ছাতকে পরিত্যক্ত রোপওয়ের কোটি টাকার যন্ত্রপাতি লুটপাট ও পাথর চুরি!
ছাতক প্রতিনিধিঃ দেশের একমাত্র রজ্জুপথ ছাতক-ভোলাগঞ্জের রোপওয়ে। দীর্ঘদিন যাবৎ অবহেলা আর অযত্নে নষ্ট হচ্ছে সরকারের হাজার কোটি টাকার মুল্যবান প্রাকৃতিক সম্পদ ও বড় বড় বোল্ডার পাথর লুটপাটের ঘটনায় রেলওয়ে বিভাগের কর্তৃপক্ষের নিরবতা জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
ছাতক-ভোলাগঞ্জে লুটপাটে আলোচিত সাদা পাথর পর্যটন স্পটের এখন ব্যাপক পরিচিতি। তখন পরিচিতি কেবল বাংলাদেশ—ভারত সীমানার সুবিশাল পাহাড় পাদদেশের ভোলাগঞ্জ রজ্জুপথ। বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ পাথর মহাল (পাথর কোয়ারি) ভোলাগঞ্জের ওপারে ভারতেও রয়েছে আরেকটি ভোলাগঞ্জ। দুই দেশে দুই ভোলাগঞ্জে একই কারবার, পাথরের। পাথর ব্যবসার কেন্দ্রস্থল ছিল এপার—ওপারের পুরো এলাকাজুড়েই। সেই সু খ্যাতিতে ব্রিটিশ পরিকল্পনায় নির্মাণ করেন রেলওয়ের রোপওয়ে (রজ্জুপথ)।
বাংলাদেশের একমাত্র রোপলাইন দেখতে তখন পর্যটকরা ছাতকে আসতেন। সিলেটের ভোলাগঞ্জ থেকে সুনামগঞ্জের ছাতক পর্যন্ত হাওর—নদীপথের ওপর দিয়ে রোপলাইনে চলাচলও তখন দর্শনীয় ছিল প্রচুর। গত ২০০৯ সাল পর্যন্ত রোপলাইন চালু ছিল।
এরপর আর কখনো চলাচল করেনি। রোপলাইনের সংরক্ষিত স্থানটি ছাতক ভোলাগঞ্জে পড়েছে। ‘বাঙ্কার’ নামের এ জায়গার অবস্থান সাদা পাথর পর্যটন স্পট ও ধলাই নদ অববাহিকায়। রোপওয়ে বাঙ্কার খুঁড়ে অবৈধভাবে পাথর উত্তোলন শুরু হয় সেই ২০০৯ সালে সাবেক আওয়ামী লীগ ক্ষমতাসীন হওয়ার পর পরই। আওয়ামী লীগের দাপটে তখন পুরো এলাকার নিয়ন্ত্রণ নেয় কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হাজি শামীম আহমদ। ছাতকে ১৬ বছর ধরে রজ্জুপথটি বন্ধ থাকা নিয়ে বাংলাদেশ রেলওয়ে ছাতক ও সিলেট অফিসে একাধিক কর্মকতার্দের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তারা রেলওয়ে জায়গা খুড়ে পাথর উত্তোলন ও সাদা পাথর লুটপাটের ঘটনায় কেউ বক্তব্য দিতে রাজি হচ্ছে না । অযত্ন-অবহেলায় নষ্ট হচ্ছে রেলওয়ে বিভাগের সরকারি হাজার হাজার কোটি টাকার পাথর কোয়ারীর মুল্যবান মালামাল, মাটি খুড়ে সাদা পাথর উত্তোলন ও দিন রাতে চুরি হয়ে আজ বিরান ভুমিতে পরিনত হচ্ছে। ৩৫৯ একর ভুমি জায়গা নিয়ে ছাতক ভোলাগঞ্জ রোপওয়ে প্রকল্পটি ব্রিটিশ সরকার চালু করেছিল।
ভোলাগঞ্জে রেলওয়ের জায়গা থেকে কোটি কোটি টাকার পাথর চুরি ও লুটপাটের ঘটনায় রেলওয়ের কর্তৃপক্ষ ভোলাগঞ্জ রেলওয়ে বাংকার এলাকায় পাথর চুরির ঘটনায় রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর (আরএনবি) চার সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করে দায় দায়িত্ব শেষ হয়। রেলওয়ের ভোলাগঞ্জে সেই সঙ্গে পাথর চুরির ঘটনায় জড়িতদের শনাক্তকরণ ও তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে দুই সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।
গত ২৭ জানুয়ারি ২৪ সালে আরএনবি কমান্ডার (সদর) রোকনুজ্জামান খান সই করা আদেশে এ বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। বরখাস্তরা হলেন- এসআই মো. মঞ্জুরুল ইসলাম, এএসআই শাহাদাত হোসেন, হাবিলদার মো. কাজী শাহাদাত হোসাইন ও মো. আব্দুল হাই। তারা সবাই ভোলাগঞ্জ পাথর কোয়ারি বাংকার এলাকায় কর্মরত ছিলেন। সাময়িক বরখাস্তকালীন তারা প্রচলিত বিধি মোতাবেক খোরাকি ভাতাসহ সকল সুযোগ-সুবিধা ভোগ করবে এবং প্রতিদিন ঢাকার কমান্ড্যান্ট দপ্তরে হাজিরা দিতে হবে। এক টানা ১৬ বছর চলা সেই দাপটের অবসান হয় ২০২৪—সালের ৫ আগস্ট। আওয়ামী লীগের পতনে হাজি শামীমের আধিপত্যের অবসানের সুযোগে ৫ আগস্ট রাতেই রোপওয়ে বাঙ্কার এলাকার নিয়ন্ত্রণ নেন পাথর আমদানি ব্যবসার সঙ্গে জড়িত সাবেক বিএনপি নেতা হাজি সাহাব উদ্দিন। তিনি কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি ছিলেন। পাথর লুটপাটের অভিযোগে তাকে সদ্য অব্যাহতি দিয়েছে কেন্দ্রীয় বিএনপি।
১৯৬৪ সালে ভোলাগঞ্জ থেকে ছাতকে রজ্জুপথ স্থাপন করা হয়। ১১৯টি খুঁটির মাধ্যমে তৈরি হয় রোপলাইন। এর মধ্যে আছে ভোলাগঞ্জ লোডিং স্টেশন (বাঙ্কার) ও ছাতক পৌর শহরের খালাস স্টেশন। বাঙ্কারের ৩৫৯ একর জমি, অবকাঠামোসহ রেলের স্থাপনা, যন্ত্রপাতি দেখভাল করতে ২০০০ সাল থেকে আনসার বাহিনীকে দায়িত্বে নিয়োগ করেন রেল বিভাগ। তবে আনসার সদস্যদের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে পাথর উত্তোলন ও বিক্রির অভিযোগ ওঠে। ২০১২ সালে রেল মন্ত্রণালয়ের দুর্নীতিবাজ সচিব ও মহা পরিচালক ও সিলেটের দুর্নীতিবাজ কর্মকতাদের নির্দেশে আনসার বাহিনীকে রহস্যজনক কারনে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। দায়িত্ব নেয় রেলওয়ের নিজস্ব নিরাপত্তা বাহিনী আরএনবি। একজন পরিদর্শক ও দুজন উপপরিদর্শকের নেতৃত্বে ৪৮ সদস্যের আরএনবি দল সার্বক্ষণিক অবস্থান করে পাহারায় নিয়োজিত হয়।
এদের নেতৃত্বে প্রতিরাতে চলতো লুটপাট ও চুরি। গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ৬ আগস্ট রাতে ছাতকে দুনীতিবাজ উপ সহকারি কর্মকর্তা আব্দুল নুরসহ বাঙ্কারের পাহারার দায়িত্বে থাকা আরএনবি সদস্যদের ওপর দুর্বৃত্তরা হামলার চেষ্টা করে। আরএনবি সদস্যদের মারধর করে তাদের মোবাইল ফোন, অর্থ ও অস্ত্র ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। ৭ আগস্ট বাঙ্কার থেকে আরএনবি সদস্যদের প্রত্যাহার করা হয়।
এই সুযোগে রোপওয়ের গুরুত্বপূর্ণ মালামাল লুটপাট হয়। কাটা হয় বড় বড় গাছও। আরএনবি সদস্যরা চলে যাওয়ার পর থেকে সেখান থেকে নানা মাটি খুড়ে কৌশলে সাদা পাথর তোলা চলে অবাধে। রোপওয়ের সংরক্ষিত বাঙ্কারের ঠিক পেছনে যে বিস্তৃত এলাকায় পাথরের স্তূপ জমা ছিল সে এলাকা এখন প্রায় পাথর শূন্য চিত্র।
দুষ্কৃতিকারীরা সংরক্ষিত এলাকার আবাসন কক্ষ ও স্টোর রুমের তালা ভেঙে গুরুত্বপূর্ণ লোহার সামগ্রী মালামাল লুটপাট করে নিয়ে গেছে। এছাড়া বাঙ্কারের মসজিদের মাইক, ব্যাটারি, ফ্যানসহ সব ধরনের মালামাল লুটপাট হয়ে গেছে।
এর মধ্যে রোপওয়ে বাঙ্কারের যে ধ্বংসলীলা দেখেছি, তাতে ঐতিহ্য ভূলুণ্ঠিত প্রায়। রোপওয়ে এখন রূপকথা হয়ে গেছে।’ রোপওয়ের উত্তরদিক পুরোটা সাদা পাথর। এটি প্রাকৃতিকভাবে সৃষ্ট একটি পর্যটনকেন্দ্র। ২০১৭ সালে পাহাড়ি ঢলে সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ভোলাগঞ্জ পাথর মহালের ধলাই নদের উৎসমুখে পাঁচ একর জায়গাজুড়ে জমা হয় পাথর। ঢলের তোড়ে সেখানে এর আগে ১৯৯০ সালে একবার পাথর জমা হয়েছিল। সেসব পাথরকে ‘ধলাসোনা’ বলে অভিহিত করা হয। তবে লুটপাটে সেসব পাথরও নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়। গত ২৭ বছরের মাথায় ফের পাথর জমা হওয়ায় উপজেলা প্রশাসন ও থানা পুলিশ স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের পাহারায় সেসব সংরক্ষিত হয়। ওই বছর থেকে পুরো এলাকাটি প্রাকৃতিক পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে পরিচিতি পায়। ওপারে ভারতের মেঘালয় রাজ্যের পাহাড়ি অঞ্চল লুংলংপুঞ্জি ও শিলংয়ের চেরাপুঞ্জি। সেখানকার ঝরনা থেকে সারা বছর নদের পানি প্রবাহমান থাকে। বৃষ্টিবহুল চেরাপুঞ্জির পাদদেশ থেকে বর্ষায় ঢলের পানির সঙ্গে পাহাড় থেকে পাথরখণ্ড এপারে নেমে আসে। ভেসে আসা এই পাথর উত্তোলিত বা আমদানি করা পাথরের চেয়ে দামি। এসব রেলওয়ের জায়গা থেকে পাথর লুটপাটের মাস্টার মাইন্ড ছিলেন সহকারী নির্বাহী প্রকৌশলী (ছাতক বাজার) জুবায়ের আহমদ, উপ- সহকারী প্রকৌশলী আব্দুল নূরসহ একাধিক কর্মকর্তা ও আনসার বাহিনীর নেতৃত্বে লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে বলে নানা গুঞ্জন উঠেছে। অবস্থায় কবে এটা চালু হবে, তাও নিশ্চিত করে কেউ বলতে পারছেন না । এখানে পাথর চুরি ও লুটপাটের টাকার ভাগের অংশ রেল মন্ত্রনালয় সচিব পর্যন্ত পৌছিয়ে দেয়া হতো বলে নাম প্রকাশ না করায় শর্তে স্বীকার করেছেন এক জনৈক কর্মকর্তা।
জানা যায়, ২০১৩ সালের ৩১ ডিসেম্বর থেকে লাভজনক এ রজ্জুপথটি রেলওয়ের কতৃপক্ষ বন্ধ করে দেয়। ১৯ কিলোমিটার দীর্ঘ এ রোপওয়ের ট্রেসেল (খুঁটি) সংখ্যা ১২০টি। প্রাকৃতিক দুযোগের কারনে ইতিমধ্যে ৫টি ট্রেসেল নদীতে পড়ে গেছে এবং ৮টি ট্রেসেল হেলে আছে। দুস্কৃতিকারিরা রাতের আধারে বিভিন্ন কৌশলে রোপওয়ের তামার তার, বাকেট, ট্রেসেল ও লৌহা জাতীয় সরঞ্জাম প্রতিরাতেই চুরি হচ্ছে। এসব দেখার কেউ নেই। স্টেশন চারটি (ছাতক, অ্যাংগেল এক, অ্যাংগেল দুই ও ভোলাগঞ্জ)। বাকেট সংখ্যা ৪২৫টি। ২০১৩ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত চালু ছিল ২৪৬টি বাকেট। প্রতি বাকেটের ধারণক্ষমতা ১২.৯২ ঘন ফুট (৬০০ কেজি)। রোপওয়েটির বার্ষিক পাথর পরিবহন ক্ষমতা ছিল প্রায় ১২ লাখ ঘন ফুট। বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর অযত্নে-অবহেলায় বিভিন্ন স্থানে রোপওয়ের কিছু ট্রেসেল হেলে পড়েছে। তার ছিঁড়ে একাধিক বাকেটও মাটিতে পড়ে অাছে। ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বর মাসে এ প্রকল্পটি চালুর জন্য কর্তৃপক্ষ টেন্ডার আহবান করে। দেশের রেলওয়ের আওতাধীন ছাতক-ভোলাগঞ্জ রোপওয়ে কর্তৃপক্ষের চরম উদাসীনতা ও অবহেলায় দীর্ঘ ১২ বছর ধরেই অকেজো অবস্থায় পড়ে আছে।
আনসার বাহিনীর সঙ্গে আতাত করে প্রতিদিন গভীর রাতের আঁধারে লাখ লাখ ফুট বোন্ডার পাথর চুরির কারণে এটি বিরাণ ভূমিতে পরিণত হচ্ছে।
প্রসঙ্গত, ভারতের খাসিয়া জৈন্তিয়া পাহাড় থেকে নেমে আসা ধলাই নদীর সাথে প্রতি বছর বর্ষাকালে নেমে আসে প্রচুর পাথর। ধলাই নদীর তলদেশেও রয়েছে পাথরের বিপুল মজুত। এই পাথর দিয়ে ৫০ বছর চালানো যাবে- এই হিসাব ধরে ১৯৬৪-১৯৬৯ সাল পর্যন্ত সময়কালে সোয়া ২ কোটি টাকা ব্যয়ে ছাতক-ভোলাগঞ্জ রোপওয়ে প্রকল্পটি স্থাপন করা হয।
ব্রিটিশ রোপওয়ে ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করে। প্রকল্পের আওতায় ভোলাগঞ্জ থেকে ছাতক পর্যন্ত সোয়া ১১ মাইল দীর্ঘ রোপওয়ের জন্য নির্মাণ করা হয় ১২০টি টাওয়ার এক্সক্যাভেশন প্ল্যান্ট। মধ্যখানে চারটি সাব স্টেশন-যেগুলো স্থানীয়ভাবে ‘এঙ্গেল’ নামে পরিচিত। দুই প্রান্তে ডিজেলচালিত দুটি ইলেকট্রিক পাওয়ার হাউস, ভোলাগঞ্জে রেলওয়ে কলোনী, স্কুল, মসজিদ ও রেস্ট হাউস নির্মাণও প্রকল্পের আওতাভুক্ত ছিল। একাত্তরের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্ত রোপওয়েটিকে পুনরায় সংস্থার করা হয়। এক্সক্যাভেশন প্ল্যান্টের সাহায্যে ১৯৯৪ সাল পর্যন্ত স্বয়ংক্রিয়ভাবে পাথর উত্তোলন করা হলেও বর্তমানে এ পদ্ধতিতে পাথর উত্তোলন বন্ধ রয়েছে। এলাকাটি দেখতে অনেকটা -দ্বীপের মতো। ভারতের ওমঘাট নদী বাংলাদেশে ধলাই নামে প্রবেশ করে দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে প্ল্যান্টের চারপাশ ঘুরে আবার একীভূত হয়েছে। কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা সদরের কাছে ধলাই নদী মিলিত হয়েছে- পিয়াইন নদীর সাথে। যে কারণে এ স্থাপনাটি পর্যটকদের কাছেও আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে।
ছাতক উপজেলার কালারুকা ইউপির মুক্তিগাও গ্রামের সাবেক মেম্বার জাপার নেতা প্রয়াত নুরুল হক বাদী হয়ে রেল কর্তৃপক্ষ বরাবরে ইজারা না দেয়ার জন্য লিখিতভাবে অভিযোগ দায়ের করেন । স্থানীয়রা জানান, সর্বনিম্ন ২০ ফুট থেকে ১৬৭ ফুট উচ্চতা সম্পন্ন ট্রেসেলের ১৯ কিলোমিটার দীর্ঘ ক্যাবল কারে নদী, টিলা ও হাওরের ওপর দিয়ে সাদা পাথর ভ্রমণ ও মেঘালয়ের নীল পাহাড়ের অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য অবলোকন করা যাবে। তারা বলেন, ভোলাগঞ্জ রোপওয়ে সাদা পাথর ও ভোলাগঞ্জ বর্ডার হাটের একেবারে পাশে অবস্থিত। এর ফলে সুনামগঞ্জ-ছাতকসহ দেশ-বিদেশি পর্যটকদের সাদাপাথর ঘুরে দেখার আগ্রহ সৃষ্টি হবে। শিল্পনগরী ছাতকের ব্যবসায়ীরাও সহজে ভোলাগঞ্জে যাতায়াত করতে পারবেন। এর মাধ্যমে সরকার বিপুল রাজস্ব আয় করতে পারবে।
গত ১৬ অক্টোবর ২০২২ সালে চট্রগ্রাম পুর্ব অঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলীর বাংলাদেশ রেলওয়ে বিভাগের ছাতক রেলওয়ে অফিস থেকে ছাতক থেকে ভোলাগঞ্জ রোপওয়ে পযন্ত পরিবহনে ব্যবহৃত রোপওয়ে যন্ত্রপাতি রক্ষনাবেক্ষন করা সম্ভব হচ্ছে না বলে কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানানো হয়।এ ছাড়া ভোলাগঞ্জ ব্যাংকার ও রেস্টহাউজ সহ বড় মেশিনারীসহ এলাকার ২৫জন কমচারি আর এনবি সদস্যদের মধ্যে কর্মরত রয়েছেন।
এব্যাপারে সেই সময়ে ইউপি চেয়ারম্যানের দায়িত্বে থাকা শাহ মোহাম্মদ জামাল উদ্দিন দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, ‘১৭টি স্তরে পাথর সংরক্ষিত আছে। চাইলে কিন্তু তখন এক রাতে এক কোটি টাকার পাথর বিক্রি করা যেত। সরকারি সম্পদ সংরক্ষণে সেই সময় অনেক কাঠখড় পোহাতে হয়েছে। কিন্তু এখন চোখের সামনে লুটপাট দেখে চিৎকার করে কাঁদতে ইচ্ছে করছে।
এসব চুরি ও লুটপাটের ব্যাপারে জানতে চট্রগ্রাম অঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী আবু জাফর এর সঙ্গে একাধিক বার তার ব্যক্তিগত নম্বারে কল করলে কেউ রিসিভ করেননি।
Related News
৫০০ টাকার জন্য বিষ খাইয়ে খুন, অভিযুক্ত গ্রেপ্তার
Manual7 Ad Code বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে পাঁচশ টাকার পাওনা নিয়ে বিরোধের জেরে জয়Read More
শান্তিগঞ্জ প্রেসক্লাবের নতুন ভবনের অনানুষ্ঠানিক উদ্বোধন
Manual8 Ad Code সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি: দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর গণমাধ্যমকর্মীদের অংশগ্রহণে সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ প্রেসক্লাবের নিজস্ব ভবনেরRead More



Comments are Closed