Main Menu

মিয়ানমারে সমাবেশে প্যারাগ্লাইডার হামলায় নিহত ৪০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মিয়ানমারে জান্তা সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ সমাবেশের সময় মোটরচালিত প্যারাগ্লাইডার থেকে ভিড়ের ওপর বোমা হামলায় অন্তত ৪০ জন নিহত ও ৮০ জন আহত হয়েছেন।

নির্বাসিত সরকারের একজন মুখপাত্র এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

গত সোমবার (৬ অক্টোবর) সন্ধ্যায় মধ্যাঞ্চলীয় চাউং ইউ শহরে জাতীয় ছুটির দিনে প্রায় ১০০ মানুষ জড়ো হলে সামরিক বাহিনী এই হামলা চালায়। হামলার সময় প্রতিবাদকারীরা মোমবাতি প্রজ্বালন করে জান্তা বাহিনীতে বাধ্যতামূলক যোগদান এবং আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ জানাচ্ছিল।

এছাড়া তারা অং সান সু চিসহ রাজনৈতিক বন্দীদের মুক্তির দাবিও জানাচ্ছিল।

স্থানীয় পিপলস ডিফেন্স ফোর্স (পিডিএফ)-এর একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, তারা আগেই সম্ভাব্য হামলার তথ্য পেয়েছিলেন এবং দ্রুত সমাবেশ শেষ করার চেষ্টা করছিলেন। কিন্তু প্যারামোটরগুলো প্রত্যাশার চেয়ে আগেই ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায়। পুরো ঘটনাটি মাত্র সাত মিনিটের মধ্যে ঘটে গেছে। বিস্ফোরণে অনেকেই আহত হন, কেউ কেউ নিহত হন।

স্থানীয়দের মতে, হামলার পর মৃতদেহ শনাক্ত করা কঠিন ছিল।

এক অনুষ্ঠানের আয়োজক নারী জানান, নিহতদের মধ্যে শিশুর দেহও ছিন্নভিন্ন অবস্থায় ছিল।

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এই হামলাকে ‘উদ্বেগজনক’ বলে বর্ণনা করেছে।

সংগঠনের মিয়ানমারবিষয়ক গবেষক জো ফ্রিম্যান বলেছেন, এ হামলা একটি ভয়াবহ সতর্কবার্তা হিসেবে বিবেচনা করা উচিত এবং মিয়ানমারের বেসামরিক নাগরিকদের জরুরি সুরক্ষা প্রয়োজন। তিনি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক জোট আসিয়ানকে জান্তা সরকারের ওপর চাপ বাড়াতে আহ্বান জানান।

সেনাবাহিনী ২০২১ সালের অভ্যুত্থানের পর ক্ষমতা দখল করে দেশজুড়ে বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর সঙ্গে সংঘাত শুরু করে। দেশটির অর্ধেকের বেশি অঞ্চল এখন বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। বিমান ও হেলিকপ্টারের অভাবে জান্তা বাহিনী ক্রমবর্ধমানভাবে প্যারামোটর ব্যবহার করছে। তবে চীন ও রাশিয়ার সরবরাহকৃত উন্নত সামরিক প্রযুক্তি জান্তাকে যুদ্ধক্ষেত্রে নতুন সুবিধা দিয়েছে।

মিয়ানমারে ডিসেম্বরে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

তবে সমালোচকেরা বলছেন, এটি অবাধ ও সুষ্ঠু হবে না, বরং সেনাবাহিনীকে দেশে ক্ষমতা প্রয়োগের সুযোগ করে দেবে।

Share





Related News

Comments are Closed