Main Menu

সিলেটে ট্রিপল মার্ডার: সিআইডিতে মামলা হস্তান্তরের দাবি সন্তানদের

Manual4 Ad Code

বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সিলেট নগরীর রায়নগরে চাঞ্চল্যকর ট্রিপল মার্ডার মামলার তদন্ত পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগে (সিআইডি) হস্তান্তরের দাবি জানিয়েছেন নিহত আব্দুস সাত্তার ও সুরাইয়া বেগমের সন্তানরা। একই সঙ্গে মামলার তদন্ত নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও দ্রুত সম্পন্ন করারও দাবি জানিয়েছেন তারা।

হত্যাকাণ্ডের পাঁচ দিন পর সোমবার (১৭ আগস্ট) সকালে রায়নগরের মিতালী এলাকার ওই বাসায় সংবাদ সম্মেলন করে এসব দাবি জানান নিহত দম্পতির প্রবাসী সন্তানরা।

সংবাদ সম্মেলনে আব্দুস সাত্তার ও সুরাইয়া বেগমের ছেলে আরিফ ইফতেখার, মেয়ে ও মামলার বাদী সেলিনা সুলতানাসহ পরিবারের অন্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ছেলে আরিফ ইফতেখার। তিনি বলেন, ‘আমরা প্রশাসনের প্রতি আস্থা রাখতে চাই। তবে তদন্ত যেন নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ হয়। মামলাটিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত তদন্ত করা হবে বলে আমরা আশা করি।’

তিনি আরও বলেন, তদন্তের নামে কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি যেন হয়রানির শিকার না হন। একই সঙ্গে কেউ প্রভাবশালী হওয়ার কারণে যেন আইনের আওতা থেকে বেরিয়ে যেতে না পারেন, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে।

পরিবারের সদস্যরা জানান, তারা বর্তমানে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত অবস্থায় রয়েছেন। এ কারণে সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের কোনো প্রশ্নের উত্তর দেননি তারা।

সংবাদ সম্মেলনে নিহতদের সন্তানরা চারটি দাবি উপস্থাপন করেছেন, প্রথমত, তারা চান এই ত্রিমুখী হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য উদঘাটন করতে হবে। দ্বিতীয়ত, যারা এই অপরাধে জড়িত তাদের দ্রুত গ্রেফতার করতে হবে। তৃতীয়ত, তদন্ত সম্পূর্ণভাবে নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ রাখতে হবে। চতুর্থত, আইনের সর্বোচ্চ পর্যায়ে অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

নিহত সম্পতির চার সন্তান সিলেটের রাজনৈতিক, সামাজিক এবং বিভিন্ন পর্যায়ের সম্মানিত ব্যক্তিদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন যারা এই সংকটে তাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন। মন্ত্রী, জনপ্রতিনিধি, প্রশাসনের কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য এবং সাংবাদিকরা তাঁদের সমর্থন করেছেন এবং সমবেদনা জানিয়েছেন।

গত ১২ আগস্ট সকালে নগরীর রায়নগর এলাকার মিতালী ১১১ নম্বর বাসা থেকে বাড়ির মালিক আব্দুস সাত্তার (৯০), তার স্ত্রী সুরাইয়া বেগম (৭৬) এবং গৃহকর্মী তাহমিনা (১৫)-এর গলা কাটা মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

আব্দুস সাত্তার একজন ব্যবসায়ী ছিলেন। তিনি সিলেট চেম্বার অব কমার্সের সদস্য ছিলেন। পাশাপাশি ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। রায়নগরের নিজ বাসাতেই বসবাস করতেন তিনি। চার সন্তানের মধ্যে দুইজন লন্ডন ও দুইজন আমেরিকায় বসবাস করেন।

Manual5 Ad Code

ঘটনার দিন বেলা ৩টার দিকে রায়নগর রাজবাড়ি এলাকার আক্তার মিয়ার কলোনির বাসিন্দা প্রয়াত নূর মিয়ার ছেলে বাবুল মিয়াকে (৪০) আটক করে পুলিশ। পরে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানায় পুলিশ।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই বাসার গৃহকর্মী তাহমিনার সঙ্গে বাবুলের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। সেই সম্পর্কের জেরে তিনজনকে হত্যা করা হয়। পরে বাবুলের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি ছুরি উদ্ধার করা হয় বলে জানায় পুলিশ।

Manual7 Ad Code

তবে হত্যাকাণ্ডের শুরু থেকেই পুলিশের এই বক্তব্য নিয়ে আপত্তি জানিয়ে আসছে নিহত দম্পতির পরিবার। তাদের দাবি, এর পেছনে অন্য কোনো কারণ থাকতে পারে।

হত্যাকাণ্ডের তিন দিন পর শুক্রবার (১৪ আগস্ট) রাতে নিহত দম্পতির মেয়ে সেলিনা সুলতানা বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় মামলা করেন। মামলার এজাহারে জমি সংক্রান্ত পূর্ববিরোধের জেরে ভাড়াটে লোক দিয়ে তার বাবা-মা ও গৃহকর্মীকে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়।

এর মধ্যে রোববার (১৬ আগস্ট) বাবুল মিয়াকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য চার দিনের রিমান্ডে নেয় পুলিশ। এখন নিহত দম্পতির সন্তানরা মামলার তদন্ত সিআইডির কাছে হস্তান্তরের দাবি জানালেন।

Manual6 Ad Code

 

Manual4 Ad Code

 

Share





Related News

Comments are Closed

Manual1 Ad Code
Manual8 Ad Code