Main Menu

অদম্য ইসমাইল হোসেন ফ্রিল্যান্সিং ও আউটসোসিং আয় দিয়ে স্বাবলম্বী

Manual1 Ad Code

মো. সফিকুল আলম দোলন, পঞ্চগড় জেলা প্রতিনিধি: পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার চন্দনবাড়ি ইউনিয়নের তেলী পাড়া গ্রামের মোঃ আব্দুল আজিজ ও মোছাঃ রেখা বেগমের ৩য় পুত্র ইসমাইল হোসেন। জন্মের পর থেকেই ইসমাইল হোসেন এর দারিদ্রতা। আব্দুল আজিজ এর ৩ ছেলে ও ১ মেয়ে। তার পিতা মোঃ আব্দুল আজিজ একজন হত দরিদ্র মানুষ। পেশায় ফেরীওয়ালা। ইসমাইল হোসেন এর বাবা মোঃ আব্দুল আজিজ এর অতি কষ্টের সংসার।

এক সময় লেখাপড়ার খরচ যোগান দিতে না পারায় অর্থের অভাবে ইসমাইল হোসেন এর পড়াশুনা বন্ধ হওয়ার উপত্রুম হয়। বাবা আবদুল আজিজ ভ্যান চালিয়ে ও মা মানুষের বাড়িতে ও কৃষিকাজে দিনমজুরী দিয়ে কোন মতেই তার ৩ ভাই ও ১ বোনকে নিয়ে অতি কষ্টে দিন যাপন করতো । তার বাবা ও মা’ এর আয় দিয়ে কোন মতে পেটের খোরাকটা জোগাড় করতে পারলেও মাঝে মাঝে বেকার ও আয় না থাকলে তাদের এলাকার বিত্তবানদের কাছে ধারদেনা বা আগাম মজুরের টাকা নিয়ে সংসার চালাতো। এতে লেখাপড়ার টাকা জোগাড় করতে না পারায় তার দুই ভাই লেখাপড়া শেষ করতে না পেরে ভ্যান চালকের দায়িত্ব নিয়ে সংসারের হাল ধরেছে।

Manual1 Ad Code

কিন্তু ইসমাইল হোসেন ছোটবেলা থেকে পড়াশুনার প্রতি গভীর মনোযাগ থাকায় ক্লাশের ফাঁকে ফাঁকে বাবার ভ্যানটি সে চালাতো ও সে টাকা দিয়ে বাবাকে সাহায্য করতো, লেখাপড়ার বিভিন্ন খরচ যোগান দিতো। ইসমাইল হোসেন রিক্সা চালিয়ে ও দিন মজুর খেটে পরবর্তীতে এলাকার বিত্তবানদের সাহায্য সহযোগীতা নিয়ে এসএসসি পাশ করে। দারিদ্রতায় জর্জরিত সংসারে অতি কষ্টে জীবিকা নির্বাহ করলেও ইসমাইল হোসেন এলাকার বিত্তবানদের আর্থিক সহায়তায় ঠাকুরগাঁও সরকারি পলিটেকনিক্যাল কলেজে আর্কিটেকচার বিষয়ে ডিপ্লোমা কোর্সে ভর্তি হয় ও চতুর্থ বর্ষে অধ্যয়নরত। তার পিতা অর্থের যোগান দিতে না পারায় আবার ভবিষ্যত অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। দারিদ্র্য এর কষাঘাতে মাঝে মাঝে অনাহারে-অর্ধাহারে তাঁদের দিন কাটতে থাকে। কিছু করার ইচ্ছা থাকা সত্তে¡ও অর্থের অভাবে সুবিধামতো কিছু করতে পারেনি ইসমাইল হোসেন। মাঝে হোটেলেও ওয়েটারের কাজ করে পড়াশুনা চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে এভাবে সে অতি কষ্টে লেখাপড়াটা কোন মতে চালিয়ে আসছে। বাবা টাকা যোগাড় করতে না পারায় একসময় বাবার ভ্যানটি সে নিজে চালায় ও বাবা আব্দুল আজিজ ফেরিওয়ালা পেশা গ্রহণ করে।

Manual1 Ad Code

ইতোমধ্যে স্থানীয় এনজিও “সূচনা সমাজ উন্নয়ন সংস্থা (এসএসইউএস)” বাংলাদেশ এনজিও ফাউন্ডেশনের অর্থায়নে বিনামূল্যে ০৩ মাসব্যাপী ‘আউটসোর্সিং ও ফ্রিল্যান্সিং (আইসিটি) প্রশিক্ষণ এর আওতায় ডিজিটাল মার্কেটিং বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিচ্ছে জেনে অংশগ্রহণের জন্য সে সংস্থার কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ করে বিনামূল্যে ‘আউটসোর্সিং ও ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণে ডিজিটাল মার্কেটিং বিষয়ে প্রশিক্ষণ কোর্সে ভর্তি হয়ে প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করে। বাংলাদেশ এনজিও ফাউন্ডেশনের অর্থায়নে “সূচনা সমাজ উন্নয়ন সংস্থা (এসএসইউএস)” কর্তৃক বাস্তবায়িত ‘আউটসোর্সিং ও ফ্রিল্যান্সিং (আইসিটি) প্রশিক্ষণ’ বিষয়ে বিনামূল্যে ৩ (তিন) মাসব্যাপী ডিজিটাল মার্কেটিং বিষয়ে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে বেশ পারদর্শী হয়ে উঠে সে। সে ডিজিটাল মার্কেটিং বিষয়ে প্রশিক্ষণলব্ধ জ্ঞান কাজে লাগিয়ে ফিল্যান্সিং কাজের সন্ধান করতে থাকে। অবশেষে সে সাফল্যের মুখ দেখে । প্রথম দিকে মাইক্রো আনিং সাইটে ওয়ার্ক আপ জব এ ডাটা এন্ট্রির কাজ করে, দৈনিক ৫০০ টাকা আয় শুরু করে এখন পর্যায় ক্রমে দৈনিক দেশী ও বিদেশী মার্কেটপ্লেসে কাজ দিয়ে দৈনিক ৫০০-৮০০ টাকা আয় করছে। এখন সে সূচনা সমাজ উন্নয়ন সংস্থার আইসিটি প্রশিক্ষণ সেন্টারে প্রশিক্ষক পুল এর সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। দারিদ্রতা ও অর্থকষ্ট কমে যাওয়ায় অদম্য তরুণ ইসমাইল হোসেন তার মতো যেন অর্থকষ্টে কেউ লেখাপড়া থেকে ঝরে না পরে এই উপলব্ধি থেকে সে নিজেই উদোক্তা হয়ে অনেকের বেকারত্ব ঘোচাবে এই স্বপ্ন দেখে।

Manual8 Ad Code

Share





Related News

Comments are Closed

Manual1 Ad Code
Manual8 Ad Code