ার অভিযোগসহ বিভিন্ন বিষয়ে সাংবাদিকরা মতামত দেন।
সাংবাদিকদের উদ্যেশে পুলিশ সুপার বলেন, আপনারা গঠনমূলক সমালোচনা করেন। গুজব পরিহার করুন। যেকোনো প্রয়োজনে আমাদের সাথে সরাসরি যোগাযাযোগ করবেন।
Related News
সিসিক প্রশাসকের সাথে জেলা ও মহানগর জামায়াতের মতবিনিময়
Manual3 Ad Code বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, ফ্যাসিস্ট হাসিনা ও তার দোসরদের বিচারেরRead More
সিলেটের নতুন পুলিশ কমিশনার সরোয়ার মুর্শেদ শামীম
Manual1 Ad Code বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ (এসএমপি) কমিশনারসহ বাংলাদেশ পুলিশের উচ্চপর্যায়ে বড়Read More



Comments are Closed